বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

মহান বিজয় দিবসের সুবর্ণজয়ন্তীর দিনে গতকাল বৃহস্পতিবার শিশুদের এ চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছিল প্রথমা বুক ক্যাফে। রাজধানীর মাদানী অ্যাভিনিউয়ের শেফস টেবিল কোর্টসাইডের সবুজ চত্বরে প্রথমা প্রকাশনের একটি সুদৃশ্য বিক্রয়কেন্দ্র ‘প্রথমা বুক ক্যাফে’র যাত্রা শুরু হয়েছে গত নভেম্বরে। রাজধানীতে প্রথমার এটি তৃতীয় বিক্রয়কেন্দ্র। এখানেই সকাল সাড়ে নয়টা থেকে শুরু হয় ‘রংতুলিতে ভালোবাসি বাংলাদেশ’ নামের শিশুদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা ও বিজয় দিবসের সংগীতায়োজন।

কেউ কেউ এঁকেছে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর ভাষণ, মিছিল, শহীদ মিনার ও জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক নিবেদনের দৃশ্য। দেশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যও ফুটিয়ে তুলেছে অনেকে। সময় ছিল দুই ঘণ্টা।

রংতুলি, কাগজ, পেনসিল নিয়ে মা–বাবার সঙ্গে সাতসকালেই হাজির খুদে আঁকিয়ের দল। শেফস টেবিল কোর্টসাইডের সবুজ নিসর্গ পাখির কালকাকলির সঙ্গে মুখর হলো শিশু–কিশোরদের কলহাস্যময় চপলতায়। আঁকার পর্ব শুরু হওয়ার কথা ছিল সকাল নয়টায়। ছুটির দিন হলেও এখানে আসতে বেশ অনেকটা পথ পাড়ি দিতে হয়। তাই সময় আধা ঘণ্টা পিছিয়ে দেওয়া হয়েছিল। প্রথমা বুক ক্যাফের দক্ষিণ দিকে অনুষ্ঠানের সুসজ্জিত মঞ্চ, তার পাশ দিয়ে গাছতলায় ছবি আঁকার আসন পাতা। এ প্রতিযোগিতা ছিল ৫ থেকে ১২ বছরের শিশুদের জন্য।

আঁকিয়েরা মুক্তিযুদ্ধ দেখেনি। তবে তারা জাতির এ গৌরবগাথা জেনেছে অভিভাবক আর বড়দের কাছ থেকে। সেই ভাবনা থেকেই রংরেখায় তারা ফুটিয়ে তুলেছে মুক্তিযুদ্ধের দৃশ্য। অধিকাংশ শিশুই এঁকেছে বীর মুক্তিযোদ্ধারা হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছেন প্রবল বিক্রমে, এমন ছবি। কেউ কেউ এঁকেছে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর ভাষণ, মিছিল, শহীদ মিনার ও জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক নিবেদনের দৃশ্য। দেশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যও ফুটিয়ে তুলেছে অনেকে। সময় ছিল দুই ঘণ্টা।

গত অর্ধশত বছর আমরা অনেক ক্ষেত্রে সফল হয়েছি। পাকিস্তানিদের চেয়ে এখন আমাদের মাথাপিছু আয় বেশি। তবে আমাদের আরও এগিয়ে যেতে হবে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা নিয়ে নতুনেরাই এ অগ্রযাত্রায় নেতৃত্ব দেবে
আনিসুল হক, প্রথম আলোর সহযোগী সম্পাদক ও কথাশিল্পী

প্রতিযোগিতা শেষে যখন বিচারকমণ্ডলী বিচারকাজে ব্যস্ত, সেই অবসরে শুরু হলো গান। শিল্পীরা সবাই দুটো করে দেশের গান গেয়েছেন। দিনাত জাহান মুন্নী গেয়েছেন ‘সব কটা জানালা’ ও ‘একবার যেতে দে না’। সোমনূর মনির কোনাল গেয়েছেন ‘আমায় যদি প্রশ্ন কর’ ও ‘নাও ছাইড়া দে’। ‘আমি বাংলার গান গাই’ ও ‘হাজার বছর পর’ গেয়েছেন সাব্বির জামান। ‘জন্ম আমার ধন্য হলো’ ও ‘একটি বাংলাদেশ’ গেয়েছেন হৈমন্তী রক্ষিত দাস। গানের পালা শেষ করেছেন মুহিন ‘যে মাটিতে ঘুমিয়ে আছে’ ও ‘সূর্যোদয়ে তুমি, সূর্যাস্তেও তুমি’ গানটি দিয়ে। গান শেষ হতেই খুদে আঁকিয়েদের মধ্য থেকে এক–দুজন নিজ আগ্রহেই চলে এল মঞ্চে কবিতা আবৃত্তি করতে।

এরপর অবসান হলো প্রতীক্ষার। প্রথম আলোর সহযোগী সম্পাদক কথাশিল্পী আনিসুল হক বিচারকদের নিয়ে মঞ্চে এলেন। বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করার আগে তিনি বললেন, ‘গত অর্ধশত বছর আমরা অনেক ক্ষেত্রে সফল হয়েছি। পাকিস্তানিদের চেয়ে এখন আমাদের মাথাপিছু আয় বেশি। তবে আমাদের আরও এগিয়ে যেতে হবে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা নিয়ে নতুনেরাই এ অগ্রযাত্রায় নেতৃত্ব দেবে।’

বিচারক ছিলেন তিনজন। অভিনয় ও চিত্রশিল্পী চঞ্চল চৌধুরী বলেন, নতুন প্রজন্মকে দেশের শিল্প, সাহিত্য, সংস্কৃতির সঙ্গে শৈশব থেকেই পরিচয় করিয়ে দিতে হবে। এতে তাদের মধ্যে দেশপ্রেম ও সংস্কৃতিবোধ তৈরি হবে। অভিভাবকদের এ দায়িত্ব নিতে হবে।

আরেক বিচারক ও শিল্পী ফারেহা জেবা বললেন, ‘শিশুরা মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে অনেক সুন্দর ছবি এঁকেছে। তাদের সঙ্গে কথা বলেও দেখেছি মুক্তিযুদ্ধ, ভাষা আন্দোলন এসব সম্পর্কে তারা অনেক কিছু জানে। নতুন প্রজন্ম আমাদের ইতিহাস জেনে বেড়ে উঠছে, এটা খুবই আশা জাগানো বিষয়।’

তৃতীয় বিচারক ছিলেন প্রথম আলোর প্রধান শিল্পনির্দেশক শিল্পী অশোক কর্মকার। তিনি শিশুদের নিয়ে এ আয়োজনে অংশ নেওয়ার জন্য অভিভাবকদের ধন্যবাদ জানান। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন প্রথম আলো বন্ধুসভার সাধারণ সম্পাদক মৌসুমী মৌ।

প্রতিযোগিতায় তিন বিজয়ীসহ আরও ১০ জনকে বিশেষ পুরস্কার দেওয়া হয়। প্রথম হয়েছে মোহাম্মদপুর থেকে আসা নিউ মেধাসিঁড়ির প্লে গ্রুপের শিক্ষার্থী রাহিম বিনতে রিয়াজ। পুরস্কার ছিল পাঁচ হাজার টাকার বই। এজি চার্চ স্কুলের কেজি শ্রেণির শিক্ষার্থী আদিয়াত ইসলাম আলিফইয়া দ্বিতীয় পুরস্কার পেয়েছে তিন হাজার টাকার বই। আর তৃতীয় হয়ে এক হাজার টাকার বই পেয়েছে সাউথ পয়েন্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্লে-গ্রুপের আরাফ বিন মাহমুদ।

বিশেষ পুরস্কার পেয়েছে রোহানা হক, বিসানা জাইয়ান, মালিহা নওশিন, নাওয়াফ, সানজিদা আফরিন, নুসাইবা যোয়ানা খান, রাওহা বিনতে রিয়াজ, জেরিন সুবাহ, কিসমা সাইয়ারা ও আরিয় হাসান। তারপর মঞ্চে গিয়ে সবাই মিলে গ্রুপ ছবি তোলার পর্ব। এরপর প্রথমা বুক ক্যাফেতে গিয়ে পুরস্কারের ভাউচার দিয়ে পছন্দের বই বেছে নেওয়ার পালা। এর মধ্য দিয়ে শেষ হয় নতুন প্রজন্মকে নিয়ে বিজয় দিবসের এ আয়োজন।

রাজধানী থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন