ছুটির বিকেলে আড্ডায় ডুব

বিজ্ঞাপন
default-image

পঞ্জিকার পাতায় এখন মধ্য অগ্রহায়ণ। দুপুর গড়িয়ে বিকেল নামতে না নামতেই সন্ধে হাজির। বাতাসে হিমেল গন্ধ জানান দিচ্ছে শীতের আগমনবার্তার। ঋতুর এই পালাবদলের বাঁকে তাপমাত্রা নামতে থাকার পাশাপাশি বাড়ছে আড্ডার উষ্ণতা। সেই সঙ্গে সেগুনবাগিচায় শিল্পকলা একাডেমির উন্মুক্ত প্রাঙ্গণেও বাড়ছে আড্ডাপ্রেমী মানুষের সংখ্যা।

এমনিতে একাডেমির জাতীয় নাট্যশালা, সংগীত ও নৃত্যশালা মিলনায়ত কিংবা চিত্রশালার গ্যালারিগুলোতে বছরভর নানা আয়োজন চলে। তবে শীত মৌসুমে এর ব্যাপ্তি থাকে বেশি। এসব আয়োজনকে কেন্দ্র করে আসা লোকজনের পাশাপাশি একাডেমির পরিসরে অনেকে সপরিবার বা সবান্ধব আসেন নিছক সময় কাটাতে কিংবা আড্ডাবাজির জন্য। মিলনায়তন, মহড়াকক্ষ ও গ্যালারির বাইরে তাঁরা বসে পড়েন নন্দন মঞ্চ–সংলগ্ন উন্মুক্ত মাঠটিতে।

গতকাল শুক্রবার বিকেলে নন্দনমঞ্চে চলছিল গ্রুপ থিয়েটার দিবসের অনুষ্ঠান। বিকেল চারটা থেকে পাঁচটা পর্যন্ত তাই মঞ্চকেন্দ্রিক ভিড়টাই বেশি ছিল। ওদিকে জাতীয় নাট্যশালায় তখন চলছে নাগরিক নাট্য সম্প্রদায়ের উদ্যোগে নাট্যোৎসব আয়োজনের তোড়জোড়। এর মধ্যেই দেখা গেল, গোল হয়ে মাঠের এখানে–ওখানে বসে পড়েছেন অনেকে। গল্পে গল্পে কাটিয়ে দিচ্ছেন স্বল্পায়ু বিকেলের সময়টা।

এদিন এই প্রাঙ্গণে হাজির হয়েছিলেন বরিশালের বাকেরগঞ্জের বি কে বি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের একদল সাবেক শিক্ষার্থী। তাঁরা সবাই এখন ঢাকার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। শুক্রবার কিংবা ছুটির বিকেলগুলোতে এক হন এখানে। তাঁদের মধ্যে লুৎফর রহমান নামের একজন বলেন, ‘এমনিতে আমাদের শুক্রবারের আড্ডায় ১০ থেকে ১২ জনের বেশি লোক হয় না। কিন্তু আজ এসেছে ২০ জনের বেশি। জায়গাটা সুন্দর। আশপাশের পরিবেশ ভালো। সব সময় কোনো–না–কোনো অনুষ্ঠান থাকে। সবকিছু মিলিয়ে ভালো লাগে।’

মাঠের উত্তর দিকে আরেকটি আড্ডায় কথা হলো বাংলাদেশ রাইটার্স ইউনিয়ন নামের একটা সংগঠনের কয়েকজন সদস্যের সঙ্গে। প্রায় প্রতি শুক্রবার বিকেলে তাঁরাও এখানে হাজির হন। বসে যায় ছড়া ও কবিতাপাঠের আসর। চলে শিল্প–সাহিত্যকেন্দ্রিক আলোচনা। তাঁদের মধ্যে মতিন বাঙালি নামের এক লেখক জানান, এখানে এটা তাঁদের ১১২তম আসর।

এদিকে আরেকটি আড্ডায় কথা হয় জুরাইন থেকে আসা ছয় কিশোর–কিশোরীর সঙ্গে। তারা জানায়, জায়গাটিতে তারা প্রথমবারের মতো এসেছে। একাডেমি প্রাঙ্গণে ঢোকার আগে তারা বাইরে চটপটি, পিঠা খেয়েছে। এখন ভেতরে খানিকক্ষণ সময় কাটিয়ে চলে যাবে।

জাহিদুল ইসলাম নামের এক ব্যাংক কর্মকর্তাও এখানে নিয়মিত আসেন তাঁর দুই শিশুপুত্রকে নিয়ে। বলেন, ‘এখানে এলে বাচ্চারা কিছুটা সময় খেলার সুযোগ পায়। চাইলে ওদের নিয়ে একটা প্রদর্শনী কিংবা নাটক দেখে ফেলা যায়। আর শীতের সময় মাঠটা তো অনেকটা মেলার মতো হয়ে যায়। মানুষ বেশি থাকে। বাচ্চারাও আনন্দ পায়।’

মাঠের ভেতরে ফেরি করে চা বিক্রি করছিলেন জোনাব আলী নামের এক বৃদ্ধ। তিনি বলেন, ‘শীত এলে মাঠে মানুষ বাড়ে, বিক্রিও ভালো হয়।’

এদিকে প্রাঙ্গণের বাইরে মৎস্য ভবন–সংলগ্ন সড়কে দেখা গেল, চা–চটপটি ও মুড়ি মাখার অস্থায়ী ও ভ্রাম্যমাণ দোকানগুলোর পাশাপাশি সেখানে বেড়েছে ভাপা পিঠার অস্থায়ী দোকানের সংখ্যা। বোঝা গেল শীতকে কেন্দ্র করেই এই আয়োজন।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0
বিজ্ঞাপন