বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

ইতিমধ্যে খুলেছে বিশ্ববিদ্যালয়। শিক্ষার্থীরা ফিরেছেন ক্যাম্পাসে। বিভাগের ক্লাস-পরীক্ষা, ক্যাম্পাসের আড্ডা—সবই হয়তো আগের মতো হবে। তবে আড্ডাগুলোতে আর থাকছেন না রবিন। তিনি যে এখন না–ফেরার দেশে।

রবিনের সহপাঠী সাইফুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, ‘স্নাতকোত্তর পরীক্ষার আগে যখন স্যারদের ক্লাসের রেকর্ডগুলো শুনছিলাম, প্রায়ই রবিনের কথা শোনা যাচ্ছিল। কিন্তু বন্ধুর আর পরীক্ষা দেওয়া হয়নি। আমরা সবাই ফিরেছি। শুধু ফিরল না রবিন।’

সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী রবিন হালদারের মতো এমন মন খারাপের আরও গল্প তৈরি হয়েছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে। ২০২১ সালে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ৩৬টি বিভাগ ও ইনস্টিটিউটের মোট ১১ শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ৯ শিক্ষার্থী নিয়মিত। বাকি দুজন প্রাক্তন। চাকরির প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন তাঁরা। এসব মৃত্যুর কারণ ছিল আত্মহত্যা, অসুস্থতা, দুর্ঘটনা। আর গত বছর বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের তিন শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে।

মে মাসের ৩ তারিখে মাওয়ায় স্পিডবোট দুর্ঘটনায় প্রাক্তন শিক্ষার্থী শাহাদাত হোসেনের মৃত্যু হয়েছে। তিনি ২০১০-১১ শিক্ষাবর্ষের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন। চাকরির পরীক্ষা দিতে ঢাকায় আসার পথে দুর্ঘটনার শিকার হন এই শিক্ষার্থী।

এ ঘটনার আগের মাসে ১২ জুলাই জ্বর ও শ্বাসকষ্টজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী রাহাত আরা রিমির মৃত্যু হয়।

বছরের ২৮ আগস্ট চট্টগ্রাম নগরীর আখতারুজ্জামান ফ্লাইওভার থেকে পড়ে গুরুতর আহত হওয়ার চার দিন পর ১ সেপ্টেম্বর চিকিৎসাধীন অবস্থায় আকবর হোসেনের মৃত্যু হয়। আকবর বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের ব্যবস্থাপনা বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন। তাঁর বাড়ি সিলেটের মৌলভীবাজারে। তাঁর এই মৃত্যু হত্যা নাকি আত্মহত্যা, তা নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ।

এ ঘটনার এক সপ্তাহ আগে ২২ আগস্ট রাজধানীর উত্তরার একটি কোচিং সেন্টার থেকে মেজবাহ উল আজিম নামের এক শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। আজিম বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের জেনেটিকস ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন। প্রেমঘটিত সমস্যার কারণে তিনি আত্মহত্যা করেছেন বলে ধারণা তাঁর সহপাঠীদের।

সেপ্টেম্বরে মারা যান তিন শিক্ষার্থী। সেপ্টেম্বরের ৯ তারিখে জ্বরে আক্রান্ত হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী আল আমিন লেবুর মৃত্যু হয় বলে জানান সহপাঠীরা।

২৯ সেপ্টেম্বর গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী অমিতোষ হালদারের মৃতদেহ গ্রামের বাড়ি থেকে উদ্ধার করে পুলিশ। অমিতোষের গ্রামের বাড়ি গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার সাহাপুর ইউনিয়নের পাটিকেলবাড়ি পূর্বপাড়া গ্রামে। পুলিশ ও স্বজন কেউ তাঁর মৃত্যুর কারণ জানতে পারেননি।

সেপ্টেম্বরের ১৩ তারিখ রাজধানী বাড্ডার একটি বাসার নিচ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী চন্দন পার্সির লাশ পায় পুলিশ। ২০১২-১৩ শিক্ষাবর্ষের ওই শিক্ষার্থী ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেছেন। পুলিশের ধারণা, হতাশাগ্রস্ত হয়ে বাসার ছাদ থেকে লাফিয়ে আত্মহত্যা করেছেন চন্দন।

২০ অক্টোবর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমি ব্যবস্থাপনা ও আইন বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী সুমাইয়া মেহজাবিন স্বর্ণার মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। গ্রামের বাড়ি সাতক্ষীরা সদর উপজেলার পলাশপোল মধুমাল্লার ডাঙ্গী গ্রামে তাঁর লাশ পাওয়া যায়। বিভাগের পড়াশোনার চাপের কারণে শিক্ষকের প্রতি ক্ষোভ থেকে তিনি আত্মহত্যা করেছেন বলে দাবি সহপাঠীদের।

সড়ক দুর্ঘটনায় গত ১৮ ডিসেম্বর নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলায় ইটবাহী ট্রাকচাপায় গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী সাবরিনা আক্তারের মৃত্যু হয়। সর্বশেষ ২২ ডিসেম্বর রাজধানীর হাতিরঝিল এলাকার এক বাসা থেকে সদ্য ভর্তি হওয়া ব্যবস্থাপনা বিভাগের শিক্ষার্থী মেহেবুল্লাহ তৌসিফের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। মানসিক হতাশা থেকে তিনি আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন বলে দাবি তাঁর স্বজনদের।

রাজধানী থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন