বিজ্ঞাপন

গতকাল বুধবার কবিরের কোহিনূর ক্লথ স্টোরে গিয়ে দেখা গেল, বেলা দুইটা পর্যন্ত এক টাকারও বেচাকেনা হয়নি। ব্যবসায় লোকসানের মুখে পড়া কবির আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, বহু বছর ধরে জাকাতের কাপড় বিক্রির ব্যবসা করে আসছেন। তবে করোনায় গত বছর ঈদের সময়ও কোনো ব্যবসা করতে পারেননি। এ বছরও ঈদের সময় বিক্রি অর্ধেকে নেমে এসেছে।

অবশ্য ইসলামপুর বস্ত্র ব্যবসায়ী সমিতি সাধারণ সম্পাদক নেসার উদ্দিন মোল্লা প্রথম আলোকে বলেন, করোনার কারণে গত বছরের ঈদের আগে ব্যবসা হয়নি। তবে এ বছর ইসলামপুরে যা বেচাকেনা হয়েছে, তাতে কোনো ব্যবসায়ী সন্তুষ্ট নন। জাকাতের কাপড়ও বিক্রি কম। স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় চলতি বছরে জাকাতের কাপড়ের বেচাকেনা কম হয়েছে।

করোনায় গত বছরের ২৬ মার্চ থেকে টানা ৬৬ দিন সরকারি ছুটিতে সরকারি-বেসরকারি অফিস, দোকানপাট, শপিং মল—সব বন্ধ ছিল। গত বছরের ঈদুল ফিতরের আগে ব্যবসা হয়নি। দোকানপাট খোলার পর ইসলামপুরের পাইকারি ব্যবসায়ীরা আগের বছরের ব্যবসায়িক ক্ষতি পুষিয়ে ওঠার জন্য বিনিয়োগ করেন। তবে অপ্রত্যাশিতভাবে করোনার প্রকোপ বাড়লে গত ৫ এপ্রিল থেকে দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায়। বেচাকেনার ভরা মৌসুমে দোকানপাট বন্ধের খবরে ইসলামপুরের ব্যবসায়ীদের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়ে। অবশ্য গত ২৫ এপ্রিল থেকে দোকানপাট খুললেও ইসলামপুরের পাইকারি কাপড়ের দোকানের বেচাকেনা আর জমে ওঠেনি। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন জাকাতের কাপড় ব্যবসায়ীরা।

কয়েক বছর ধরে ইসলামপুরে জাকাতের শাড়ি বিক্রি করে আসছে মেসার্স জয়নাল অ্যান্ড সন্স। প্রতিষ্ঠানটির বিক্রয়কর্মী মোহাম্মদ রকি প্রথম আলোকে বলেন, রমজান মাসজুড়ে জাকাতের কাপড় বিক্রি হয়। কিন্তু এ বছর তো বিক্রি সেভাবে হয়নি।
ইসলামপুরের কাপড় ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেল, করোনায় গত এক বছরে ব্যবসা-বাণিজ্যে মন্দাভাব, বহু মানুষ চাকরি হারিয়েছেন। অর্থাৎ প্রতিবছর বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার যেসব মানুষ জাকাত দিতেন, আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ে তাঁদের অনেকে এবার আর জাকাত সেভাবে দিচ্ছেন না। এ বছর জাকাতের শাড়ি-কাপড় বিক্রি কমের এটাই অন্যতম কারণ।

ইসলামপুর বস্ত্র ব্যবসায়ী সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক শামীম হোসাইন প্রথম আলোকে বলেন, ‘ঈদুল ফিতরের আগে মূলত কাপড়ের বেচাকেনা জমে ওঠে। করোনায় গত বছর ঈদের সময়ও কোনো বেচাকেনা হয়নি। আমরা আশা করেছিলাম, এ বছরের ঈদের আগে অন্তত বেচাকেনা ভালো হবে। ঈদের আগে স্বাভাবিক সময়ে যে বেচাকেনা হয়, তার অর্ধেকের মতো হয়েছে।’

ইসলামপুরের ১০টি কাপড়ের দোকান ঘুরে দেখা গেল, জাকাতের লুঙ্গির দাম ১৭০ থেকে ৪৫০ টাকা। আর শাড়ির দাম ২৫০ থেকে ৫০০ টাকা। পাইকারি বিক্রি কমে যাওয়ায় অনেক দোকান জাকাতের কাপড়ও খুচরাও বিক্রি করছে। শুধু ইসলামপুরে কাপড়ের দোকানের সংখ্যা প্রায় ১০ হাজার। এর মধ্যে জাকাতের কাপড় বিক্রির দোকানের সংখ্যা প্রায় ৫০০।

ইসলামপুর থেকে জাকাত দেওয়ার জন্য ১০ পিচ শাড়ি কেনেন কেরানীগঞ্জের বাসিন্দা আবদুল্লাহ হোসাইন। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, পেশায় তিনি একজন ব্যবসায়ী। অন্যান্যবার বেশি মানুষকে জাকাতের শাড়ি–লুঙ্গি দিতে পারলেও এ বছর অত বেশি মানুষকে জাকাত দেওয়া তাঁর পক্ষে সম্ভব নয়।

রাজধানী থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন