র‍্যাব সূত্র জানায়, র‍্যাব-৪–এর একটি দল মঙ্গলবার দিবাগত রাতে মিরপুর বেড়িবাঁধ রোডের নবাবের পাকার মাথার এলাকায় অভিযান চালায়। সেখান থেকে জঙ্গি সংগঠন আনসার আল ইসলামের তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়। র‍্যাব বলেছে, গ্রেপ্তার হওয়া জঙ্গিরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে চরমপন্থার উসকানি দেওয়ার প্ল্যাটফর্ম হিসেবে ব্যবহার করে আসছিলেন।

র‍্যাব-৪–এর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গ্রেপ্তার মাহফুজুর রহমান পেশায় শিক্ষক। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন বেনামি আইডি ব্যবহার করে আনসার আল ইসলামের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করতেন। তিনি কুমিল্লার নাঙ্গলকোট থানা এলাকায় তিন বছর ধরে আনসার আল ইসলামের কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিলেন। তিনি অনলাইনে ও অফলাইনে বিভিন্ন বক্তব্য এবং উগ্রবাদী ভিডিও প্রচার করে সংগঠনের জন্য তহবিল সংগ্রহ ও নতুন নতুন সদস্য সংগ্রহ করে আসছিলেন।

জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার লোকমান হোসেন র‍্যাবকে বলেছেন, তিনি ছাত্র। তিনিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন বেনামি আইডি ব্যবহার করে আনসার আল ইসলামের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করতেন এবং আনসার আল ইসলামের সদস্যদের নিয়ে অনলাইনভিত্তিক কর্মপরিকল্পনাসহ উদ্বুদ্ধকরণের জন্য বিভিন্ন বক্তব্য এবং উগ্রবাদী ভিডিও প্রচার করে আসছিলেন। তিনি কম্পিউটার ও গ্রাফিকস ডিজাইনে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত হওয়ায় বিভিন্ন উগ্রবাদী ছবি, ভিডিও, লেখা, মতবাদ প্রচার করে নতুন সদস্যদের উদ্বুদ্ধ করে আসছিলেন। তিনি তিন বছর ধরে ঢাকা ও বরিশালে অবস্থানরত আনসার আল ইসলামের সদস্যদের সঙ্গে সরাসরি দেখা করে বিভিন্ন দিকনির্দেশনা নিতেন বলে জানান।

র‍্যাবের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, জিজ্ঞাসাবাদে শিপন মিয়া বলেন, তিনি পেশায় স্পিনিং মিলের শ্রমিক। তিনি আনসার আল ইসলামের সক্রিয় সদস্য হিসেবে অন্য সদস্যদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ স্থাপনের পাশাপাশি অন্যদের উদ্বুদ্ধকরণের জন্য অনলাইনে বিভিন্ন উগ্রবাদী লেখালেখি ও ভিডিও প্রচার করে আসছিলেন। তিনি দুই বছর ধরে আনসার আল ইসলামের সঙ্গে জড়িত থেকে ঢাকার সাভার ও গাজীপুরের শ্রীপুর এলাকায় আনসার আল ইসলামের সদস্যদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ করতেন বলে জানান।

রাজধানী থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন