সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি। অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগবিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, সংসদ সদস্য সালাম মুর্শেদী, সংসদ সদস্য সফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন, এফবিসিসিআই সভাপতি জসিম উদ্দিন, বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর সাবেক তথ্য উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী, জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক মনজুরুল আহসান বুলবুল, গ্লোবাল টেলিভিশনের প্রধান সম্পাদক সৈয়দ ইশতিয়াক রেজা, একাত্তর টেলিভিশনের প্রধান সম্পাদক মোজাম্মেল বাবু, বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) বিশেষ ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক শামসুল হকসহ অন্যরা।

এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি শেখ ফজলে ফাহিমের সঞ্চালনায় সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন সাবেক এফবিসিসিআই সভাপতি কাজী আকরাম উদ্দীন আহমেদ।

সিপিডির বিশেষ ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, পদ্মা সেতু নির্মাণে যে টাকা খরচ হয়েছে, তার সাড়ে তিন গুণ অর্থ মোট দেশজ উৎপাদন বা জিডিপিতে যোগ হবে। তাঁর মতে, এটিকে শুধু সেতু হিসেবে চিন্তা করলে হবে না, পদ্মা সেতু অর্থনৈতিক করিডরও। ভৌগোলিকভাবে বিচ্ছিন্ন থাকা ২১ জেলা একীভূত হবে। এই ২১ জেলার মধ্যে ১৩ জেলার দারিদ্র্যের হার গড় দারিদ্র্যের হারের চেয়ে নিচে। এর মাধ্যমে অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতি হবে। এ সময় তিনি ঢাকামুখী চাপ এড়াতে ইস্টার্ন বাইপাস, সার্কুলার রোডের উদ্যোগ নিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

বুয়েটের অধ্যাপক শামসুল হক বলেন, এ সেতু অর্থনীতিতে নতুন উদ্দীপনা তৈরি করবে। তবে পদ্মা সেতুকে ঘিরে উন্নয়নটা হচ্ছে এলোমেলোভাবে। এটিকে পরিকল্পিতভাবে উন্নয়ন করতে হবে, শিল্পের ভেতরে যাতে আবাসিক ভবন না হয়। আবার আবাসিক ভবনের ভেতরে শিল্পায়ন না হয়। তিনি আরও বলেন, পদ্মা সেতু চালু হলে ঢাকার ওপর চাপ বাড়বে। এ চাপ এড়াতে ঢাকায় রিং রোড করতে হবে, যাতে বিকল্প চলাচল সুবিধা থাকে।

সেমিনারে সালমান এফ রহমান বলেন, পদ্মা সেতু নিয়ে বিএনপি অনেক কথা বলছে। তা নিয়ে যত কম কথা বলা যায়, ততই ভালো। তিনি বলেন, এটি শুধু সেতু নয়, সারা দেশের সঙ্গে সংযোগও। পদ্মা সেতু হওয়ার পর এখন দ্বিতীয় পদ্মা সেতু করা নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে। পদ্মা সেতুর রিটার্ন বহুমাত্রিক বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা জানান, পদ্মা সেতু নিয়ে ষড়যন্ত্র হয়েছে, এটা সত্য। এই ষড়যন্ত্রের মূল ছিল অনেক গভীরে। ষড়যন্ত্রটা হয়েছিল বাংলাদেশে যেন এত বড় অবকাঠামো না হয়।

এ সময় বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেন, ‘পদ্মা সেতু নিয়ে বিশ্বব্যাংক দুর্নীতির অভিযোগ তোলার পর যখন প্রধানমন্ত্রী নিজের টাকায় এই সেতু করার ঘোষণা দেন, সেই তেজোদ্দীপ্ত ঘোষণা প্রমাণ করে আমরা মাথা নোয়াবার নই। আমাদের দাবিয়ে রাখা যাবে না। আমাদের সেতু বন্ধ করে রাখা যাবে না।’

বাণিজ্যমন্ত্রী আরও বলেন, পদ্মা সেতু চালু হলে পর্যটনের বিকাশ ঘটবে। কৃষির বিকাশ ঘটবে। সবই সত্যি। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী সাহস নিয়ে নিজস্ব টাকায় পদ্মা সেতু নির্মাণ করেছেন। ফলে কীর্তিনাশা পদ্মা সেতু এখন কীর্তিময় পদ্মায় রূপ পেয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নামে পদ্মা সেতু না করার সিদ্ধান্ত সঠিক। তিনি নিজের নামে সেতু করেননি। যত দিন এই সেতু থাকবে তত দিন মানুষের হৃদয়ে তাঁর নাম থাকবে। পদ্মা সেতু শুধু শেখ হাসিনারই নয়, ১৭ কোটি মানুষের কৃতিত্ব।

এফবিসিসিআই সভাপতি জসিম উদ্দিন বলেন, পদ্মা সেতু চালু হলে পর্যটন খাতের ব্যাপক উন্নয়ন ঘটবে। মোংলা ও পায়রা বন্দরের ব্যবহার কয়েক গুণ বাড়বে। দক্ষিণাঞ্চলে নতুন নতুন পর্যটনকেন্দ্র গড়ে উঠবে। তিনি বলেন, ‘এখন আমরা শুধু চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের দিকে ঘুরতে যাই। পদ্মা সেতু হলে দক্ষিণাঞ্চলের জেলাগুলোতে পর্যটনকেন্দ্র গড়ে উঠবে। কৃষিভিত্তিক অর্থনীতির বিকাশ ঘটবে।’

সংসদ সদস্য সালাম মুর্শেদী বলেন, ‘পদ্মা সেতু আমাদের অহংকার। এটি আমাদের জন্য গর্বের। পদ্মা সেতুর মাধ্যমে প্রমাণ হয়েছে বাংলাদেশ নিজেদের টাকায় বড় বড় অবকাঠামো নির্মাণে সক্ষম।’

রাজধানী থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন