ইউএসএআইডির আর্থিক ও কাউন্টারপার্ট ইন্টারন্যাশনালের কারিগরি সহযোগিতায় প্রমোটিং অ্যাডভোকেসি অ্যান্ড রাইটস (পার) কর্মসূচির আওতায় ঢাকা কলিং নামে একটি প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে। ডিএসকের নেতৃত্বে এ প্রকল্প বাস্তবায়নে কাজ করছে বারসিক, কাপ ও ইনসাইটস। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ৬ ও ১৯ নম্বর ওয়ার্ডে এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ১৪ ও ৫৫ নম্বর ওয়ার্ডে এ কর্মসূচি বাস্তবায়িত হচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও নিম্ন আয়ের জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যগত প্রভাববিষয়ক প্রতিবেদন তুলে ধরেন ঢাকা কলিং প্রজেক্টের কারিগরি উপদেষ্টা সুমন আহসানুল ইসলাম। তিনি বলেন, কঠিন বর্জ্যের অব্যবস্থাপনার কারণে সৃষ্ট পরিবেশে বস্তির মানুষের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য স্বল্প ও দীর্ঘ মেয়াদে ঝুঁকির মধ্যে পড়ে। জ্বর, সর্দি, মাথাব্যথা, চর্মরোগ, প্রসাবে জ্বালাপোড়াসহ কোনো কোনো ক্ষেত্রে ক্যানসার, জন্ডিস, নিউমোনিয়া, টাইফয়েডের মতো বিপজ্জনক রোগের ঝুঁকির বিষয়টিও গবেষণায় উঠে এসেছে।

২০১৬ সালের একটি গবেষণার ফলাফল তুলে ধরে সুমন আহসানুল ইসলাম বলেন, নোংরা পরিবেশের কারণে প্রায় ৩৪ শতাংশ বস্তিবাসী এ ধরনের রোগে আক্রান্ত হন। ময়লা পানির কারণে ২৭ শতাংশ মানুষ ও জলাবদ্ধতার কারণে ১৯ শতাংশ মানুষ এ ধরনের রোগে আক্রান্ত হতে পারেন।

অনুষ্ঠানে পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলনের (পবা) চেয়ারম্যান আবু নাসের খান বলেন, বস্তির মানুষকে দূরে রেখে তাঁদের জীবনমান উন্নয়ন সম্ভব নয়। তাঁর মতে, ধানমন্ডি, মোহাম্মদ ও পূর্বাচলের মতো জায়গায় সরকারিভাবে বস্তিবাসীর জন্য আবাসন থাকা উচিত।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ লেলিন চৌধুরী বলেন, ওয়াসার দুর্গন্ধযুক্ত পানিতে এবারও বস্তির মানুষ বেশি কলেরায় আক্রান্ত হয়েছেন। অর্থাৎ বস্তির নিম্নবিত্ত মানুষেরা বেশি পানিবাহিত রোগের শিকার হচ্ছেন।

সংবাদ সম্মেলনে বস্তির বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে কিছু সুপারিশ তুলে ধরা হয়। সেগুলো হলো আন্তমন্ত্রণালয় সমন্বয়, পয়োনিষ্কাশনব্যবস্থা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনার শক্তিশালী তদারকি ব্যবস্থা ও জবাবদিহি এবং সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগে বর্জ্যের কারণে জনস্বাস্থ্যের সমস্যাগুলো নিরূপণ করে তা সমাধানে ব্যবস্থা নেওয়া।

রাজধানী থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন