default-image

ভারতীয় নাগরিক শাকথিভেল জাল ভিসা নিয়ে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে যুক্তরাজ্যে যাওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছিলেন। কেটেছিলেন বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের টিকিটও। কিন্তু বোর্ডিং পাস নেওয়ার সময় ধরা পড়ে গেছেন। আজ সোমবার আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন বিমানবন্দর থানায় শাকথিভেলের বিরুদ্ধে মামলা করেছে।

বিমানবন্দর আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আলমগীর হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, শাকথিভেল কী উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ হয়ে যুক্তরাজ্যে যাচ্ছিলেন, এখনো জানা যায়নি। তাঁর কথাবার্তা যথেষ্ট সন্দেহজনক। তাঁর দেওয়া তথ্যের যাচাই–বাছাই চলছে।

শাকথিভেল ইংরেজিতে কথা বলেন না। পাসপোর্টে নদীয়ার ইছাপুর গ্রামের কথা লেখা হলেও তিনি বাংলা বোঝেন না বলে জানিয়েছেন। তাঁর কাছ থেকে তথ্য আদায়ই কঠিন হয়ে পড়ছে।

মামলার এজাহারে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের উপপরিদর্শক মীর ফেরদৌস ওয়াহিদ লিখেছেন, ২৫ জানুয়ারি বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান তালুকদার একটি লিখিত অভিযোগ নিয়ে আসেন বিমানবন্দরে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের কার্যালয়ে।

বিজ্ঞাপন
default-image

ওই আবেদনে তিনি বলেন, ২৪ জানুয়ারি শাকথিভেল চেক–ইন কাউন্টারে বোর্ডিং পাস নিতে আসেন। কাউন্টারের কর্মকর্তা পাসপোর্ট দেখে ধারণা করেন, শাকথিভেলের পাসপোর্টে যুক্তরাজ্যের যে ভিসা লাগানো আছে, সেটি ভুয়া। বিষয়টি যুক্তরাজ্য দূতাবাসকে জানানো হলে দূতাবাসের ইমিগ্রেশন লিয়াজোঁ অফিসার সাদিয়া আনজুম বিমানবন্দরে এসে ভিসাটি জাল বলে শনাক্ত করেন। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ পাসপোর্ট, টিকিটসহ শাকথিভেলকে পরবর্তী কার্যক্রমের জন্য এয়ারপোর্ট আর্মড পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে।

পুলিশ শাকথিভেলের (২৬) কাছ থেকে ভারতীয় পাসপোর্ট, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের টিকিট, কোভিড–১৯ টেস্ট রিপোর্ট, স্যামসাং ফোন, তিনটি ব্যাংক কার্ড জব্দ করেছে। নকল ভিসার ব্যাপারে জিজ্ঞাসাবাদ করলে কোনো সদুত্তর পাওয়া যায়নি।

default-image

সূত্র জানাচ্ছে, শাকথিভেলের পাসপোর্টের তথ্য অনুযায়ী তাঁর জন্ম তামিলনাড়ুতে। কিন্তু তিনি পাসপোর্ট করিয়েছেন কলকাতা থেকে। তাঁর বাবার নাম রবি রাজ, মায়ের নাম শ্রীমতি। তিনি ঠিকানা দিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের নদীয়ার। আর পাসপোর্টে যুক্তরাজ্যের যে জাল ভিসা আছে, সেটি দিল্লি থেকে করা। যেহেতু ভিসাটি জাল, তাই আদতে ওই ভিসা তিনি কোথা থেকে নিয়েছেন, সে সম্পর্কে নিশ্চিত নয় পুলিশ।

পুলিশ বলছে, শাকথিভেল ইংরেজিতে কথা বলেন না। পাসপোর্টে নদীয়ার ইছাপুর গ্রামের কথা লেখা হলেও তিনি বাংলা বোঝেন না বলে জানিয়েছেন। তাঁর কাছ থেকে তথ্য আদায়ই কঠিন হয়ে পড়ছে। পাসপোর্টের তথ্য অনুযায়ী ২০ জানুয়ারি শাকথি বেনাপোল থেকে বাংলাদেশে ঢোকেন। তিনি রবির একটি সিম ব্যবহার করছেন এবং সব যোগাযোগ করেছেন হোয়াটসঅ্যাপে। তাঁর এদেশীয় সহযোগীদের শনাক্ত করারও চেষ্টা চলছে।

বিজ্ঞাপন
রাজধানী থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন