বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আজ বুধবার রাজধানীর বছিলা এলাকার বছিলা গার্ডেন সিটির বিপরীতে এভাবে অপেক্ষা করতে দেখা যায় লোকজনকে। তাঁদের অনেকেই বললেন, স্বাভাবিকভাবে সকাল ১০টা থেকে সাড়ে ১০টার মধ্যেই ট্রাক চলে আসে। কিন্তু আজ (বুধবার) পৌঁছায়নি। এ ছাড়া পণ্য বিক্রির নির্ধারিত ওই স্থানে সর্বশেষ গত রোববার ট্রাক গেলেও পরের দুদিন; গত সোম ও মঙ্গলবার ট্রাক যায়নি। আজকে আসবে কি না, সেটাও জানেন না তাঁরা। ট্রাক আসবে এমন আশায় তাঁরা অপেক্ষা করছেন বলে জানালেন।

এদের একজন মোহাম্মদপুরের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্রী জানাল, তার বাসা বছিলায়। স্কুল শেষে বাসায় ফেরার পথে নানি ও ভাইকে টিসিবির ট্রাকের জন্য অপেক্ষা করতে দেখে সে–ও তাঁদের সঙ্গে অপেক্ষা শুরু করে। সে জানায়, গত দুই দিনেও তার নানি ও ভাই ট্রাক থেকে পণ্য কিনতে এলেও পায়নি।

টিসিবি ট্রাক সেলে চিনি ও ডাল কেজিপ্রতি ৫৫ টাকা ও সয়াবিন তেল লিটারপ্রতি ১০০ টাকায় বিক্রি করা হয়। গত রোববার থেকে তাঁরা পেঁয়াজও বিক্রি শুরু করেছে, বর্তমানে প্রতি কেজি পেঁয়াজ ৩০ টাকায় বিক্রি করছে টিসিবি। একজন ক্রেতা সর্বোচ্চ দুই কেজি করে পণ্য কিনতে পারেন। সয়াবিন তেল কেনা যাবে দুই লিটার।

বর্তমান দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির বাজারের হিসাবে দুই কেজি করে চিনি, ডাল, পেঁয়াজ ও দুই লিটার সয়াবিন তেল কিনতে ৭২৫ টাকার মতো খরচ হয়। সেখানে টিসিবি থেকে সমপরিমাণ পণ্যের দাম পড়ে ৪৮০ টাকা, অর্থাৎ ২৯০ টাকার মতো সাশ্রয় হয় ক্রেতার।

পণ্যের জন্য অপেক্ষায় থাকা বছিলা গার্ডেন সিটি এলাকার বাসিন্দা খাদিজা বেগম প্রথম আলোকে বলেন, ‘গত দুই দিন আইসা সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত অপেক্ষা কইরা ফেরত গেছি। ট্রাক আসেই নাই। আইজকাও আইব কি না, জানি না।’ বয়সে প্রবীণ এই নারী বলেন, ‘প্রতিদিন আইসা দাঁড়াই থাকতে কষ্ট হয়। তবু আসা লাগে। বাজারে যে দাম, এনে অন্তত কয়ডা টেকা কমে কিনতে পারি।’

ঘাটারচর এলাকার বাসিন্দা দিনমজুর শাহীন মিয়া বলেন, ‘সকাল সাড়ে ৯টার দিকে এসে একবার ঘুরে গেছি। আবার এখন (সোয়া ১১টা) আসলাম। আইসা দেখি ট্রাক এখনো আসে নাই।’

পরবর্তী সময়ে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বছিলায় টিসিবির পণ্যবাহী ট্রাক পৌঁছায় বেলা একটার পর। তখন অবশ্য হালকা বৃষ্টির কারণে টিসিবির পণ্য কিনতে লাইনে দাঁড়ানো ব্যক্তিদের ভোগান্তি পোহাতে হয়।

নির্ধারিত স্থানে গত দুই দিন ট্রাক না যাওয়া নিয়ে কথা হয় টিসিবির মুখপাত্র হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, বেশির ভাগ নির্ধারিত জায়গাতে কিছু সুবিধাভোগীদের চক্র তৈরি হয়েছে। চক্রের ২০-২৫ জন প্রতিদিন এসে লাইনে দাঁড়ায়, পরে পণ্যগুলো বাজারে বিক্রি করে দেয়। এতে অন্যরা বঞ্চিত হন। তাই এখন থেকে ট্রাক হুটহাট করে পাঠানো হবে। নিজেদের ব্যবস্থাপনায় ট্রাক পাঠানোর রোটেশন করা হচ্ছে।

রাজধানী থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন