বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বলছে, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে না জানিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের খেলার মাঠে কাজ শুরু করেছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন।

১৯৮৪ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি শিক্ষার্থীদের খেলাধুলার জন্য নিজস্ব কোনো মাঠ না থাকায় ধূপখোলা খেলার মাঠটি তিন ভাগ করে এক ভাগ তৎকালীন সরকারি জগন্নাথ কলেজকে ব্যবহার করার জন্য মৌখিকভাবে অনুমতি দেন। তখন থেকেই প্রতিষ্ঠানটি খেলার মাঠ হিসেবে ধূপখোলা মাঠটিকে ব্যবহার করছে। এই মাঠেই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

জানা যায়, ২০১৬ সালের মার্চে ডিএসসিসির বিভিন্ন অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পে ১ হাজার ২০০ কোটি টাকার বরাদ্দ দেয় জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। এর মধ্যে ধূপখোলা মাঠে একটি বাণিজ্যিক শিশুপার্ক নির্মাণে ২০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। এ বিষয়ে প্রথম আলোতে ‘ধূপখোলা মাঠে বাণিজ্যিক শিশুপার্ক তৈরির উদ্যোগ!’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন ছাপা হয়। প্রতিবেদন প্রকাশের পর বাণিজ্যিক পার্ক নির্মাণের প্রতিবাদে সভা-সমাবেশ ও মানববন্ধন করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। বাধ্য হয়ে গণশুনানির আয়োজন করে ডিএসসিসি। তাতে মহল্লার লোকজন ধূপখোলা মাঠ রক্ষার পক্ষে অবস্থান নেন। পরে বাণিজ্যিক শিশুপার্ক নির্মাণের পরিকল্পনা থেকে সরে আসে ডিএসসিসি। নতুন পরিকল্পনায় বরাদ্দের ওই টাকা দিয়েই মাঠ সংস্কার, শিশু কর্নার ও মার্কেট নির্মাণ করা হবে বলে তৎকালীন ডিএসসিসির প্রকৌশল বিভাগের একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছিলেন।

আজ সকালে পুরান ধূপখোলা খেলার মাঠে গিয়ে দেখা যায়, মূলত মাঠটি তিনটি অংশে বিভক্ত, যার অর্ধেক অংশ ইস্ট অ্যান্ড ক্লাবের নিয়ন্ত্রণে এবং বাকি অংশ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ও সিটি করপোরেশনের নিয়ন্ত্রণে।

বিশ্ববিদ্যালয়ে খেলার মাঠের বিভিন্ন অংশে খুঁটি গেড়ে মার্কেট নির্মাণের জন্য সীমানা নির্ধারণ করে দিয়েছে সিটি করপোরেশনের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। এ ছাড়া ওই ক্লাবের পাশে ওয়াসার পাম্পসংলগ্ন স্থানে প্রকল্প পরিচালনার জন্য অস্থায়ী স্থাপনা নির্মাণ করছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।

প্রকল্পটির পরিচালক আবুল হাশেম বলেন, বর্তমানে মাঠের চতুর্দিক ঘিরে যে দোকানগুলো ছড়িয়ে রয়েছে, সেগুলোকে শৃঙ্খল করে এক জায়গায় নিয়ে আসা হবে।মাঠের পশ্চিম পাশের জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ও সিটি করপোরেশন অংশে একটি ছয়তলা ভবন নির্মাণ করা হবে। সেখানে পার্কিং, ফুড কোর্টসহ বর্তমানে যাঁদের দোকান আছে, তাঁদের বরাদ্দ দেওয়া হবে। এ ছাড়া সম্পূর্ণ মাটি ডেভেলপ করে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়কে একটি অংশ ব্যবহার করার জন্য দেওয়া হবে।’ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান মাঠের আয়তন ঠিক থাকবে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘একটি স্ট্যান্ডার্ড আয়তনের মাঠ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় পাবে।’

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ইমদাদুল হক বলেন, ‘আগামী সপ্তাহের মধ্যে আমরা সিটি মেয়রের সঙ্গে আলোচনা করে বিষয়টি সমাধান করার চেষ্টা করব।’