বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

মারধরের শিকার হওয়া পাঁচ ছাত্র হলেন আল আমিন, মো. রুবেল, মো. ইমন, মো. বুলবুল ও মো. রানা। যাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, ছাত্রলীগের সেই কর্মীরা হলেন ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের লালন হোসেন, মার্কেটিং বিভাগের এস এম আসিফ হোসেন ও মো. আরিফুল ইসলাম এবং সংগীত বিভাগের মো. তাওসিফ। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ও অভিযোগ ওঠা কর্মীরা সবাই হল শাখা ছাত্রলীগ নেতা সালাহউদ্দিন আহমেদের নিয়ন্ত্রণে থাকা বিভিন্ন কক্ষে থাকেন।

আবাসনসংকটের কারণে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের গণরুমে গাদাগাদি করে থাকার ঘটনা নতুন নয়। বরাবরই ক্ষমতাসীন দলের ছাত্রসংগঠন এই কক্ষগুলো নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। এসব কক্ষে ওঠা প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের বাধ্যতামূলকভাবে ক্ষমতাসীনদের রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নিতে হয়; সম্মুখীন হতে হয় গেস্টরুমের বিভীষিকার। হলগুলোর অতিথিকক্ষে ‘আদবকায়দা’ শেখানোর নামে মানসিক নিপীড়নকে (কখনো কখনো শারীরিকও) বলা হয় ‘গেস্টরুম’ সংস্কৃতি। ক্ষমতাসীন দলের ছাত্রসংগঠনের সক্রিয় কর্মীরা প্রথম বর্ষের সাধারণ শিক্ষার্থীদের এমন গেস্টরুম করিয়ে থাকেন।

গতকালের ঘটনার বিষয়ে স্যার এ এফ রহমান হলের ভুক্তভোগী ছাত্ররা বলেন, গত মঙ্গলবার রাতে প্রথম বর্ষের এক ছাত্রকে মারধরের ঘটনায় হল শাখা ছাত্রলীগের শীর্ষ পদপ্রত্যাশী সালাহউদ্দিন আহমেদ গেস্টরুম শিথিল করার নির্দেশ দেন। সেই আনন্দে প্রথম বর্ষের বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী ফেসবুকে ‘ঈদ মোবারক’ ও ‘আলহামদুলিল্লাহ’ লিখে পোস্ট দেন। পোস্ট দেখে ছাত্রলীগের ওই কর্মীরা গতরাত ১০টায় গেস্টরুমে তাঁদের তলব করেন। সেখানে হাজির হলে কর্মীরা তাঁদের মারধর করেন।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ছাত্রলীগ কর্মী আরিফুল ইসলাম দাবি করেন, ‘মারধরের ঘটনা সত্য নয়। আমাদের নিয়ে গুজব ছড়ানো হচ্ছে।’ অপর তিন কর্মীও একই দাবি করেছেন।

তবে ওই কর্মীরা যাঁর অনুসারী, সেই সালাহউদ্দিন আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, ‘১৬ নভেম্বর আমাদের হলে একটি মারধরের ঘটনার প্রেক্ষাপটে আমি দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থীদের গেস্টরুম করাতে নিষেধ করি। এরপর আবেগের বশে প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীরা ফেসবুকে আলহামদুলিল্লাহ ও ঈদ মোবারক লিখে পোস্ট দেন। দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থীরা পোস্টগুলো দেখার পর আমাদের না জানিয়েই প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের তাৎক্ষণিকভাবে গেস্টরুমে ডেকে বকাঝকা করেন। তবে কাউকে মারধর করা হয়েছে বলে শুনিনি।’

এ বিষয়ে জানতে স্যার এ এফ রহমান হলের প্রাধ্যক্ষ কে এম সাইফুল ইসলাম খানের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়।

অন্যদিকে এ ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, তাঁরা বিষয়টি দেখছেন। মারধর বা নিপীড়নের ন্যূনতম সত্যতা পাওয়া গেলে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

রাজধানী থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন