আবহাওয়ার পূর্বাভাসে ঈদের দিন রোদ–বৃষ্টির খেলা হবে, এমনটা বলা হয়েছিল। রোববার সকাল থেকেই রাজধানীতে ছিল তীব্র রোদ। বিকেলে গরমের তীব্রতা কমতেই ভিড় বাড়তে শুরু করে সংসদ ভবনের সামনে। কদমতলা আর বকুলতায় পাকা বেদিতে বসে খোশগল্পে মেতেছেন অনেকে। কাছেই একদল তরুণকে গিটারে সুর তুলতে দেখা যায়। পরিচিত গানের দু–এক কলি কানে বাজতেই গুনগুন করে গেয়ে উঠছেন দল বেঁধে ঘুরতে আসা একদল তরুণী।

সংসদ ভবনের সোজাসুজি সামনের ফাঁকা অংশের বেদিতে বসে আড্ডায় মেতেছেন কেউ কেউ। উৎসব আর আনন্দের মুহূর্তেগুলো ফ্রেমবন্দী করতে সেলফি তুলে চলছেন অনবরত। আড্ডার অনুষঙ্গ হিসেবে ঝালমুড়ি, চানাচুর, ফলভর্তাসহ বেশ কিছু অস্থায়ী খাবারের দোকান বসেছে ফুটপাতে। শিশুদের জন্য রয়েছে নানা রকম খেলনার দোকান। খানিক দূরেই প্লাস্টিকের টুলে বসে আছেন এক ব্যক্তি। চিত্রশিল্পী টাকার বিনিময়ে একনিষ্ঠ মনে ছবি আঁকছেন।

রিকশা, ব্যক্তিগত গাড়ি, গণপরিহন আর মোটরসাইকেলে করে ঘুরতে বেরিয়েছেন নগরবাসী। অনেকে আবার পরিবার–পরিজন নিয়ে ফাঁকা রাস্তায় ঘোড়ার গাড়ি নিয়ে ঘুরতে বের হয়েছেন। ঘুরতে ঘুরতে একটু জিরিয়ে নিতে নেমে পড়েছেন সংসদ ভবনের সামনে।

default-image

স্ত্রী ও দুই আত্মীয়কে নিয়ে ঘুরতে এসেছেন হাসান মাহমুদ। গ্রামের বাড়ি মুন্সিগঞ্জে হলেও ঢাকার মোহাম্মদপুরে পরিবার নিয়ে থাকেন। অন্যান্য বছর গ্রামে ঈদ করলেও এবার ঢাকাতেই ঈদ করছেন।

হাসান মাহমুদ বলেন, ঈদের দিন স্ত্রী–সন্তানকে নিয়ে তো বাইরে আসতেই হয়। তা ছাড়া দুজন আত্মীয়ও এসেছেন। সংসদ ভবনে এসে তাঁদের ভালোই লাগছে।

মিরপুর ২ নম্বর এলাকা থেকে দুই সন্তান ও স্ত্রীকে নিয়ে ঘুরতে এসেছেন বেসরকারি চাকরিজীবী মো. কালু মিয়া। তিনি বলেন, এখানকার পরিবেশ সুন্দর। ঘুরতে এসে তাঁদের ভালো লাগছে।

দুপুরের পর থেকেই হাতিরঝিলে দর্শনার্থীদের ভিড় বাড়তে থাকে। বিকেল গড়াতেই নানান বয়সীর পদচারণে মুখর হয়ে ওঠে হাতিরঝিল। প্রখর রোদের কারণে অনেকেই কৃষ্ণচূড়া কিংবা বড় গাছের নিচে বসে গল্পে মেতেছেন। কেউ কেউ ওয়াটারবাসে করে ঘুরছেন এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে।

সন্ধ্যায় দেখা যায়, মৃদু বাতাসে হাতিরঝিলের গাছপালা দুলছে। ঝিলের পানিতেও যেন ছোট ঢেউ খেলছে। এমন পরিবেশে ঝিলপাড়ের পাকা বেদিতে বসে আড্ডা, গল্পগুজবে মত্ত নগরবাসী। অনেকেই বন্ধুবান্ধব, পরিবার-পরিজন নিয়ে ঘুরতে এসেছেন। সারা দিনের ব্যস্ততা আর তীব্র গরমের ক্লান্তি যেন ঝিলপাড়ে বসার কিছুক্ষণের মধ্যেই উবে যাচ্ছে।

কথা হয় হাতিরঝিলে ঘুরতে আসা আজাদুর রহমানের সঙ্গে। খুলনা থেকে ঢাকায় এসেছেন আত্মীয়ের পশু কোরবানিতে সহযোগিতা করার জন্য। সারা দিন পশু জবাই নিয়ে ব্যস্ততায় চলে গেছে তাঁর। সন্ধ্যার একটু অবসর কাটাতে হাতিরঝিলে এসেছেন।

আজাদ প্রথম আলোকে বলেন, ‘কোরবানির কাজ শেষে আমরা কয়েকজন হাতিরঝিলে এসেছি। বাকিরা হেঁটে হেঁটে ঘুরছে। আমার হাঁটা কুলাচ্ছিল না, তাই বেঞ্চে বসে বাতাস খাচ্ছি। এখানে বসে ভালোই লাগছে। যতক্ষণ আছি, এখানেই বসে থাকব।’

রাজধানী থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন