default-image

ভাড়াটিয়া পরিষদ বলছে, রোজা আসার আগেই নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের বাজারে আগুন লেগেছে। প্রতিদিনই লাগামহীনভাবে বাড়ছে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম। সবকিছুরই দাম বাড়ায় দিশেহারা সাধারণ, নিম্ন ও মধ্য আয়ের মানুষ।

আজ শনিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এক মানববন্ধন থেকে এসব কথা বলে ভাড়াটিয়া পরিষদ। বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম বাড়ানোর প্রতিবাদে এর জন্য দায়ী ব্যবসায়ীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

মানববন্ধনে সভাপতির বক্তব্যে ভাড়াটিয়া পরিষদের সভাপতি বাহারানে সুলতান বাহার বলেন, অসাধু ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের কাছে পুরো জাতি আজ অসহায় হয়ে পড়েছে। এভাবে মানুষ বাঁচতে পারে না।

বিজ্ঞাপন

ভাড়াটিয়া পরিষদ বলছে, বাজারে মিনিকেট চাল ৬৫ থেকে ৭০ টাকা, প্রতি লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেলে ১৪০ টাকা থেকে ১৪৫ টাকা, প্রতিকেজি বয়লার মুরগি ১৬০ টাকা, পাকিস্তানি বা সোনালি মুরগি ৩৫০-৩৭০ টাকা, এক কেজি গরুর মাংস ৬০০ টাকা, খাসির মাংস ৯০০ টাকা, রুই মাছ ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

বাহরানে সুলতান বলেন, নিম্ন–মধ্যবিত্ত পরিবারের পক্ষে এত দাম দিয়ে বাজার করে টিকে থাকা অসম্ভব। অন্যদিকে, রমজান সামনে রেখে চিনি, ছোলা, ডালসহ প্রায় সব ভোগ্যপণ্যের দাম প্রতিদিনই বাড়ছে। এই চক্রের বিরুদ্ধে এখনই কঠোর আইনি পদক্ষেপ নিতে হবে। অন্যথায় সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বাড়তেই থাকবে।

ভাড়াটিয়া পরিষদের সভাপতি ওয়াসার পানির মূল্য বাড়ানোর প্রস্তাবের সমালোচনা করে বলেন, করোনা মহামারিতে এমনিতেই মানুষ দিশেহারা। এমন সময় পানির দাম বাড়ানোর প্রস্তাব অমানবিক। পানির দাম বাড়ানো হলে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য ও বাড়িভাড়ায় অস্থিতিশীলতা দেখা দেবে। মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়বে।

সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতা মো. মোস্তফা বলেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় প্রায় সব দ্রব্যসামগ্রীর দাম বাড়ায় সাধারণ খেটে খাওয়া শ্রমজীবী মেহনতি মানুষ, শ্রমিক-কর্মচারীরা অর্ধাহারে–অনাহারে দিন যাপন করতে বাধ্য হচ্ছেন। তাঁদের দুরবস্থা দেখার কেউ নেই।

মানববন্ধনে সংহতি জানিয়ে টেলি কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (টিক্যাব) আহ্বায়ক মুর্শিদুল হক বলেন, ‘আমাদের মাথাপিছু আয় যতটা বেড়েছে, মাথাপিছু ব্যয় তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে। নিম্ন আয়ের মানুষ যা আয় করেন, তার পুরোটাই জীবনধারণের জন্য নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য কিনতেই শেষ হয়ে যাচ্ছে।’

মানববন্ধনে আরও উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতা জামাল শিকদার, তুহিন চৌধুরী, রোখসানা বাহার প্রমুখ।

বিজ্ঞাপন
রাজধানী থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন