গত ২৯ নভেম্বর সিলগালা করে দেয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। কিন্তু কক্ষগুলোতে কয়েক লাখ টাকায় ‘স্পিচ থেরাপি ক্লিনিক ও অডিওলজি ল্যাব’ স্থাপন করেছে যোগাযোগ বৈকল্য বিভাগ। এ জন্য ২ ডিসেম্বর বিভাগের শিক্ষার্থীরা কর্তৃপক্ষের লাগানো তালা ভেঙে কক্ষগুলোর নিয়ন্ত্রণ নেন। পরে আবার কর্তৃপক্ষও সেখানে তালা ঝুলিয়ে দেয়।

সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের অধীনে ১৬টি বিভাগ রয়েছে। অনুষদের ১১ তলাবিশিষ্ট নিজস্ব ভবনে ১৩টি বিভাগকে বরাদ্দ দেওয়া হয়। তিনটি (নৃবিজ্ঞান, উইমেন অ্যান্ড জেন্ডার স্টাডিজ এবং পপুলেশন সায়েন্সেস) বিভাগের কার্যক্রম এখনো কলাভবনে চলছে। কিন্তু অভিযোগ উঠেছে, সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদভুক্ত বেশির ভাগ বিভাগ নিজস্ব ভবনে যাওয়ার আগে কলাভবনে ব্যবহৃত কক্ষগুলো বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থান বরাদ্দ কমিটিকে বুঝিয়ে দেয়নি। পরে বিষয়টির সমাধানে স্থান বরাদ্দ কমিটির চেয়ারম্যান বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ–উপাচার্য (প্রশাসন) মুহাম্মদ সামাদকে একটি যৌথ চিঠি দেন কলা অনুষদের দুই শতাধিক শিক্ষক। পরে স্থান বরাদ্দ কমিটির সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, কলাভবনে ব্যবহৃত যোগাযোগ বৈকল্য বিভাগের তিনটি কক্ষেও সিলগালা করে দেওয়া হয়।

এই বিভাগের একাধিক শিক্ষার্থী বলেন, বিভাগকে কিছুই না জানিয়ে কক্ষগুলো সিলগালা করে দেওয়া হয়। এ জন্য তাঁরা কলাভবনের ওই তিন কক্ষের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছিলেন। কারণ, তাঁরা ল্যাব ও ক্লিনিকে প্রবেশের অধিকার চান।

যোগাযোগ বৈকল্য বিভাগের চেয়ারপারসন তাওহিদা জাহান বলেন, ‘সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদ ভবনের অষ্টম তলার অর্ধেক অংশ আমরা বরাদ্দ পেয়েছি। কিন্তু এখানে ল্যাব স্থাপনের মতো জায়গা নেই। এ ছাড়া বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের সেন্সরি (সংবেদনশীলতা) সমস্যা থাকায় তাঁরা লিফটে উঠতে ভয় পায়। তাই কলাভবনের দ্বিতীয় তলায় ল্যাব ও ক্লিনিক রাখার বিষয়ে শুরু থেকেই আমরা অনুরোধ জানিয়ে আসছি।’ না জানিয়ে ব্যবহৃত কক্ষগুলো সিলগালা করার বিষয়টিকে অপ্রত্যাশিত বলছেন তিনি।

যোগাযোগ বৈকল্য বিভাগ কলাভবনে কক্ষের জন্য আবেদন করলে সে বিষয়ে স্থান বরাদ্দ কমিটি সিদ্ধান্ত নেবে বলে মনে করেন কলা অনুষদের ডিন আবু মো. দেলোয়ার হোসেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ–উপাচার্য (প্রশাসন) মুহাম্মদ সামাদ বলেছেন, কলাভবনের কক্ষ সিলগালা করার বিষয়ে তাঁর কাছে কোনো অভিযোগ আসেনি। অভিযোগ এলে স্থান বরাদ্দ কমিটির সভায় বিষয়টি উত্থাপন করা হবে।