default-image

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ভবনে হামলার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়ার প্রতিবাদে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের একাংশ। আজ মঙ্গলবার সকাল থেকে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনের ফুটপাতে অবস্থান কর্মসূচি পালন করে তারা।

সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত এই কর্মসূচি চলে। তিন দফা দাবিতে এই অবস্থান কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেন সংগঠনটির এই অংশের আহ্বায়ক এ পি এম সুহেল।

দাবিগুলো হলো ডাকসু হামলায় জড়িত ব্যক্তিদের সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে বিচার করা, হামলায় আহত ব্যক্তিদের নামে মামলা প্রত্যাহার করা এবং ওই হামলায় যাঁরা এখনো পুরোপুরি সুস্থ হতে পারেননি, তাঁদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা।
এসব দাবির বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এবং সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

এ পি এম সুহেল প্রথম আলোকে বলেন, ‘ডাকসুতে সেদিন আমাদের ওপর হামলা হয়। অথচ ওই হামলায় গুরুতর আহত ও মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করাদের বিরুদ্ধেই মামলা দেওয়া হয়েছে। আমরা ওই মামলা উঠিয়ে নেওয়ার দাবি জানাই।’
২০১৯ সালের ২২ ডিসেম্বর ডাকসু ভবনের নিজ কক্ষে নুরুলের ওপর হামলা হয়। এ সময় নুরুলের সঙ্গে থাকা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ও কয়েকটি কলেজের কয়েকজন ছাত্রসহ অন্তত ৩০ জন আহত হন। বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ ও মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের একাংশের নেতা-কর্মীরা এ হামলা চালিয়েছেন বলে আহত ব্যক্তিরা দাবি করেন।

বিজ্ঞাপন

হামলার দুই দিনের মাথায় পুলিশ বাদী হয়ে এ ঘটনায় শাহবাগ থানায় মামলা করে। মামলায় আসামি করা হয়েছে মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের একাংশের সভাপতি আমিনুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক আল মামুন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি সনেট মাহমুদ, সাধারণ সম্পাদক ইয়াসির আরাফাত, এফ রহমান হল শাখার সাধারণ সম্পাদক ইমরান সরকার, জসীমউদ্‌দীন হল শাখার সাধারণ সম্পাদক ইয়াদ আল রিয়াদ, জিয়া হলের সভাপতি তৌহিদুল ইসলাম মাহিম এবং মাহবুব হাসানকে। মাহবুব হাসানের পরিচয় জানা যায়নি। আর গ্রেপ্তার মেহেদি হাসান এজাহারভুক্ত আসামি নন। হামলায় ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরাও অংশ নেন। কিন্তু মামলার এজাহারে হামলার জন্য শুধু মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের নেতা-কর্মীদের দায়ী করা হয়েছে। ছাত্রলীগের বিষয়ে কিছু উল্লেখ করা হয়নি।

পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করার পর ডাকসু ভিপি নুরুল হক ২৫ ডিসেম্বর শাহবাগ থানায় একটি অভিযোগপত্র দেন। সেখানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি সঞ্জিত চন্দ্র দাস, সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেনসহ ছাত্রলীগের ৩৭ জন নেতা-কর্মীর নাম উল্লেখ করেন তিনি। তাঁর দাবি, এই ছাত্রলীগের নেতারা হামলায় প্রত্যক্ষভাবে অংশ নিয়েছেন এবং তাঁর সংগঠনের নেতা-কর্মীদের ২০টি মুঠোফোন ছিনতাই ও তাঁদের পকেটে থাকা ১৫ হাজার টাকা চুরি করে নিয়ে গেছেন।

রাজধানী থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন