default-image

রাজধানীতে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী মারা যাওয়ার এক দিন পর চিকিৎসকেরা বলেছেন, ময়নাতদন্তে জোর করে যৌন সম্পর্কের কোনো আলামত তাঁরা পাননি। সোমবার শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজে ওই ছাত্রীর ময়নাতদন্ত করেন চিকিৎসকেরা।

এদিকে পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ বলেছেন, এ ঘটনায় গ্রেপ্তার আসামিরা পাঁচ দিনের রিমান্ডে আছেন। তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। ঠিক কী কারণে ওই ছাত্রী মারা গেছেন, খোঁজ নেওয়া হচ্ছে।

ছাত্রীর বাবা অভিযোগ করেছেন, তাঁর মেয়েকে মদ খাইয়ে ধর্ষণ করা হয়েছিল। পুলিশ মদের উৎস খোঁজার চেষ্টা করছে। তবে গত বৃহস্পতিবার রাতে উত্তরার রেস্তোরাঁয় তাঁদের যে বন্ধু মদ নিয়ে গিয়েছিলেন, তিনি নিজেও মারা গেছেন। ফলে এখনই জানা যাচ্ছে না, ওই মদ তাঁরা কোথা থেকে কিনেছিলেন।

প্রসঙ্গত, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়েন ওই ছাত্রী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। এ ঘটনায় তাঁর বাবা মোহাম্মদপুর থানায় মামলা করেন। ওই মামলায় তিনি আসামি করেন মর্তুজা রায়হান চৌধুরী, নুহাত আলম তাফসীর, আরাফাত ও নেহাকে। পুলিশ আরাফাতকে গ্রেপ্তার করতে গিয়ে শোনে, তিনিও ধানমন্ডির একটি হাসপাতালে মারা গেছেন।

বিজ্ঞাপন

পুলিশ জানায়, গত ২৮ জানুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ছাত্রী তাঁর বন্ধু মর্তুজা রায়হান চৌধুরীর সঙ্গে বেড়াতে গিয়েছিলেন। সেখান থেকে তাঁরা পরে উত্তরায় তাঁদের আরও তিন বন্ধুর সঙ্গে একটি রেস্তোরাঁয় দেখা করেন। অসুস্থ বোধ করায় দুজন আগেই বাসায় চলে যান।

ছাত্রী ও তাঁর বন্ধু সে রাতে তাঁদের আরেক বন্ধুর বাসায় থেকে যান। ওই বাসায় গিয়ে তিনি অসুস্থ বোধ করেন। শুক্রবার বিকেল থেকে ছাত্রীটির শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে। প্রথমে বন্ধুবান্ধবেরা তাঁকে ইবনে সিনায় নিয়ে যান। নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র ফাঁকা না থাকায় মেয়েটিকে পরে আনোয়ার খান মডার্ন হাসপাতালে নেওয়া হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার দুপুরে মারা যান তিনি।

সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের প্রধান সেলিম রেজা প্রথম আলোকে বলেন, আপাতদৃষ্টে জোর করে যৌন সম্পর্ক স্থাপনের কোনো আলামত তাঁরা পাননি। ডাক্তারি রিপোর্টে অ্যাকিউট কিডনি ইনজুরির কথা উল্লেখ আছে। কিডনি বিকলের কারণ জানতে ওই ছাত্রীর কিডনি হিস্টোপ্যাথলজি পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। সুরতহালে বিষাক্ত মদের উপস্থিতির কথা বলা হয়েছিল। সে কারণে পরীক্ষার জন্য রক্তও নেওয়া হয়েছে। ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে কি না, নিশ্চিত হতে কিছু আলামত সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে।

রাজধানী থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন