ডিএমটিসিএল ঢাকায় মেট্রোরেল লাইন নির্মাণ ও ট্রেন চালানোর দায়িত্বে নিয়োজিত। এর মধ্যে উত্তরা থেকে মতিঝিল পর্যন্ত নির্মাণাধীন মেট্রোরেলের লাইনে (লাইন-৬) এসব ট্রেন চলাচল করবে।

ডিএমটিসিএলের তথ্য অনুসারে, ১ জুন সন্ধ্যা সোয়া সাতটার দিকে দ্বিতীয় মেট্রোরেল সেট ঢাকায় পৌঁছায়। এর আগে গত ২১ এপ্রিল মেট্রোরেলের প্রথম এক সেট ট্রেন ঢাকায় আসে। ১২ মে বাংলাদেশের প্রথম বিদুৎ–চালিত এই ট্রেন উত্তরা ডিপোর ভেতরেই ৫০০ মিটার এলাকায় চালিয়ে দেখা হয়। এর মাধ্যমে বৈদ্যুতিক ট্রেনের যুগে প্রবেশ করে বাংলাদেশ।

ডিএমটিসিএলের অধীনে ঢাকা ও এর আশপাশে মেট্রোরেলের ছয়টি লাইন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রথমটি লাইন-৬। এই প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ২২ হাজার কোটি টাকা।


এর মধ্যে জাপানের কাওয়াসাকি-মিতসুবিশি কনসোর্টিয়ামকে ২৪ সেট ট্রেন নির্মাণের দায়িত্ব দেওয়া হয় ২০১৭ সালে। দুই পাশে দুটি ইঞ্জিন আর চারটি কোচের সমন্বয়ে ট্রেনের সেটগুলো তৈরি হচ্ছে জাপানে। এরই মধ্যে প্রস্তুত হয়েছে পাঁচ সেট ট্রেন, যার দুটি দেশে এসে পৌঁছেছে।

সম্পূর্ণ শীতাতপনিয়ন্ত্রিত (এসি) এই ট্রেনে প্রতিটি কোচের ভেতরে দুই সারিতে সবুজ রঙের লম্বা আসন পাতা রয়েছে। মাঝখানের প্রশস্ত খোলা জায়গায় দাঁড়িয়ে যাত্রী পরিবহনের ব্যবস্থা আছে। দাঁড়ানো যাত্রীদের জন্য ওপরের দিকে হাতল রয়েছে। ট্রেনের উচ্চতা এমন যে স্টেশনে থামার পর এটি একেবারে প্ল্যাটফর্মের সমতলে থাকবে। এতে সহজেই যাত্রীরা হেঁটে ট্রেনে উঠতে পারবে।

মেট্রোরেলের লাইনের দুই পাশে একটু পরপরই বিদ্যুতের খুঁটি থাকবে। দুই খুঁটি থেকে বিদ্যুতের সংযোগ যাবে তারে। আর তারটি ট্রেনের ওপরের অংশের সঙ্গে যুক্ত হয়ে বিদ্যুৎ সঞ্চালনের কাজ করবে। এর মাধ্যমেই চলবে ট্রেনটি। এই ব্যবস্থাটিকে বলা হচ্ছে ‘ওভারহেড ক্যাটিনারি সিস্টেম’। ট্রেনগুলোয় ডিসি ১৫০০ ভোল্টেজ বিদ্যুৎ সরবরাহব্যবস্থা থাকবে। কোচের দুই পাশে চারটি করে দরজা। প্রতিটি ট্রেনের যাত্রী ধারণক্ষমতা হবে ১ হাজার ৭৩৮ জন। ভাড়া পরিশোধের জন্য থাকবে স্মার্ট কার্ড টিকিটিং ব্যবস্থা।