বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

কিডনি রোগের ব্যাপকতা বাড়ছে উল্লেখ করে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সাংসদ আসাদুজ্জামান নূর বলেন, মানুষের শারীরিক পরিশ্রম কমে গেছে। ক্রমাগত অলস হয়ে যাচ্ছে। এ আলস্য শরীরে নানা রোগ তৈরি করছে। চিকিৎসাসেবা বাড়ছে যেমন, তেমনি মানুষের সচেতনতাও জরুরি। সচেতন হলেই অসুখ ঠেকানো সম্ভব।

আসাদুজ্জামান নূর আরও বলেন, দেশে কিডনি রোগ ও কিডনি অকেজো রোগীর সংখ্যা ক্রমান্বয়ে বাড়ছে। দুটি কিডনি অচল হলে তখন বেঁচে থাকতে ডায়ালাইসিস বা কিডনি সংযোজনের প্রয়োজন হয়। দেশে এ চিকিৎসাব্যবস্থা থাকলেও তা ব্যয়বহুল। তবে কিছু প্রতিষ্ঠান স্বল্পমূল্যে এ সেবা দিচ্ছে।

default-image

অনুষ্ঠানে ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হয়ে জাতীয় অধ্যাপক এ কে আজাদ খান বলেন, কিডনি রোগের প্রধান কারণ অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপ। এটাকে প্রতিরোধ, প্রতিকার করা যায় সতর্ক থাকলে।

সেমিনারে কিডনি ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি অধ্যাপক হারুন আর রশীদ বলেন, সারা বিশ্বে ৮৫ কোটি মানুষ কিডনি রোগে ভুগছে। বছরে সাত কোটি মানুষ কিডনির রোগের জটিলতায় মারা যায়। দেশে দুই কোটি মানুষ কিডনি–সংক্রান্ত নানা জটিলতায় ভোগে। এর মধ্যে বছরে ৪০ হাজার রোগীর কিডনি আকস্মিক বিকল হয়, যাদের ৮০ শতাংশই মারা যায় কিডনি ডায়ালাইসিস বা সংযোজনের চিকিৎসার অভাবে। তবে আধুনিক চিকিৎসাপদ্ধতিতে ৬০ শতাংশ রোগীর কিডনি জটিলতা নিয়ন্ত্রণে আনা যায়। বাকিদের ওষুধ সেবন করে চিকিৎসা দেওয়া যায়।

হারুন আর রশীদ আরও বলেন, কিডনি রোগের উপসর্গ প্রাথমিকভাবে বোঝা যায় না। যখন বোঝা যায়, তখন বমি ভাব, ক্ষুধামান্দ্য, শরীর ফ্যাকাশে হয়ে যাওয়াসহ নানা উপসর্গ দেখা দেয়। উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে থাকলে কিডনি রোগ প্রতিরোধ করা যায়।

সেমিনারের উদ্বোধনীতে আরও বক্তব্য দেন কিডনি ফাউন্ডেশনের সেক্রেটারি অধ্যাপক মুহিবুর রহমান, সহসভাপতি মেজর জেনারেল (অবসরপ্রাপ্ত) অধ্যাপক জিয়াউদ্দিন আহমেদ।

দুদিনব্যাপী এই সেমিনার আগামীকাল শুক্রবার শেষ হবে। এতে দেশি-বিদেশি চিকিৎসকেরা কিডনি রোগের বিভিন্ন দিক, ডায়াবেটিস রোগের চিকিৎসা, মৃত ব্যক্তির কিডনি থেকে রোগীর শরীরে কিডনি সংযোজনসহ কিডনি রোগের উন্নত চিকিৎসার বিভিন্ন দিক তুলে ধরবেন।

রাজধানী থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন