বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

ফকিরাপুলসহ কয়েকটি এলাকা থেকে ১৫ নভেম্বর এই ১৩ জনকে গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ। তাঁদের কাছ থেকে ৬৯টি ভুয়া করোনা টিকার সনদ জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় পল্টন থানায় দুটি মামলা করেছে পুলিশ।

মামলার পরদিন পুলিশ ঢাকার সিএমএম আদালতে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করে। আদালত প্রত্যেককে তিন দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেন। রিমান্ড আবেদনে পুলিশ আদালতকে জানায়, আসামিরা কীভাবে সুরক্ষা অ্যাপসে ঢুকে করোনা টিকার ভুয়া সনদ বের করে। কীভাবে খুদে বার্তা পাঠায়, তা অবশ্য জানা যায়নি। তদন্ত প্রক্রিয়ায় জড়িত কোনো কর্মকর্তাও এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি।

আদালতসংশ্লিষ্ট কয়েকটি সূত্র জানায়, ওই মামলায় শুক্রবার চারজন ও শনিবার পাঁচজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। জবানবন্দি রেকর্ডের পর তাঁদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

গ্রেপ্তার হওয়া ১৩ জন হলেন ঢাকার শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কর্মচারী মাসুদ রানা, হাবিবুর রহমান, সাদ্দাম হোসেন, মিরপুর ডেন্টাল কলেজ হাসপাতালের কর্মচারী আশিকুর রহমান, আনসার সদস্য নাজমুল হাসান ও আরিফুল ইসলাম এবং সফিকুল ইসলাম রায়হান, হোসেন আহাম্মদ ঢালী, হাসিব মাহাতাব, আলমগীর হোসেন, জাহাঙ্গীর আলম, আবদুল হাই ও আনোয়ার হোসেন।

টাকার বিনিময়ে টিকার ভুয়া সনদ

মামলার নথিপত্রের তথ্য অনুযায়ী, সংঘবদ্ধ চক্রটির সদস্যরা টিকা না নেওয়া সত্ত্বেও পাঁচ থেকে ছয় হাজার টাকার বিনিময়ে বিদেশগামী যাত্রীদের মডার্না, ফাইজার, অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা গ্রহণের সনদ দিয়ে আসছিলেন।

দুই মামলার একটির এজাহারে উল্লেখ করা হয়, সফিকুল ইসলাম পুলিশকে বলেছেন, শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মাসুদ রানা, হাবিবুর রহমান, সাদ্দাম, মিরপুর ডেন্টাল কলেজ হাসপাতালের আশিকুর, আনসার সদস্য নাজমুল ও আরিফুল এবং অজ্ঞাতনামা চার–পাঁচজন করোনার টিকা না দিয়ে টিকা প্রদানের ভুয়া সনদ তৈরি করে থাকেন। তিনি আরও বলেছেন, মাসুদকে সোহরাওয়ার্দী মেডিকেলের সামনে থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তখন তাঁর কাছ থেকে চারটি ভুয়া সনদ জব্দ করা হয়।

মামলার নথিপত্র অনুযায়ী, ডেন্টাল কলেজ হাসপাতালের স্টাফ কোয়ার্টারের পাঁচতলা থেকে কম্পিউটার অপারেটর আশিকুরকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁর বাসা থেকে কম্পিউটার জব্দ করা হয়েছে। আনসার সদস্য নাজমুলকে জিজ্ঞাসাবাদ করে জানা যায়, পাপন নামের আরেকজন কম্পিউটার অপারেটর (পলাতক) টাকার বিনিময়ে ভুয়া সনদ তৈরি করে দেন। নথিপত্র অনুযায়ী, প্রত্যেক আসামির মুঠোফোনের হোয়াটসঅ্যাপে ভুয়া সনদ পাওয়া গেছে।

এদিকে পল্টন থানার অপর মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, আসামি জাহাঙ্গীর, আবদুল হাই ও আনোয়ার জানিয়েছেন, তেজগাঁওয়ের নাক, কান, গলাবিষয়ক একটি হাসপাতালের কর্মচারী জাকারিয়া, টাঙ্গাইলের ঘাটাইলের বাসিন্দা আবু সালেহ রাজিম, মিজান দালাল, ধলপুরের মাতৃসদন হাসপাতালের কয়েকজন কর্মচারীও টাকার বিনিময়ে টিকার ভুয়া সনদ দিয়ে আসছিলেন।

ডিবি পুলিশের পক্ষ থেকে আদালতকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে, আসামিরা সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার জন্য বিদেশগামী ব্যক্তিদের টাকার বিনিময়ে করোনা টিকার ভুয়া ও জাল সনদ দিয়ে প্রতারণা করেছেন। এর ফলে বিদেশে জনশক্তি রপ্তানিতে দুর্নাম হচ্ছে। করোনার টিকা না দিয়েও ভুয়া সনদের কারণে দেশ ও দেশের বাইরে জনস্বাস্থ্য হুমকির সম্মুখীন হচ্ছে।

ভুয়া সনদ দেওয়ায় হাসপাতালের কর্মচারীদের জড়িত থাকার অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক খলিলুর রহমান বলেন, যাঁরা করোনা টিকার ভুয়া সনদ দেওয়ায় জড়িত, তাঁদের প্রত্যেককে আইনের আওতায় আনা হোক। প্রত্যেকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া জরুরি।

যোগাযোগ করা হলে আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর গণসংযোগ কর্মকর্তা ও উপপরিচালক মেহেনাজ তাবাসসুম রেবিন প্রথম আলোকে জানান, ভুয়া সনদ দেওয়ার অভিযোগে তাঁদের কোনো সদস্য গ্রেপ্তার হয়েছেন কি না, সেই তথ্য তাঁর জানা নেই।

তবে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক খলিলুর রহমান প্রথম আলোকে আরও জানান, কয়েক দিন আগে ডিবি পুলিশের কর্মকর্তারা যোগাযোগ করে জানিয়েছিলেন, টিকার ভুয়া সনদ দেওয়া একটি সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্রের সন্ধান পেয়েছেন তাঁরা। তবে তাঁদের হাসপাতালের কোনো কর্মচারী গ্রেপ্তার হয়েছেন কি না, তা তিনি জানেন না।

রাজধানী থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন