বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
default-image

ঢাকা নগর পরিবহনের বাস সেবা কেমন চলছে, তা সরেজমিনে দেখতে এই প্রতিবেদক আজ সকাল ১০টায় ঘাটারচর থেকে একটি বাসে ওঠেন। কাউন্টারে গিয়ে গন্তব্য জানাতেই টিকিট বিক্রেতা একটি যন্ত্রের বোতাম চাপেন। এতে একটি টিকিট বেরিয়ে আসে। বাসে উঠে দেখা গেল, যাত্রী কম। নির্দিষ্ট সময় পরই বাসটি ছাড়ে। ঢাকার ধানমন্ডির ঝিগাতলা আসতেই অবশ্য সব আসন পূর্ণ হয়ে যায়। দাঁড়িয়ে কোনো যাত্রী নেওয়া হয়নি।

ঢাকা নগর পরিবহনসেবার অধীনে থাকা ট্রান্সসিলভা পরিবহনের একটি বাসের চালক সুমন আহমেদ। তিনি তিন বছর ধরে এই রুটে বাস চালান। প্রথম আলোকে তিনি বলেন, আগে মালিকের জমা ওঠানোর দুশ্চিন্তা কাজ করত। এখন যে পদ্ধতিতে তিনি গাড়ি চালাচ্ছেন, এই পদ্ধতি পুরোই আলাদা। এখন বাস চালাতে হচ্ছে শৃঙ্খলার মধ্যে থেকে। দিন শেষে কত টাকা আয় হলো এ নিয়ে তাঁকে কোনো চাপ নিতে হচ্ছে না।
ঘাটারচর থেকে চিটাগাং রোড পর্যন্ত গিয়ে এই প্রতিবেদক আবার ঢাকা নগর পরিবহনের আরেকটি বাসে ওঠেন। এবার গন্তব্য ঘাটারচর। পথে দেখা যায়, বাসে বাসে পাল্লা দেওয়া ও ঘষা দেওয়ার কোনো প্রবণতাই নেই। অবশ্য যাত্রীরা যত্রতত্র নামানোর জন্য চাপ দেন। দাঁড়িয়ে যাত্রী নেওয়া হয় না।

হুমায়ুন কবির নামের এক যাত্রী প্রথম আলোকে বলেন, তাঁর সন্তুষ্টির জায়গা হচ্ছে তিনি ঝক্কিঝামেলা ছাড়াই বাসে উঠে আসন পেয়েছেন।

‘অন্য বাস চলবে না’

ঘাটারচর থেকে কাঁচপুর রুটে নামানো ৫০টি বাসের মধ্যে বিআরটিসির দোতলা বাস রয়েছে ৩০টি। আর ট্রান্সসিলভা নামের বেসরকারি একটি প্রতিষ্ঠানের বাস রয়েছে ২০টি। এর বাইরে এই রুটে আরও ১৬০টি বাস চলাচল করছে বলে জানিয়েছেন এই রুটের রজনীগন্ধা পরিবহনের চেয়ারম্যান আবদুল কাদের।

যদিও বাস রুট রেশনালাইজেশন কমিটির ২০তম সভায় জানানো হয়েছিল, ২০১৯ সালের পর থেকে ঘাটারচর থেকে কাঁচপুর রুটে চলাচলকারী বাসগুলোর রুট পারমিট নেই। এসব বাস চলতে দেওয়া হবে না।

বাস রুট রেশনালাইজেশন কমিটির সদস্য ও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র মো. আতিকুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, বাসমালিকদের অসহযোগিতার কারণে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দিয়ে তাঁরা বাস সংগ্রহ করেছেন। নতুন এই যাত্রায় শুরুতে কিছু ভুলত্রুটি থাকবে। পর্যায়ক্রমে তাঁরা এর সমাধান করবেন।

রুট পারমিটবিহীন বাস জব্দের ঘোষণা দিয়েও অভিযান না চালানোর বিষয়ে জানতে চাইলে মো. আতিকুল ইসলাম বলেন, দিন–তারিখ ঠিক করে তাঁরা অভিযান চালাবেন না। এভাবে অভিযান চালালে রুট পারমিটবিহীন গাড়ি রাস্তায় নামে না। তাঁরা হুট করে অভিযানে নামবেন। দুই মাসের মধ্যে ঢাকা নগর পরিবহনের ১০০টি বাসের বাইরে অন্য কোনো বাস এই রুটে চলবে না।

default-image

ছয় বছর আগের উদ্যোগ

ঢাকায় সড়ক দুর্ঘটনার একটি বড় কারণ ধরা হয় বেপরোয়া বাস চালানোকে। মালিকেরা চালকদের হাতে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা জমার শর্তে বাস তুলে দেন। সেই টাকা ওঠাতে যাত্রী পেতে মরিয়া থাকেন বাসচালকেরা। বাসগুলো একটি অন্যটির সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে গিয়ে ধাক্কাধাক্কি করে।

২০১৫ সালে উত্তর সিটির প্রয়াত মেয়র আনিসুল হক রাজধানীতে নতুন চার হাজার বাস নামানোর উদ্যোগ নিয়েছিলেন। তাঁর চিন্তা ছিল, একটি রুটে একটি কোম্পানির অধীনে চালানো হলে বাসে বাসে প্রতিযোগিতা রোধ হবে, দুর্ঘটনা কমবে, শৃঙ্খলা ফিরবে। পাশাপাশি যাত্রীসেবার মান বাড়বে।

মেয়র আনিসুল হক মারা যাওয়ার পর এই উদ্যোগ বাস্তবায়নের দায়িত্ব যায় দক্ষিণ সিটির সাবেক মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকনের হাতে। তিনি বাস রুট রেশনালাইজেশন কমিটির ১১টি বৈঠক করেন। সেবাটি আলোর মুখ দেখেনি। নতুন মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস দায়িত্ব নেওয়ার পর ৯টি সভা করেন। এর মধ্যে তিন দফা বাস নামানোর ঘোষণা দেন। তবে পারেননি। অভিযোগ ছিল, বেসরকারি বাসমালিকেরা এতে সহায়তা করছেন না।

বাস রুট রেশনালাইজেশন কমিটির একটি সভায় গত ২৮ নভেম্বর বাসমালিকদের উদ্দেশে শেখ ফজলে নূর তাপস বলেন, ‘ঢাকাবাসীকে জিম্মি করে এই অরাজকতা দিনের পর দিন চলবে না। আই উইল মেক ইট হ্যাপেন (আমি এটা করে দেখাব)।’

ঢাকা নগর পরিবহন ঘাটারচর–কাঁচপুর রুটে চালু হয়েছে। এখন সেটি সফল করা ও রাজধানীর অন্যান্য রুটে চালু করাই চ্যালেঞ্জ। যাত্রীরা চাইছেন, পুরো ঢাকায় সেবাটি চালু হোক। যেমন ঢাকা নগর পরিবহনের যাত্রী হুমায়ুন কবির বলছিলেন, পুরো ঢাকায় এই ব্যবস্থা চালু না হলে সড়কে শৃঙ্খলা ফিরবে না।

রাজধানী থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন