বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র সেলিনা হায়া আইভী বলেন, ‘ড্যাপে দেখানো হয়েছে, শীতলক্ষ্যার চারপাশে ভারী ও মাঝারি ধরনের কারখানা করার কথা। আমি এখানে সকলের সামনে অনুরোধ করছি, এটা যেন কোনো অবস্থাতেই না হয়। নদীমাতৃক বাংলাদেশকে বাঁচাতে হলে নদীর চারপাশে কেবল শীতলক্ষ্যাই নয়, বুড়িগঙ্গা, তুরাগ, বালু কোনো নদীর পাশেই ভারী স্থাপনা করতে দেওয়া সমীচীন হবে না।’

আইভী বলেন, ড্যাপের বাস্তবায়ন কাদের নিয়ে করবেন। সেটা সিদ্ধান্তের ব্যাপার। এখানে যদিও বলা আছে সংস্থাগুলোর কথা। কিন্তু আদৌ এই সংস্থাগুলো তা সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করতে পারবে কি না। সিটি করপোরেশনের ভেতরে কাজ করতে হলে মেয়রকে প্রাধান্য দিয়েই কাজ করতে হবে। নারায়ণগঞ্জের যে অঞ্চলে রাজউক সেসব অঞ্চলে দ্বৈত শাসন দেখা দিয়েছে।

নগর পরিকল্পনাবিদ অধ্যাপক নজরুল ইসলাম বলেন, বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া নির্বাচিত নেতৃবৃন্দের ওপর দায়িত্ব থাকা উচিত। অবশ্যই রাজউকের সঙ্গে পরামর্শ করেই তারা কাজটা করবে।

ড্যাপের চূড়ান্ত খসড়ায় নিজেদের দেওয়া প্রস্তাবগুলো দেখতে পায়নি বাংলাদেশ স্থপতি ইনস্টিটিউট। প্রতিষ্ঠানটির সভাপতি স্থপতি মোবাশ্বের হোসেন বলেন, ক্যান্টনমেন্ট, পিলখানা, এয়ারপোর্ট — এসব জায়গা ঢাকার কেন্দ্রবিন্দুতে অবস্থিত হলেও সিটি করপোরেশন, রাজউক এবং সরকারের কোনো মন্ত্রণালয়েরই অধিকার প্রায় নেই। এই ব্যাপারে ড্যাপ কী সিদ্ধান্ত নিয়েছে? সত্যিকার অর্থেই ঢাকাকে বাসযোগ্য করতে চাইলে তাদেরও আমাদের সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে হবে।

default-image

ড্যাপের দুর্বলতা তুলে ধরে স্থপতি ইকবাল হাবিব বলেন, প্লাবন ভূমির অযাচিত শ্রেণি বিন্যাস বলবৎ রাখা হয়েছে। এতে করে প্লাবন ভূমিকে মূল জলস্রোত ও সাধারণ জলস্রোত করে ভাগ করা হয়েছে। ২৬ শতাংশ জলস্রোতের মধ্যে মূল জলস্রোত থেকে গেল মাত্র ৯ দশমিক ৭ শতাংশ, আর ১৬ দশমিক ৩ শতাংশ সাধারণ জলস্রোতে চলে গেল। অনেকেই জানেন না, সাধারণ জলস্রোত মানে সেখানে নির্মাণ করা যাবে। এসব বিষয়গুলো নিরসন করেই ড্যাপ চূড়ান্ত করা উচিত বলে মনে করেন তিনি।

বাংলাদেশ পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলনের (বাপা) সাধারণ সম্পাদক শরীফ জামিলের শঙ্কা, অনেক দখলদারদের বৈধতা দেওয়ার পরেই ড্যাপের যাত্রা শুরু হচ্ছে। এটা সাধারণ মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য হবে না।

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী তাজুল ইসলাম বলেন,‘ আমরা কেউ সুউচ্চ ভবনের বিপক্ষে নই। কিন্তু এটি করার জন্য নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করে করতে হবে। যে সব আবাসিক এলাকায় আগেই শিল্প কল-কারখানা গড়ে উঠেছে সেগুলো যদি পরিবেশবান্ধব হয়, জনমানুষের ভোগান্তির কারণ না হয় তাহলে সেই এলাকাকে মিশ্র এলাকা হিসেবে বিবেচনায় নেওয়া হবে।’

যে ড্যাপ প্রস্তাব করা হয়েছে তাই বাস্তবায়ন করা বেশ চ্যালেঞ্জ বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান। তিনি বলেন, তবে সবার সহযোগিতায় এটা বাস্তবায়ন সম্ভব। মন্ত্রী বলেছেন, ডিসেম্বরের মধ্যে চূড়ান্ত করতে পারবেন। এর বাস্তবায়নে যেন আর দেরি না হয়।

সিটি করপোরেশনকে ড্যাপ বাস্তবায়ন কর্তৃপক্ষ হিসেবে গণ্য করলে বেশি ভালো হবে দাবি করে স্থানীয় সরকার বিভাগের সিনিয়র সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ বলেন, ‘আমরা যত দ্রুত সম্ভব ড্যাপ বাস্তবায়ন করতে যাব। বাস্তবায়নের পথে নানারকম বিষয় আসতে পারে। তখন এগুলো সংশোধন, পরিমার্জন করা যেতে পারে।’

default-image

ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) তাকসিম এ খান বলেন, ঢাকায় জলজটের মূল যে কারণগুলো ছিল, সেগুলোকে ড্যাপে চিহ্নিত করা হয়েছে। স্ল্যাব জোনকে উন্মুক্ত রাখা, চারপাশে জলাশয় বা পুকুর রাখার কথা বলা হয়েছে। ঢাকা শহরের মাত্র দুই শতাংশ জলাভূমি আছে। তাহলে বৃষ্টির পানি যাবে কোথায়? এ ছাড়া খালগুলো কেবল জল নিষ্কাশনের জন্য না, আরও ব্যাপার আছে।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মো. সেলিম রেজা বলেন, ‘বৃষ্টির পানি নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে নদীতে গড়াতে হবে। ৩০টি খাল আমরা ব্যবস্থাপনা করছি। এই খালের পাড়ে যেভাবে ভবন নির্মাণ অনুমোদন দেওয়া হচ্ছে, এতে জলজট সৃষ্টির সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। কল্যাণপুরে ১৭০ একর জায়গায় বহুতল ভবন হয়ে গেছে। এসব বিষয়ের সমাধান ড্যাপে থাকা দরকার।’

খসড়া উপস্থাপনের সময় ড্যাপের প্রকল্প পরিচালক মো. আশরাফুল ইসলাম বলেন, ‘গণশুনানিতে প্রায় ৩৯৮ কিলোমিটার নতুন রাস্তা প্রস্তাব করা হয়েছে। সেখানে আমরা নতুন ৬৫৮ কিলোমিটার নতুন রাস্তা প্রস্তাব করেছি। কারণ ঢাকা শহরের বড় সমস্যা পরিবহন।’

এফবিসিসিআইয়ের নতুন সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন বলেন, নীতি এমন হতে হবে যেটা বাস্তবায়নযোগ্য। সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে ড্যাপ সম্পর্কে মতামত জানাবেন বলেও জানান তিনি।

বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহান বলেন, যদি এখন ড্যাপ অনুমোদন না করতে পারেন, তাহলে আর কোনো দিন হয়তো হবে না। এ সময় আরও বক্তব্য দেন গৃহায়ণ ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত সচিব শহীদ উল্লা খন্দকার, রাজউক চেয়ারম্যান এবিএম আমিন উল্লাহ নূরী প্রমুখ।

রাজধানী থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন