কাউন্টারে টিকিট কেনার পাশাপাশি অনেকেই মুঠোফোনে টিকিট কাটার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছেন। অনলাইনে টিকিট কিনতে গিয়ে টাকা কেটে নেওয়া হলেও টিকিট না পাওয়ার অভিযোগও আছে।

গত সোমবার রাত সাড়ে নয়টার দিকে কমলাপুর রেলস্টেশনে আসেন একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা মো. ফরহাদুল ইসলাম। তাঁর সিরিয়াল নম্বর ছিল ২৫। রংপুর এক্সপ্রেসের টিকিট লাগবে তাঁর। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘পরশু সারা রাত ছিলাম। পরে সকালে আমার এক আত্মীয়কে দাঁড় করিয়ে বাসায় গিয়ে বিশ্রাম নিয়েছি। ও গতকাল সারা রাত ছিল। আজ সকাল আবার আমি এসেছি।’

default-image

মগবাজারের বাসিন্দা ফরহাদুল বলেন, ‘সকাল সাড়ে নয়টার দিকে টিকিট পেলাম। তাও আবার এসি নেই, কেবিন নেই। শোভন চেয়ারের টিকিট কাটলাম। এই টিকিট কাটা মানেই ভোগান্তি। সেটা অনলাইনে হোক আর কাউন্টারে। এখানে করার কিছু নেই, বলার কিছুও নেই। রুটি-কলা খেয়ে না ঘুমিয়ে কত কষ্ট। ৩৬ ঘণ্টা পর টিকিট পেলেন তিনি।

আজ ঈদযাত্রার অগ্রিম টিকিট বিক্রির শেষ দিন। টিকিট বিক্রি চলবে বিকেল চারটা পর্যন্ত। স্টেশনে কাউন্টার আছে ২৩টি। এর মধ্যে ১৬টি কাউন্টার থেকে ঈদযাত্রার অগ্রিম টিকিট বিক্রি হচ্ছে। নারীদের জন্য কাউন্টার দুটি। প্রতি কাউন্টার থেকে এক ব্যক্তি চারজনের টিকিট কাটতে পারছেন। তবে এর জন্য প্রত্যেক যাত্রীর জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি দিতে হচ্ছে।

অনলাইনের টিকিট কারা পায়

একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা মো. সাদিকুল ইসলাম। তিনি গতকাল কমলাপুর রেলস্টেশনে রাত ১১টায় এসেছেন। তখন থেকেই তিনি সারিতে দাঁড়িয়ে। সকাল আটটার দিকে অনলাইনেও কাউন্টারে একসঙ্গে টিকিট বিক্রি শুরু হয়। তখন থেকেই তিনি অনলাইনে চেষ্টা করেন। মিনিট ১৫ পর তাঁর টিকিটের টাকা কেটে নেওয়া হয়। তবে টিকিট মেইলে আসেনি।

এ বিষয়ে সাদিকুল বলেন, ‘অনলাইনে লগইন করলে সিট পাওয়া যায় না। পেলেও একটা–দুটো ফাঁকা দেখায়। এরপর কাটতে গেলে টাকা কেটে নেয়; কিন্তু টিকিট পাওয়া যায় না। আবার অনেক সময় সার্ভারের সমস্যা দেখা যায়। এরপর ৩ হাজার ১৩৫ টাকা কেটে নেওয়া হলো। অথচ মেইলে টিকিট এল না। অনলাইন নিয়ে তিন দিন ধরে এই সমস্যায় ভুগছি। টিকিট কাটতে পারছি না।’ শেষমেশ দুটি টিকিট অনলাইনে ও দুটি টিকিট কাউন্টার থেকে কিনতে পারেন সাদিকুল।

মোহাম্মদপুরের বাসিন্দা নাসির প্রথম আলোকে বলেন, ‘লালমণি এক্সপ্রেসের ৪টি টিকিটের জন্য আজ সকালে লগইন করলাম। ৮টা থেকে চেষ্টা করে ১৫ মিনিট পরে লগইন হলো। টিকিট কাটার চেষ্টা করলাম অনলাইনে। লগইন করে দেখি আসন ফাঁকা নেই। এ কেমন সিস্টেম।’

রাজধানী থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন