default-image

নাগরিক তথ্যভান্ডার সিটিজেন ইনফরমেশন ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমসে (সিআইএমএস) সম্প্রতি গ্রেপ্তার হয়েছেন এমন কিছু ব্যক্তির তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না। এই প্রেক্ষাপটে সোমবার আবার ‘নাগরিক তথ্য সংগ্রহ পক্ষ’ শুরু করতে যাচ্ছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ডিএমপি জানিয়েছে, ১ থেকে ১৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত তথ্য সংগ্রহের কাজ চলবে।

রোববার ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) সদর দপ্তরে এ সম্পর্কিত একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন ডিএমপি কমিশনার মোহা. শফিকুল ইসলাম। নগরবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রাজধানীতে থাকা সব নাগরিককে তথ্য দিয়ে সংশ্লিষ্ট থানার বিট অফিসারদের সহায়তা করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ডিএমপি জানায়, করোনায় ঢাকা মহানগরীর অনেক ভাড়াটিয়া পরিবারসহ ঢাকা শহর ছেড়ে যান। অনেক ক্ষেত্রে পরিবারের পরিবর্তে ‘ব্যাচেলর’দের (অবিবাহিত) বাসা ভাড়া দেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি ডিএমপি কিছুসংখ্যক অপরাধী গ্রেপ্তার করেছে। সিআইএমএসে তাঁদের ব্যাপারে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। নাগরিক তথ্য সংগ্রহের প্রক্রিয়াটি অপরাধ প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা হিসেবে সহায়ক ভূমিকা পালন করে থাকে। তা ছাড়া কোনো অপরাধ ঘটলে নাগরিক তথ্য কাজে লাগিয়ে ঘটনার রহস্য সহজেই উদঘাটন করা যায়।

বিজ্ঞাপন

এবারের ‘নাগরিক তথ্য সংগ্রহ পক্ষে’ প্রতিটি বিটে নতুন ভাড়াটিয়া ও বাড়িওয়ালাদের তথ্য সংগ্রহ করা হবে। সে ক্ষেত্রে যেসব ভাড়াটিয়া বাসা বদলেছেন, তাঁদের তথ্য হালনাগাদ করা হবে। বিভিন্ন অপরাধী ও জঙ্গি সংগঠনের সদস্যরা বাড়ির মালিককে ভুয়া নাম–ঠিকানা দিয়ে বাসা ভাড়া নিচ্ছে কি না, সে ব্যাপারে বাড়ির মালিকদের সচেতন করাও এই পক্ষের উদ্দেশ্য। তা ছাড়া প্রতিটি বিটে পেশাদার খুনি, অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী, ডাকাত, চোর, ছিনতাইকারী, মাদকসংক্রান্ত অপরাধী, নারী উত্ত্যক্তকারী, জঙ্গিবাদের সঙ্গে সম্পৃক্ত ও সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের নাম হালনাগাদ করা হবে। পুলিশ বলছে, তারা চায় বাড়িওয়ালারা সন্দেহভাজন লোক, অস্থায়ী কর্মচারী ও নিরাপত্তারক্ষীদের সম্পর্কে বিট অফিসারদের তথ্য দিক।


সোমবার শুরু হতে যাওয়া ‘নাগরিক তথ্য সংগ্রহ পক্ষ’ নিয়ে অনুষ্ঠিত সভায় ডিএমপির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

২০১৬ সাল থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে নাগরিকদের তথ্য সংগ্রহ করছে ডিএমপি। ২০১৯ সালের ১৩ জুন পর্যন্ত সিআইএমএস সফটওয়্যারে বাড়িওয়ালা ছিলেন ২ লাখ ৪১ হাজার ৫০৭ জন, ভাড়াটে ১৮ লাখ ২০ হাজার ৯৪, মেসের সদস্য ১ লাখ ২১ হাজার ৪০, অন্যান্য ১ হাজার ১০০, পরিবারের সদস্যসংখ্যা ৩১ লাখ ৬৬ হাজার ৮২১, চালক ও গৃহকর্মী ৮ লাখ ৮৩ হাজার ৯৮৪ জনসহ মোট ৬২ লাখ ৩৪ হাজার ৫৪৭ জনের তথ্য সংরক্ষিত আছে।


এই সিস্টেমে প্রত্যেক নাগরিকের জন্য একটি ইউনিক ইনডেক্স নম্বর রয়েছে। ওই নম্বর দিয়ে সিস্টেমে সার্চ দিলে কাঙ্ক্ষিত নাগরিকের বিস্তারিত তথ্য জানার ব্যবস্থা আছে।

বিজ্ঞাপন
রাজধানী থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন