বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

শিক্ষার্থীরা বলেন, ‘আমরা স্বাস্থ্যশিক্ষা থেকে পিছিয়ে পড়ছি এবং চূড়ান্ত পেশাগত পরীক্ষার পর আমরা কীভাবে ইন্টার্নশিপ করব, তা আমাদের বোধগম্য নয়। বর্তমান পরিস্থিতে আমাদের ভবিষ্যৎ অন্ধকারে।’

শিক্ষার্থীরা আরও বলেন, ‘এই মেডিকেল কলেজে থেকে স্বাস্থ্যশিক্ষা–সম্পর্কিত পরিপূর্ণ জ্ঞান অর্জন আদৌ সম্ভব নয়। শিক্ষার্থীদের অন্যত্র মাইগ্রেশনের ব্যবস্থা করার জন্য স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, সচিব এবং স্বাস্থ্য ও শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বরাবর আবেদন করেছি। আমরা দ্রুত পদক্ষেপ চাই। যেন আমাদের শিক্ষাজীবনে আলো ফিরে আসে।’

মানববন্ধনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থী আরিফুর ইসলাম বলেন, ‘জাতীয় পত্রিকায় প্রকাশিত ভর্তি বিজ্ঞপ্তি দেখে এই মেডিকেল কলেজে ভর্তি হতে আসি। তখন কলেজ কর্তৃপক্ষ আমাদের জানায়, কলেজের অভ্যন্তরীণ কিছু সমস্যার কারণে ২০১৬ সালের তাদের পূর্ববর্তী শিক্ষার্থীরা মাইগ্রেশন করে অন্যত্র চলে গেছেন। ২০১৭ সালে আমাদের প্রথম ব্যাচ ধরে কলেজের সব কার্যক্রম নতুনভাবে শুরু করবে। ক্লাস শুরুর পর প্রথম বর্ষ কোনো সমস্যা ছাড়া কাটলেও দ্বিতীয় বর্ষে জানতে পারি, এই কলেজের বিএমডিসি রেজিস্ট্রেশন নেই, এমনকি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রেশনও তখনো ছিল না।

কর্তৃপক্ষ আশ্বস্ত করে অতি দ্রুত বিএমডিসি ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রেশনের ব্যবস্থা করবে। এ অবস্থায় আমরা প্রথম প্রফেশনাল পরীক্ষার দুই দিন আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রেশন এবং পরীক্ষার আগের রাতে ১০টার পর প্রবেশপত্র পেয়েছিলাম। কিন্তু এখনো বিএমডিসি রেজিস্ট্রেশন দিতে পারেনি।’

আরেক শিক্ষার্থী তাহমিদ আল সোহান বলেন, ‘করোনাকালে অন্যান্য মেডিকেল কলেজে অনলাইন ক্লাস হলেও আমাদের কোনো ক্লাস হয়নি। চতুর্থ বর্ষের কোনো ক্লাসের ব্যবস্থা করা হয়নি। অনেক বলার পর আগস্ট মাস থেকে তিনটি বিষয়ের একজন করে শিক্ষক দেওয়া হয়, যাঁদের মধ্যে একজন স্থায়ী এবং অন্য দুজন গেস্ট টিচার। যেখানে প্রতি বিষয়ের জন্য কমপক্ষে দুজন করে স্থায়ী অধ্যাপক থাকার কথা। এর মধ্যে বেতনের সমস্যার কারণে শিক্ষকেরা ক্লাস নেওয়া বন্ধ রাখেন।’

মানববন্ধনে শিক্ষার্থীরা আরও বলেন, ‘পর্যাপ্ত চিকিৎসক ও সুযোগ-সুবিধা না থাকার কারণে রোগীশূন্য হাসপাতালে পরিণত হয়েছে। পর্যাপ্ত রোগীর অভাবে তৃতীয় বর্ষে আমরা শুধু তাত্ত্বিক ওয়ার্ড ক্লাস করেছি এবং ৪র্থ বর্ষে ওয়ার্ড ক্লাসের কোনো ব্যবস্থাই নেওয়া হয়নি। বর্তমানে মেডিসিন ও সার্জারি বিভাগে কোনো চিকিৎসক নেই। নেই কোনো এনেস্থেসিওলজিস্ট। ফলে কোনো ধরনের সার্জারিই সম্ভব নয়। বর্তমান পরিস্থিতিতে এই মেডিকেল কলেজ থেকে স্বাস্থ্যশিক্ষা–সম্পর্কিত জ্ঞান অর্জন করা সম্ভব নয়। বর্তমান পরিস্থিতিতে আমাদের একটাই দাবি, আমাদের অন্যত্র মাইগ্রেশনের ব্যবস্থা করা হোক। অন্যথায় ৬০ জন শিক্ষার্থীর ভবিষ্যতের পাশাপাশি ৬০টি পরিবারের ভবিষ্যৎও অন্ধকারে নিমজ্জিত হবে।’

রাজধানী থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন