default-image

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) এলাকায় মাথার ওপর ঝুলে থাকা তার অপসারণে চালানো অভিযান নিয়ে করপোরেশন ও সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে দ্বন্দ্বের অবসান হয়েছে। ডিএসসিসির মেয়র ঘোষণা দিয়েছেন, আজ রোববার থেকে তার অপসারণের অভিযান বন্ধ থাকবে। সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলো আগামী নভেম্বর মাসের মধ্যে এসব তার মাথার ওপর থেকে মাটির নিচে নিজ ব্যবস্থাপনা নিয়ে যাবে—এমন সমঝোতার ভিত্তিতেই এ সিদ্ধান্ত হয়েছে।

আজ দুপুরে নগর ভবনে ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (আইএসপিবিএ) এবং কেবল অপারেটর অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (কোয়াব) নেতাদের সঙ্গে বৈঠক শেষে এমন সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন মেয়র তাপস।
তারের জঙ্গল থেকে ঢাকাকে মুক্ত করতে গত ৫ আগস্ট থেকে তার অপসারণে অভিযান শুরু করেছিল ডিএসসিসি। করপোরেশনের এমন অভিযানকে অযৌক্তিক আখ্যা দিয়ে প্রতিষ্ঠানগুলো আজ থেকে তিন ঘণ্টার ইন্টারনেট সেবা বন্ধের কর্মসূচি ঘোষণা করেছিল। আজকের এই বৈঠকের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের ঘোষিত কর্মসূচি থেকে সরে এল।

বিজ্ঞাপন

বৈঠক শেষে মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস সাংবাদিকদের বলেন, ‘তারের যে জঞ্জালে ঢাকা শহর সয়লাব, সেই তারের জঞ্জাল থেকে আমরা ঢাকা শহরকে মুক্ত করতে চাই। আমরা সবাই যৌথভাবে একমত হয়েছি। আমরা আমাদের প্রাণের ঢাকাকে সুন্দর ঢাকা হিসেবে পরিণত করতে চাই। আমরা যৌথভাবে কাজ করলে সেটা সম্ভব। ঐক্যবদ্ধের একটা জায়গায় আমরা উপনীত হয়েছি। আমাদের মধ্যে যে ভুলভ্রান্তি বা ভুল-বোঝাবুঝি ছিল, সেটার অবসান হয়েছে।’

ডিএসসিসির মেয়র জানান, কাল সোমবার থেকে আইএসপিবিএ ও কোয়াব নিজ উদ্যোগে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায়, বিশেষ করে ধানমন্ডি এলাকায় কাজ শুরু করবে। তারা মাথার ওপর থেকে তার অপসারণ করে এগুলো মাটির নিচে নিয়ে যাবে। এ বিষয়ে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন তাদের সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে। সম্পূর্ণ বিনা মূল্যে, বিনা খরচে তাদের সেই সুযোগ করে দেবে। তাদের রাস্তা প্রয়োজন হলে রাস্তা, ফুটপাত প্রয়োজন হলে ফুটপাত, নর্দমা প্রয়োজন হলে নর্দমা, ঢাকা দক্ষিণ সিটির অবকাঠামো যখন যা প্রয়োজন হবে, তাদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সেই সুযোগ করে দেবে। যাতে করে তারা ওপর থেকে তারগুলো অপসারণ করে ভূগর্ভস্থ জায়গায় নিয়ে যেতে পারে।

দক্ষিণ সিটি বিনা মূল্যে এই সুযোগ দিচ্ছে জানিয়ে ডিএসসিসির মেয়র আরও বলেন, ‘আশা করছি, আগামী নভেম্বরের মধ্যে ঢাকা শহরে মাথার ওপর ঝুলে থাকা তারের জঞ্জাল থেকে মুক্ত করতে পারব।’

দক্ষিণ সিটি এলাকায় ব্যবসা করতে হলে অবশ্যই নিবন্ধন নেওয়ার কথা বলা হয়েছিল। আজ এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে মেয়র তাপস বলেন, ‘আমাদের মধ্যে ভুল-বোঝাবুঝি ছিল, কিছু বিষয়ে দ্বিমত ছিল। আমরা বলেছি, বৃহত্তর স্বার্থে তারের জঙ্গল থেকে নগরবাসীকে মুক্ত করার জন্য সুন্দর ঢাকা করার লক্ষ্যে আমরা সব রকম ছাড় দেব। এমনকি সড়ক খনন করতে হলে যে ক্ষতি হয়, সেই ক্ষতিপূরণ ফি আমরা এখান থেকে নেব না। সবাই মিলে আগামী নভেম্বরের মধ্যেই এ কাজ শেষ করার জন্য আমরা তাদের বিনীতভাবে অনুরোধ করেছি। ২০২১ সালে আমরা তারের জঞ্জালমুক্ত একটি ঢাকা নগরবাসীকে উপহার দিতে পারব।’

আইএসপিবিএর সভাপতি এম এ হাকিম বলেন, ‘আমরা আগামী কয়েক মাসের মধ্যে পর্যায়ক্রমে এ কাজ করব।’

মেয়র বলেন নভেম্বরের মধ্যে, আপনারা বলছেন কয়েক মাস—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে এম এ হাকিম বলেন, ‘আমরা কাজ শুরু করব। এমন হতে পারে, কোনো সড়কে অল্প সময়ের মধ্যে হতে পারে, কিছু সড়কে কাজ করতে গিয়ে হয়তো নভেম্বর মাস অতিক্রম হতে পারে। আমাদের মূল লক্ষ্য থাকবে সুন্দর নগরী এবং নিরবচ্ছিন্ন সেবা দেওয়া।’

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0