default-image

সুনামগঞ্জের ধরমপাশা উপজেলায় আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় মৎস্যজীবী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদকের বিরুদ্ধে সম্প্রতি ঢাকার আদালতে মামলা হয়েছে। শ্লীলতাহানির অভিযোগে ওই নালিশ মামলা করা হয়। কিন্তু মামলায় বাদী হিসেবে যে নারীর নাম উল্লেখ রয়েছে, তাঁর দাবি, ওই মামলা তিনি করেননি।


ওই মামলার আসামি উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শামীম আহম্মেদ ও কেন্দ্রীয় মৎস্যজীবী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদকের রেজওয়ান আলী খান এখন পালিয়ে বেড়াচ্ছেন।


মামলার বাদী হিসেবে উল্লেখিত নারী শনিবার রাতে মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমি কারও বিরুদ্ধে আদালতে গিয়ে কোনো মামলা করিনি। কে মামলা করেছে তা জানি না। আমার জাতীয় পরিচয়পত্র কীভাবে পেল, আমার ঠিকানা কীভাবে পেল, সেটাও খুঁজে দেখা দরকার। আমি কাল (রোববার) আদালতে যাব।’

বিজ্ঞাপন

১৭ নভেম্বর ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৯–এ শামীম ও রেজওয়ানের বিরুদ্ধে নালিশি মামলা হয়। মামলায় কাগজপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, মামলার বাদী ওই নারী স্বল্পশিক্ষিত। তাই তিনি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে অফিস সহকারীর কাজ করে থাকেন। কাজের সুবাদে শামীম আহম্মেদের সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। পরিচয়ের সূত্রে একদিন তিনি শামীম আহম্মেদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তিনি (শামীম) তাঁকে রেজওয়ান আলী খানের বসুন্ধরার ঠিকানায় ১ নভেম্বর যেতে বলেন। তিনি (নারী) সেদিন বেলা ১১টার পর সেখানে যান। সেখানে আসামি শামীম ও রেজওয়ান তাঁকে শ্লীলতাহানির চেষ্টা করেন। তিনি চিৎকার করলে দুজন ব্যক্তি (যাঁরা মামলার সাক্ষী) এগিয়ে আসেন। তাঁদের সহযোগিতায় তিনি সেখান থেকে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হন। পরে থানায় মামলা করতে যান। কিন্তু থানা মামলা না নেওয়ায় তিনি আদালতে মামলা করেন।


মামলা না করার কথা উল্লেখ করা নারীর মা শনিবার দুপুরে প্রথম আলোকে বলেন, তাঁর মেয়ে আদালতে গিয়ে কারও বিরুদ্ধে কোনো মামলা করেনি। একই কথা বলেন ওই নারীর স্বামীও। তিনি বলেন, মামলার বাদী হিসেবে থানায় হাজির হওয়ার জন্য তাঁর স্ত্রীর নামে নোটিশ এসেছে। আগামীকাল তিনি তাঁর স্ত্রীকে নিয়ে থানায় যাবেন। তাঁর স্ত্রী কারও বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির মামলা করেননি।


এ ব্যাপারে ভাটারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোক্তারুজ্জামান প্রথম আলোকে বলেন, শ্লীলতাহানির অভিযোগ এনে সম্প্রতি এক নারী দুজনকে আসামি করে ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে নালিশি মামলা করেন। আদালত ওই নারীর অভিযোগকে মামলা হিসেবে রেকর্ড করার জন্য থানাকে নির্দেশ দেন। আদালতের নির্দেশনা মোতাবেক ওই নারীর মামলা ২১ নভেম্বর থানায় রেকর্ড করা হয়। মামলায় ওই নারীর যে ঠিকানা দেওয়া আছে, সেই ঠিকানায় চিঠি পাঠানো হয়েছে। তবে এখনো ওই নারী থানায় হাজির হয়ে কোনো বক্তব্য দেননি। পুরো ঘটনা গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ভাটারা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) হাফিজুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, শ্লীলতাহানির অভিযোগে যে নারী মামলা করেছেন, সেই নারীর ঠিকানায় নোটিশ পাঠানো হয়। সেই নোটিশ ওই নারী গ্রহণ করেছেন। বাদীসহ অন্য সাক্ষীদের জিজ্ঞাসাবাদ করার পর প্রকৃত ঘটনা জানা সম্ভব হবে। মামলার দুই আসামির কল ডিটেইলস রেকর্ডসহ (সিডিআর) অন্যান্য সাক্ষ্য–প্রমাণ সংগ্রহ করা হচ্ছে।

যে নারী শ্লীলতাহানির অভিযোগ এনে মামলা করেছেন, তাঁকে চেনেন না বলে দাবি করেছেন আসামি শামীম আহম্মেদ। তিনি প্রথম আলোর কাছে দাবি করেন, যে তারিখে (১ নভেম্বর) যে বাসায় শ্লীলতাহানির অভিযোগ আনা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা। কারণ, ওই তারিখে তিনি ঢাকাতেই ছিলেন না। ছিলেন সুনামগঞ্জে। শামীম আহম্মেদ বলেন, স্থানীয় রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের শিকার তিনি। এই ষড়যন্ত্রের সঙ্গে স্থানীয় সাংসদ (মোয়াজ্জেম হোসেন) জড়িত বলে তাঁর ধারণা। তিনি লিখিতভাবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে জানিয়েছেন, স্থানীয় সাংসদ মোয়াজ্জেম হোসেনের বিরুদ্ধে জেলা আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভায় বক্তব্য দেওয়ার কারণে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে।


আসামি রেজওয়ান আলী খানও প্রথম আলোর কাছে দাবি করেন, এ মামলা তাঁর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র। ওই নারীকে তিনি কখনো দেখেননি। শ্লীলতাহানি করার প্রশ্নই ওঠে না।

ধরমপাশা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও স্থানীয় সাংসদ মোয়াজ্জেম হোসেন প্রথম আলোর কাছে দাবি করেন, যখন এই মামলা হয়, তখন তিনি হাসপাতালে ছিলেন। এসব ঘটনার কোনো কিছুই তিনি জানেন না। তাঁর বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। দুই আসামি সম্পর্কে বলেন, শামীম আহম্মেদ ও রেজওয়ান খানকে তিনি ভালো করে চেনেন-জানেন। যে নারী শ্লীলতাহানির মামলা করেছেন, তিনি তাঁকে চেনেন না। যদি কেউ মিথ্যা মামলা করেন, তাহলে তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আইনি প্রতিকার রয়েছে।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন