বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

দক্ষিণ সিটির রাজস্ব বিভাগ সূত্রে জানা যায়, রাজধানীর নিউমার্কেট এলাকায় ঢাকা নিউ সুপার মার্কেটে জি-২৮ নম্বর দোকানের ক্রয়সূত্রে মালিক মিসেস নার্গিস হক। তিনি এই দোকানটি ১৬ বছর আগে মাইন উদ্দিন নামের এক ব্যক্তিকে ভাড়া দিয়েছিলেন। দীর্ঘদিন ধরে সব ঠিকঠাক চললেও ২০১৮ সালে এসে দোকানের মালিকানা দাবি করে নামজারির আবেদন করেন মাইন উদ্দিন। তাঁর ওই আবেদনের পর সংস্থার উপকর কর্মকর্তা আনিসুর শুনানি নিয়ে ভাড়াটে মাইন দ্দিনের নামে দোকানের নামজারি করে দেন। ওই শুনানিতে নার্গিস হক উপস্থিত ছিলেন না।

* দোকানের মালিক নার্গিস হক ভাড়াটে মাইন উদ্দিনের নামে নামজারি বাতিলের আবেদন করেন। * শুনানিতে নার্গিস দাবি করেন, প্রতারণার মাধ্যমে দোকানের মালিকানা পরিবর্তনে সহযোগিতা করেছেন আনিসুর।

এ বিষয়টি জানতে পেরে দোকানের মালিক নার্গিস হক ভাড়াটে মাইন উদ্দিনের নামে নামজারি বাতিলের আবেদন করেন। পরে অনুষ্ঠিত শুনানিতে তিনি দাবি করেন, প্রতারণার মাধ্যমে দোকানের মালিকানা পরিবর্তনে সহযোগিতা করেছেন আনিসুর। ভাড়াটে যখন দোকানের মালিকানা দাবি করেছেন, তখন অনুষ্ঠিত শুনানিতে তাঁকে ডাকা হয়নি। এ সময় তিনি আনিসুরের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থারও দাবি জানান।

মূল মালিক বা দখলস্বত্ব হস্তান্তর দাতার শুনানি গ্রহণ করা নামজারির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। শুনানিকালে মূল মালিককে শনাক্ত করা হয় এবং তাঁর দেওয়া বক্তব্যের ভিত্তিতে নামজারির ক্ষেত্রে তাঁর সম্মতি আছে কি না বা দোকানটি তিনি অন্য কারও কাছে হস্তান্তর করেছেন কি না, সেটা সুস্পষ্ট হয়ে ওঠে।

নার্গিস হকের পক্ষে এই বিষয় দেখভাল করছেন তাঁর ভাই কামাল হোসেন। কামাল হোসেন মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, ‘রাজস্ব বিভাগের একটি গ্রুপ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করছে। ওই গ্রুপটির প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ছত্রচ্ছায়ায় এই কাজগুলো করছে। আমরা লড়তে পারছি, এ জন্য লড়ছি। এভাবে তারা কত মানুষকে নিঃস্ব করে দিয়েছে।’ বিষয়টির সুরাহা হলে তিনি প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা করবেন।

রাজস্ব বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, সংশ্লিষ্ট নথি পর্যালোচনা করে নার্গিস হককে দোকানের মালিক হিসেবে সাব্যস্ত করা হয়েছে। নার্গিস হকের নামের দোকানের নামজারির পর ঢাকা নিউ সুপার মার্কেট মালিক সমিতিকে দোকানটি বুঝিয়ে দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তবে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, দোকানের মালিকানা নিয়ে আদালতে গিয়েছেন মাইন উদ্দিন। তাই দোকানের মালিকানাসংক্রান্ত সব নথি নার্গিস হকের অনুকূলে পাওয়ার পরও এখন পর্যন্ত দোকান বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি।

দক্ষিণ সিটির রাজস্ব বিভাগের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বিরুদ্ধে নানা অনিয়মে জড়িত থাকার অভিযোগ দীর্ঘদিনের। নাম প্রকাশ না করার শর্তে দক্ষিণ সিটির ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, রাজস্ব বিভাগে স্থায়ী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কমবেশি সবাই নানা অপরাধ ও অনিয়মে জড়িত।

সর্বশেষ মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস দায়িত্ব নেওয়ার পরদিনই এই বিভাগের প্রধানের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা ইউসুফ আলী সরদারকে চাকরিচ্যুত করেছিলেন। এ ছাড়া অনিয়মে জড়িত থাকার অভিযোগে এই বিভাগের আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

রাজধানী থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন