>করোনাভাইরাস পাল্টে দিয়েছে আমাদের জীবনের বাস্তবতা। দেশ-বিদেশের পাঠকেরা এখানে লিখছেন তাঁদের এ সময়ের আনন্দ-বেদনাভরা দিনযাপনের মানবিক কাহিনি। আপনিও লিখুন। পাঠকের আরও লেখা দেখুন প্রথম আলো অনলাইনে। লেখা পাঠানোর ঠিকানা: dp@prothomalo.com
default-image

আমি একজন এইচএসসি পরীক্ষার্থী। সেই প্রথম বর্ষ থেকেই বন্ধুরা বেশ গর্ব করে বলতাম, আমরা তো টি–টোয়েন্টি ব্যাচ! একটা অন্য রকম মজা ছিল এই টি–টোয়েন্টি নিয়ে। কিন্তু কখনো চিন্তাও করিনি এমনটা হবে ২০২০–এর আসল রূপ! ভেবেছিলাম ২০২০ সালে একে যেমন এইচএসসি দিয়ে স্বপ্ন পূরণের পথে যাত্রা করার দোয়া করব আল্লাহর কাছে, তেমনি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলার টাইগাররাও যেন মাঠ কাঁপিয়ে ঘরে কাপ তুলতে পারেন, সেই দোয়াও করব! কিন্তু করোনা যে বলল অন্য কথা! আমার চোখে আঙুল তুলে বলে দিল ‘সে আশায় গুড়ে বালি’...।

ভেবেছিলাম টি-টোয়েন্টিতে সৌম্য-মুশফিকদের হাতে যখন চার-ছয়ের বন্যা বয়ে যাবে, তখন মনভরে সবাই মিলে উল্লাস করব। টাইগাররা একেকটা উইকেট নেবে, আর হাততালিতে মাতিয়ে তুলব চারদিক। কিন্তু দিন শেষে জীবনের উইকেটগুলো জসপ্রীত বুমরার থেকে দ্রুতগতিতে নিয়ে চলেছে কোভিড-১৯। জানি না শেষ কোথায়। কবে আউট হবে এই ১৯ নম্বর জার্সিধারী প্লেয়ার।

এ বছরটা শুধু করোনা নয়, আরও বহু কারণেই একটা অভিশপ্ত বছর। ছোট্টকাল থেকে আমরা যারা বড় কিছু হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে বড় হয়েছি, তারা আজ হতাশ যে পরীক্ষা কবে হবে? এইচএসসি পরীক্ষার পর দুই মাস মতো সময় পাওয়া যায় বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য। এ বছরের হিসাব পুরোটাই পাল্টে গেছে। এই লকডাউনে ঘরে বসে হতাশায় থাকা আমার মতো অধিকাংশ পরীক্ষার্থীর মনে সৃষ্টি হচ্ছে নানা জল্পনাকল্পনা। আমারা পুরোটাই অনিশ্চয়তার মধ্যে আছি। পড়াশোনার সবই আজ ফেলে আশা ছোট ক্লাসের পড়ার মতো আবছা আমার কাছে। পড়তে বসতে গেলে একটা মিনিমাম মানসিক প্রস্তুতির দরকার হয় যে কীভাবে শুরু করব, কবে নাগাদ একটা বিষয় শেষ করতে হবে। কিন্তু যখন পরীক্ষা শুরুর তারিখটাই জানি না, তখন শুরুটা কী দিয়ে করব আর শেষটাইবা কী দিয়ে?

মাঝেমধ্যে মনে হয় জীবনযুদ্ধে হয়তোবা আমরা এই ‘টি–টোয়েন্টি’ ব্যাচ বহুগুণে পিছিয়ে গেলাম। এই হতাশা কীভাবে দূর হবে, তার উত্তর কারও কাছে নেই আর থাকার কথাও নয়। শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি যখনই কোনো বক্তব্য বা লাইভ সেশন বা টক শো করেন, তখনই অনেক আশা নিয়ে তাকিয়ে থাকি, ভাবি হয়তোবা আমাদের ব্যাপারে কোনো সিদ্ধান্ত আসবে! কিন্তু উনিও তো রক্ত–মাংসে গড়া মানুষ আমাদেরই মতন। কীভাবে বলবেন উনি যে কবে করোনা শেষ হবে! এই কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেই আবার শুরু হচ্ছে বন্যা। দুশ্চিন্তার মাত্রা যেন এবার অসীমে গিয়ে ঠেকেছে৷ সে যা–ই হোক, আল্লাহ রাব্বুল আল–আমিনের কাছে আমার প্রার্থনা, সব সমস্যার সমাধান যেন খুব দ্রুত আসে, যেন সবার সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে আমরা অলরাউন্ডার করোনাকে দূর করে জয় করতে পারি জীবনের আসল রং। ভালো থাকুক সব মানুষ। সব এইচএসসি পরীক্ষার্থীর জন্য দোয়া চাই।

*শিক্ষার্থী: উত্তরা হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজ

বিজ্ঞাপন
রাজধানী থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন