default-image

বর্ণাঢ্য উৎসবের মধ্য দিয়ে উদ্‌যাপিত হলো দেশের চারুকলা আন্দোলনের পথিকৃৎ শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিনের জন্মতশতবার্ষিকী। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় আয়োজিত জাতীয় পর্যায়ে শিল্পাচার্যের জন্মশতবর্ষের বছরব্যাপী অনুষ্ঠানমালার উদ্বোধন করলেন। আর শিল্পাচার্যের হাতে গড়া প্রতিষ্ঠান, যেটা এখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ, সেখানে প্রাক্তন ও বর্তমানের শিক্ষার্থীদের সমাগম আর নানা আয়োজনে উৎসবমুখর ছিল সারা দিন।

সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদের পাশে শিল্পাচার্যের সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণের মধ্য দিয়ে তাঁর জন্মশতবর্ষের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূরের নেতৃত্বে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এবং ডিন নিসার হোসেনের নেতৃত্বে চারুকলা অনুষদের পক্ষ থেকে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। এ ছাড়া বাংলা একাডেমি, শিল্পকলা একাডেমী, জাতীয় জাদুঘর, নজরুল ইনস্টিটিউটসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকেও পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়।

বিকেলে জাতীয় জাদুঘরে জাতীয় পর্যায়ের জয়নুল জন্মশতবার্ষিকীর অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, তাঁর সরকার দেশে চমৎকার পরিবেশ বজায় রাখার মাধ্যমে বাঙালি জাতির জন্য একটি সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে চায়।

শিল্পাচার্যের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তিনি ছিলেন সাধারণ আটপৌরে মানুষের শিল্পী। সাধারণ মানুষের জীবনচিত্র, দুঃখবেদনা ছিল এই মহান শিল্পীর ছবির উপজীব্য। তিনি একাধারে ছিলেন নিঃসর্গ প্রেমিক, অন্যদিকে তাঁর রংতুলিতে ফুটে উঠেছে দ্রোহের ভাষা। বাংলাদেশে শিল্প ও সংস্কৃতি এবং বাঙালি জাতিসত্তা বিকাশে তাঁর অবদান জাতি চিরদিন গভীর কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করবে। পরে প্রধানমন্ত্রী শিল্পাচার্যের ১০০ শিল্পকর্ম নিয়ে আয়োজিত বিশেষ প্রদর্শনী উদ্বোধন করেন।

 সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয় আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর। আলোচনা করেন বিশিষ্ট শিল্পী মুস্তাফা মনোয়ার ও শিল্পাচার্যের স্ত্রী জাহানারা আবেদিন। জয়নুল আবেদিন স্মারক বক্তৃতা করেন অধ্যাপক বোরহান উদ্দিন খান জাহাঙ্গীর।

চারুকলায় সম্মাননা ও পুনর্মিলনী:  চারুকলা অনুষদে চার দিনব্যাপী জয়নুল মেলার সমাপনী দিনে গতকাল সকালে ছিল জয়নুল সম্মাননা ও পুরস্কার বিতরণী। সকালে বকুলতলা মঞ্চে এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন শিল্পাচার্যের স্ত্রী বেগম জাহানারা আবেদিন। সভাপতিত্ব করেন উপাচার্য আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক। আলোচনা করেন শিল্পী রফিকুন নবী ও শাহাবুদ্দিন আহমেদ। স্বাগত বক্তব্য দেন ডিন নিসার হোসেন। এবার জনয়নুল সম্মাননা প্রদান করা হয় চারুকলা অনুষদের সাবেক অধ্যাপক শিল্পী সমরজিৎ রায়চৌধুরী ও ভারতের শিল্পী ও কলাতাত্ত্বিক বরদা এমএস বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক গোলাম মোহাম্মদ শেখকে। এ ছাড়া আগের দিনে অনুষ্ঠিত শিশু-কিশোর চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার বিজয়ী এবং অনুষদের বার্ষিক শিল্পকর্ম প্রদর্শনীর কৃতী শিক্ষার্থীদের পুরস্কার বিতরণ করা হয়।

সারা দিনই বকুলতলায় চলেছে গান, আবৃত্তি, স্মৃতিচারণা। সকাল থেকেই অনুষদের প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা আসতে থাকেন মেলায়। অনুষদ প্রাঙ্গণ তাঁদের প্রাণবন্ত উপস্থিতিতে উৎসবমুখর হয়ে ওঠে।

ময়মনসিংহ: ময়মনসিংহ অফিস জানায়, চিত্রশিল্পীদের সংগঠন ব্রহ্মশৈলীর উদ্যোগে সামিট গ্রুপের পৃষ্ঠপোষকতায় গতকাল ব্রহ্মপুত্র নদ ও চরে নানা আয়োজনে শিল্পাচার্যের জন্মশতবার্ষিকী উদ্‌যাপন করা হয়।

সন্ধ্যায় ৫০টি নৌকায় মশাল জ্বালিয়ে নৌকাগুলো ব্রহ্মপুত্র নদে ভাসানো হয়।  নৌকাগুলো যায় নদের চরে। সেখানে ১০০টি ফানুস উড়িয়ে শিল্পাচার্যকে সম্মান জানানো হয়। পোড়ানো হয় জমকালো আতশবাজি। আলোকিত হয়ে ওঠে নদের অপর পাড়ের জয়নুল উদ্যান। শত শত মানুষ এ দৃশ্য উপভোগ করে।

এর আগে বিকেল পাঁচটায় ফানুস উড়িয়ে ময়মনসিংহ পৌরসভার মেয়র মো. ইকরামুল হক জন্মশতবার্ষিকী আয়োজনের উদ্বোধন করেন।

বিজ্ঞাপন
রাজধানী থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন