বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

জাপান গার্ডেন সিটির ১১ নম্বর ভবনের গ্যাসের লাইন কাটা হয়েছে। ২০০৭-২০০৮ অর্থবছর থেকে ডেভেলপার কোম্পানি জাপান গার্ডেন সিটি লিমিটেড ফ্ল্যাটমালিকদের মধ্যে ফ্ল্যাট হস্তান্তর শুরু করে। বর্তমানে এ সিটিতে ২১টি ভবনে ১ হাজার ৬২৩টি ফ্ল্যাট রয়েছে। একেকটি ভবনে সর্বোচ্চ ৯০টি পরিবার বসবাস করছে।

১১ নম্বর ভবনের একজন ফ্ল্যাটমালিক নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রথম আলোকে বলেন, ‘বুধবার দুপুরে বাজার থেকে ফিরে দেখি গ্যাসের লাইন কাটা। ওই দিন দুপুর থেকেই বাসায় রান্না বন্ধ। ছেলেমেয়েদের বার্ষিক পরীক্ষা চলছে। বাসায় অতিথি আছে। এক বেলা নান রুটি আর গ্রিল কিনতেই লেগেছে ৮০০ টাকার বেশি। রাইস কুকারে ভাত আর আলু-বেগুন সেদ্ধ করে এক–দুই বেলা চালিয়েছি। অন্য ভবনে পরিচিত আছেন, সেখান থেকে তরকারি রান্না করে এনেছি। কয়েক বেলা বাইরের খাবার খেয়ে অসুস্থ হয়ে গেছি।’

ভবনটির একাধিক বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘প্রথমত আমরা বিল পরিশোধ করেও বিনা অপরাধে শাস্তি ভোগ করছি।’ এখন তিতাস বলছে, তারা বকেয়া পেয়েছে, তবে সরকারি ছুটি শেষ না হলে তারা কিছু করতে পারবে না। এ সেবা দিতেও সরকারি ছুটি বলে বসে থাকবে তিতাস কর্তৃপক্ষ?

সিটির অন্য ভবনের বাসিন্দাদের মধ্যেও আতঙ্ক বিরাজ করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন ফ্ল্যাটমালিক বলেন, তাঁদের ভবনের লাইন যে কেটে দেবে না, তারও নিশ্চয়তা পাচ্ছেন না। তাঁদের বিলও বকেয়া আছে কি না, তা–ও তো জানেন না। সব জানে সিটির ডেভেলপার কোম্পানি।

সিটির একাধিক ভবনের বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেল, সিটিতে ডেভেলপার কোম্পানি ও ফ্ল্যাটমালিকদের মধ্যে দ্বন্দ্ব লেগেই রয়েছে। ফ্ল্যাটমালিকদের পক্ষ থেকে যে কল্যাণ সমিতি আছে, তা নিয়েও চলছে নানা জটিলতা। সমিতির সদস্যদের এক ভাগ ডেভেলপার কোম্পানির পক্ষে, আরেক দল সাধারণ ফ্ল্যাটমালিকদের পক্ষে। ফলে কল্যাণ সমিতিও সমস্যা সমাধানে তেমন কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না বলেই অধিকাংশের অভিযোগ। বর্তমান কল্যাণ সমিতির সদস্যরা একতরফা ভোটে নির্বাচিত বলেও অভিযোগ আছে।

জাপান গার্ডেন সিটি ফ্ল্যাট মালিক কল্যাণ সমিতির পক্ষে বিভিন্ন বিষয় দেখভাল করে সার্ভিস অ্যাপ্রুভাল কমিটি। এ কমিটির আহ্বায়ক এবং ফ্ল্যাট মালিক কল্যাণ সমিতির কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি সৈয়দ দেলোয়ার হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, ‘গ্যাসের সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। গ্যাসের লাইন কাটার আগে এ বিষয়ে আমরা কিছুই জানতে পারিনি। সিটির ডেভেলপার কোম্পানি সব জানে।’

ডেভেলপার কোম্পানি জাপান গার্ডেন সিটি লিমিটেডের মেইনটেন্যান্স ব্যবস্থাপক সৈয়দ জামাল প্রথম আলোকে কথার শুরুতেই জানালেন, তিনি এক মাসের বেশি সময় ধরে অসুস্থতার জন্য ছুটিতে আছেন। তবে বাসায় বসে তিনি যেটুকু জানতে পেরেছেন তাতে তাঁর মনে হয়েছে, এখানে কিছু একটা ভুল–বোঝাবুঝি হয়েছে। তিতাস লাইন কেটেছে অথচ মোহাম্মদপুর জোন এ বিষয়ে কিছু জানে না।

সৈয়দ জামাল বকেয়া বিল প্রসঙ্গে সরাসরি কিছু বলেননি। তিনি বলেন, করোনার সময় গ্যাস বিল বকেয়া ছিল। অনেক ফ্ল্যাটমালিকই বিল দেননি। তবে বকেয়া থাকলেও জরিমানা করতে পারে, নোটিশ না দিয়ে লাইন তো কেটে দিতে পারে না তিতাস কর্তৃপক্ষ।

তিতাস গ্যাস কোম্পানির উপমহাব্যবস্থাপক (রাজস্ব) মো. তোফাজ্জল হোসেন আজ শুক্রবার দুপুরে প্রথম আলোকে বলেন, ‘জাপান গার্ডেন সিটির কয়েকটি ভবনের কাছে ৬০ লাখ টাকা গ্যাস বিল বকেয়া ছিল। তিতাসের হেড অফিস থেকে বিশেষ দুটি টিম গঠন করে জাপান গার্ডেন সিটিতে লাইন কাটার জন্য পাঠানো হয়। একটি ভবনের লাইন কাটা হয়। তবে আরেকটি ভবনের লাইন কাটতে গেলে টিমের সদস্যদের আটক করেন বাসিন্দারা। পরে ছেড়ে দেন। লাইন কাটার পর বকেয়া বিলের মধ্যে ৪৬ লাখ টাকা পরিশোধ করা হয়েছে বৃহস্পতিবার।’

তোফাজ্জল হোসেন বলেন, শুক্র ও শনিবার সরকারি ছুটির দিন এবং আরও কিছু আনুষ্ঠানিকতাসহ লাইন সংযোগে একটু সময় লেগে যাচ্ছে। এ ছাড়া ফ্ল্যাটমালিকদের নামে বিল হলে কার বকেয়া আছে, সে অনুযায়ী শুধু ওই লাইন কাটা যেত, কিন্তু জাপান গার্ডেন সিটিতে সে উপায় নেই। তাই বাসিন্দাদের ভোগান্তি হচ্ছে। আর লাইন কাটার বিষয়ে কোনো অনিয়ম হয়নি। হেড অফিসের নির্দেশে মোহাম্মদপুর জোনের মাধ্যমেই লাইন কাটা হয়েছে।

জাপান গার্ডেন সিটি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ওয়াহিদুজ্জামানের মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন করে এবং প্রথম আলোর পক্ষ থেকে কথা বলতে চেয়ে খুদে বার্তা দিলেও তিনি ফোন ধরেননি।

রাজধানী থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন