বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

ফাওজিয়া বলেন, এরিকো নাকানো ও ইমরান শরীফের দুই মেয়ের শিক্ষার অধিকার নিশ্চিত করতেই এ নোটিশ দেওয়া হয়েছে। তারা ঢাকার একটি ইংরেজি মাধ্যম স্কুলে ভর্তি হয়েছে। গত ১০ ডিসেম্বরে ওই স্কুলে এরিকো একটি ই–মেইল পাঠান। ই–মেইলে তিনি ইমরানকে শিশু অপহরণকারী বলে উল্লেখ করেন। কেন স্কুল কর্তৃপক্ষ শিশু দুজনকে ভর্তি করেছে, সে ব্যাপারেও জানতে চান তিনি।

ইমরান শরীফের আইনজীবী আরও বলেন, বাংলাদেশে আসার পর থেকেই এরিকো ইমরানের বিরুদ্ধে বিদ্বেষপূর্ণ এবং মিথ্যা তথ্য ও অভিযোগ ছড়াতে শুরু করেন। ইমরান অনেক সহ্য করেছেন। যেমন এরিকো বলেছেন, ইমরান দুই নাবালিকা কন্যাকে অপহরণ করেন, তাদের অবস্থান সম্পর্কে এরিকোর কোনো ধারণা ছিল না। আদতে ইমরান ঢাকায় পৌঁছানোর পরই এরিকোকে এ সম্পর্কে জানান এবং বেশ কয়েকবার মায়ের সঙ্গে সন্তানেরা ভিডিওতে কথাও বলে। বাংলাদেশে আসার পর তাঁকে চোখ বেঁধে তাঁর দুই মেয়ের সঙ্গে দেখা করার জন্য একটি ছোট্ট কক্ষে নিয়ে যাওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন এরিকো। এ কথাও মিথ্যা। তিনি ইমরানের বড় বোনের বাসায় যান।

ওই বাসার বসার ঘরে পাঁচ ঘণ্টা অবস্থান করেন এবং দুপুরের খাবার খান।
ফাওজিয়া আইনি নোটিশে লিখেছেন, ইমরান জাপানে কেনা ফ্ল্যাটের কিস্তি পরিশোধ করতে পারছিলেন না। পরে ওই ফ্ল্যাট ছেড়ে অন্য ফ্ল্যাট যান। সেখানে মেয়েরা স্বেচ্ছায় তাঁর সঙ্গে থাকে। বরং এরিকো ২০২০ সালে ৮ মাসের জন্য মেয়েদের তাঁর বাবার বাড়িতে পাঠিয়ে দেন। এ সময় তারা বাবার সঙ্গে ‘অর্থপূর্ণ’ যোগাযোগ করতে পারেনি। মায়ের সঙ্গে থাকলে আবারও একই ঘটনা ঘটতে পারে, এ আশঙ্কা থেকেই মেয়েরা বাবার কাছে থেকে যায়। এর আগে তারা তাদের বাবার সঙ্গে দুবাইয়ে গিয়েছে।

২০০৮ সালে জাপানের টোকিওতে এরিকো ও ইমরানের বিয়ে হয়। এরিকো পেশায় চিকিৎসক, ইমরান তড়িৎ প্রকৌশলী। তাঁদের তিন সন্তান রয়েছে। এ বছরের শুরুতে এরিকো বিবাহবিচ্ছেদের আবেদন করেন। এর মধ্যেই ইমরান তাঁর দুই শিশুকন্যাকে নিয়ে ঢাকায় চলে আসেন। এরপর জাপানের আদালত এরিকোর জিম্মায় সন্তানদের ছেড়ে দেওয়ার নির্দেশ দেন। সন্তানদের ফিরে পেতে আদালতের শরণাপন্ন হয়েছেন এরিকো। আবার ইমরানও বাংলাদেশের পারিবারিক আদালতে সন্তানদের জিম্মা চেয়ে আবেদন জানিয়েছেন।

উল্লেখ্য, আদালতের নির্দেশে গুলশান-১ নম্বরের একটি ভাড়া বাসায় ১৫ দিনের জন্য দুই সন্তানসহ উঠেছেন এরিকো নাকানো-ইমরান শরীফ দম্পতি। ১৬ সেপ্টেম্বর আদালত পরবর্তী আদেশের দিন রেখেছন।

রাজধানী থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন