বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

রাজধানীর গুলশান ২ নম্বরের ছয়তলা একটি আবাসিক ভবনে লাগা আগুনে মা-ছেলের পাশাপাশি তাদের বাসার গৃহকর্মী মণি দগ্ধ হয়ে শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি আছেন। এদিকে রাফিনের বাবা ব্যাংক কর্মকর্তা এ এম রফিকুল ইসলাম (৩৫) সামান্য আহত হয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।
শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আবাসিক সার্জন এস এম আইউব হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, দগ্ধ হয়ে ভর্তি তিনজনের অবস্থাই আশঙ্কাজনক।

আজ বুধবার বেলা সাড়ে ১১টার পর গুলশান-২–এর ১০৩ নম্বর সড়কের ৩৮ নম্বর ভবনের দোতলায় ওই আগুন লাগে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের আটটি ইউনিট এক ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা বলেন, এসির বিস্ফোরণ থেকে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
স্বজনেরা জানান, অগ্নিকাণ্ডের সময় আহত মালিহা আনহা দোতলায় শয়নকক্ষে ছিলেন। ওই কক্ষেই এসির বিস্ফোরণ ঘটে। তাঁর সঙ্গে ছিল দুই বছরের শিশু রাফিন। মালিহার স্বামী রফিকুল ইসলাম ও ছয় বছরের সন্তান মো. রাসিন ছিল অন্য একটি কক্ষে। বিস্ফোরণে রফিকুল সামান্য আহত হলেও রাসিন অক্ষত আছে।
খবর পেয়ে শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ছুটে আসেন মালিহা–রফিকুল দম্পতির স্বজনেরা। তাঁরা ইনস্টিটিউটের সামনে আহাজারি করছিলেন। মালিহার বাবা মহিউদ্দিন আহমেদ এদিক-ওদিক ছোটাছুটি করছিলেন। তিনি বারবার বলছিলেন, ‘আমার মেয়ের এখন কী হবে?’ স্বজনেরা তাঁকে সান্ত্বনা দিচ্ছিলেন।

ফায়ার সার্ভিসের বারিধারা স্টেশনের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা মো. ফরহাদুজ্জামান প্রথম আলোকে বলেন, ‘এখনই আগুন লাগার কারণ নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়। তবে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, হঠাৎ বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে। দোতলার চারটি কক্ষের মধ্যে তিনটি কক্ষই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একটি কক্ষে এসি বিস্ফোরিত অবস্থায় পাওয়া গেছে। এসি বিস্ফোরণের কারণে দেয়ালও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ থেকে ধারণা করা হচ্ছে, এসির বিস্ফোরণ থেকেই আগুন লেগেছে। তবে তদন্তের পর নিশ্চিত করে আগুন লাগার কারণ সম্পর্কে জানা যাবে।’

রাজধানী থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন