বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

শুধু দুধ কিনতে পেরে হতাশ আবদুর রশীদ। একটি থ্রি–হুইলার অটোরিকশায় করে এসেছেন তিনি। অটোরিকশাটি নিজে ব্যবহার করেন, চালানও নিজেই। জানান, নবাবগঞ্জ এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকেন। হাজারীবাগে অটোরিকশা মেরামতের ছোট্ট একটি ওয়ার্কশপ আছে। সেখান থেকে মাসে ২০ হাজার টাকা আয় করেন। তা দিয়ে দোকান ও বাসা ভাড়া, স্ত্রী–দুই সন্তানের খরচ চালাতে হিমশিম খেতে হয়।

দুই কেজি খাসির মাংস কিনতে চাচ্ছিলাম। খাসির মাংস পাইনি। লাইনে দাঁড়িয়ে এক কেজি করে কেনা, এটা হয় না। বেশি করে দিলে নিয়মিত আসতে হতো না
আবুল কালাম আজাদ, মিরপুরের বাসিন্দা

আবদুর রশীদ বলেন, পরিবারের সবাই তিন বেলার পরিবর্তে এখন দুই বেলা খান—সকালে ও রাতে। ছোট একটা মেয়ে ক্লাস ফোরে পড়ে। সে (মেয়ে) দুপুরে মাঝেমধ্যে খেতে চায়। দুপুরে পাঁচ টাকা দিয়ে একটা পরোটা পেলেই খুশি সে। গত এক বছরের মধ্যে গরুর মাংস কিনেছেন বলে মনে পড়ে না তাঁর। খাসির মাংস তো প্রশ্নই আসে না।
আবদুর রশীদ শেষ ব্যক্তি, যিনি আজিমপুরের ভ্রাম্যমাণ গাড়ি থেকে গতকাল পণ্য পেয়েছেন। তবে তাঁর পেছনে লাইনে দাঁড়িয়ে খালি হাতে ফেরেন ২৩ জন। এরপরও দু–চারজন আসেন। দেখেন, বিক্রির কার্যক্রম শেষ।

আজিমপুরে ভ্রাম্যমাণ গাড়ি থেকে আজ ১০০ কেজি গরুর মাংস, প্রায় এক কেজি ওজনের ৫০টি ড্রেসড ব্রয়লার মুরগি, ২০ কেজি খাসির মাংস, ১২০০ ডিম ও ২৫০ লিটার পাস্তুরিত গরুর দুধ বিক্রি হয়। গরুর মাংস প্রতি কেজি ৫৫০ টাকা, খাসির মাংস ৮০০ টাকা, ব্রয়লার প্রতিটি ২০০ টাকা ও দুধ ৬০ টাকা লিটারের বিক্রি হয়।

বিক্রি শুরু হয়েছে সকাল সোয়া ১০টার দিকে। আড়াই ঘণ্টার মধ্যে বিক্রি হয়ে যায় সব পণ্য। পণ্য পেয়েছেন ১৮৮ জন। ১৩৩ জনের সময় শেষ হয় মুরগি, ১৪২ জনের সময় খাসি, ১৮০ জনের সময় গরু। শেষে বিক্রি হয়েছে শুধু দুধ।

লাইনে খুব বেশি ভিড় ছিল না। দুপুর ১২টার দিকে সেখানে দাঁড়িয়েছিলেন ২৬ জন। এরপর অল্প অল্প করে আরও মানুষ যোগ দেন। প্রত্যেকের কাছে ১ কেজি করে মাংস বিক্রি করা হয়েছে। চাহিদা তুলনামূলক কম থাকায় ৩০টি করেও ডিম বিক্রি করা হয়েছে বলে জানান বিক্রেতা মোকাদ্দাস ইসলাম। প্রথম আলোকে তিনি বলেন, প্রচার হওয়ার কারণে আগের চেয়ে মানুষ বেড়েছে। আরও বেশি পণ্য আনলেও বিক্রি হয়ে যাবে।

চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে বুধবার পণ্য বিক্রির অঞ্চল ও পরিমাণ বাড়িয়েছে প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়। পূর্বনির্ধারিত সচিবালয়সংলগ্ন আবদুল গণি রোড, খামারবাড়ি গোলচত্বর, মোহাম্মদপুরের জাপান গার্ডেন সিটি, মিরপুর ৬০ ফিট রাস্তা, আজিমপুর মাতৃসদন, নয়াবাজার, আরামবাগ, নতুন বাজার, কালশী ও যাত্রাবাড়ীর পাশাপাশি খিলগাঁও, নাখালপাড়ার লুকাস মোড়, সেগুনবাগিচা ও উত্তরার দিয়াবাড়িতে বিক্রি করা হয়েছে। আজ সব মিলিয়ে দেড় হাজার কেজি গরুর মাংস, ১৫০ কেজি খাসির মাংস, ৫০০ কেজি ড্রেসড ব্রয়লার মুরগি, ৩ হাজার লিটার দুধ ও ২০ হাজার ডিম বিক্রি করা হয়েছে।

মন্ত্রণালয়ের বিভাগীয় প্রাণিসম্পদ দপ্তরের উপপরিচালক শাহীনুর ইসলাম এসেছিলেন বিক্রয় কার্যক্রম তাদরকির জন্য। তিনি বলেন, চাহিদার ভিত্তিতে বুধবার বিভিন্ন এলাকায় বিক্রয়যোগ্য পণ্য বাড়ানো–কমানো হয়েছে। গত কয়েক দিনের চাহিদা বিবেচনায় নিয়ে এমনটা করা হয়েছে।

মিরপুরে থাকেন আবুল কালাম আজাদ। আজিমপুরের একটি কলেজে মেয়েকে নিয়ে এসেছেন। কলেজ ছুটির অপেক্ষায় থাকার সময় তিনি খাসির মাংস কিনতে আসেন। কিন্তু পাননি। পরে এক কেজি গরুর মাংস ও চার লিটার দুধ কেনেন। প্রথম আলোকে তিনি বলেন, ‘দুই কেজি খাসির মাংস কিনতে চাচ্ছিলাম। খাসির মাংস পাইনি। লাইনে দাঁড়িয়ে এক কেজি করে কেনা, এটা হয় না। বেশি করে দিলে নিয়মিত আসতে হতো না।’

ফিরে আসি ক্রাচে ভর দিয়ে আসা আবদুর রশীদের কাছে। তিনি বলেন, স্বল্পমূল্যে আমিষ–জাতীয় খাদ্য অনেকের বেশ উপকারে দেবে। বিশেষ করে বাজারে উচ্চমূল্যের পণ্যের এই বাজারে। এখন অল্প কয়েকটা টাকাও খুব গুরুত্বপূর্ণ। মানুষের পকেট এখন শুকনা। আরও বেশি পরিমাণে পণ্য সরবরাহ করলে নিম্নবিত্ত মানুষও আমিষের স্বাদ পাবে।

রাজধানী থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন