বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

বৃহস্পতিবার ‘সিভিল সোসাইটি ফরজিং এ নিউ পাথ: ফাইন্ডিং অপরচুনিটি’ শিরোনামে একটি আন্তর্জাতিক ভার্চ্যুয়াল অনুষ্ঠানের মাধ্যমে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়। সিভিল সোসাইটি অর্গানাইজেশনস (সিএসও) বা নাগরিক সংস্থাগুলোর স্থায়িত্ব সূচকে পাঁচ বছর ধরেই বাংলাদেশের ধারাবাহিক অবনমন ঘটছে। এবার সূচকে বাংলাদেশের স্কোর ৪। ২০১৯ সালে ৩ দশমিক ৯, ২০১৮ সালে ৩ দশমিক ৮, ২০১৭ সালে ৩ দশমিক ৭, ২০১৬ সালে ৩ দশমিক ৬ এবং ২০১৫ ও ২০১৪ সালে স্কোর ছিল ৩ দশমিক ৫। সিএসওএসআইয়ের প্রতিবেদন অনুসারে, বাংলাদেশে ২০২০ সালে কোভিড-১৯সহ নতুন কিছু ইস্যু যুক্ত হয়ে সূচকের সাতটির মধ্যে ছয়টিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের উন্নয়ন সংস্থা ইউএসএআইডি বিশ্বের বিভিন্ন দেশের জন্য কিছু সূচক নির্ধারণ করে ১৯৯৭ সালে। বাংলাদেশ ওই সূচকে যুক্ত হয় ২০১৪ সালে। ২০২০ সালে আফ্রিকা, এশিয়া, ইউরোপ, ইউরেশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য, উত্তর আফ্রিকা, লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলের ৭৩টি দেশ এই বৈশ্বিক সূচকের আওতায় আসে।

প্রতিবেদন প্রসঙ্গে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান প্রথম আলোকে বলেন, প্রতিবেদনে বাস্তবসম্মত তথ্যই উঠে এসেছে। কোভিডের কারণে বৈদেশিক অনুদান একদিকে স্বাস্থ্য খাতে ব্যয় হয়েছে, অন্যদিকে দাতা দেশগুলো কোভিডে অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তায় পড়ে অর্থসহায়তা দেওয়াও বন্ধ রেখেছিল। এর ফলে এনজিওসহ বিভিন্ন সংগঠনের কাজ বাধাগ্রস্ত হয়েছে। অনেক সংস্থা কর্মী ছাঁটাই করেছে, কার্যকলাপ সংকুচিত করেছে।

default-image

ইফতেখারুজ্জামান আইনি কাঠামোর বিষয়টি কীভাবে এনজিওগুলোর কাজ ব্যাহত করছে, সে তথ্য তুলে ধরে বলেন, বৈদেশিক অনুদান নিয়ন্ত্রণ আইনের ১৪ ধারায় কোনো ব্যক্তি বা সংস্থার মন্তব্য যদি সংবিধান ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের জন্য বিদ্বেষমূলক হিসেবে বিবেচিত হয়, তাহলে তিনি অপরাধী হিসেবে বিবেচিত হবেন। এর সাজা হিসেবে দণ্ডের বিধান রয়েছে।

ইফতেখারুজ্জামান বলেন, একইভাবে যেসব সংস্থা আইনের শাসন, সুশাসন, মৌলিক অধিকার, দুর্নীতি নিয়ে কাজ করে, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের কারণে তারা মনস্তাত্ত্বিক চাপে ভোগে।

যে সাতটি বিষয়ের ভিত্তিতে স্কোর নির্ধারণ করা হয়, সেগুলো হচ্ছে আইনি পরিবেশ, সাংগঠনিক সক্ষমতা, আর্থিক কার্যক্ষমতা, পরামর্শ, সেবার বিধান, খাতভিত্তিক অবকাঠামো এবং জনগণের কাছে ভাবমূর্তি। এই সাতটির মধ্যে শুধু সাংগঠনিক সক্ষমতা ছাড়া বাকি ছয়টিতে ২০১৯ সালের তুলনায় ২০২০ সালে অবনমন হয়েছে। স্কোরের জন্য স্কেল ধরা হয় ১ থেকে ৭ পর্যন্ত। ১ থেকে ৩ পর্যন্ত স্কোর হচ্ছে স্থায়িত্ব উন্নত। ৩ দশমিক ১ থেকে ৫ পর্যন্ত পর্যন্ত স্থায়িত্ব বিকশিত হচ্ছে এবং ৫ দশমিক ১ থেকে ৭ পর্যন্ত স্কোরকে ধরা হয় স্থায়িত্ব বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। সেই হিসাবে বাংলাদেশ স্থায়িত্ব সূচকের বিকশিত অবস্থা থেকে বের হতে পারেনি।

সিএসও বলতে বোঝানো হয় স্বায়ত্তশাসিত আনুষ্ঠানিক ও অনানুষ্ঠানিক সংস্থা। দেশে নিবন্ধিত সিএসওর সংখ্যা ৮৮ হাজারের বেশি।

সিএসওএসআই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কোভিড-১৯ পরিস্থিতির সঙ্গে আগের বছরের মতো নাগরিক সংস্থাগুলোর নিবন্ধনে দীর্ঘ সময় লাগা, নিবন্ধন নবায়নপ্রক্রিয়ায় সময় লাগা, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা, সরকারের নজরদারি, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন যা মতপ্রকাশের বিষয়গুলোও অপরাধ হিসেবে শনাক্ত করে, টেলিভিশন চ্যানেলগুলোকে পর্যবেক্ষণে রাখার চেষ্টা, বৈদেশিক অনুদান নিয়ন্ত্রণ আইনের নীতিমালাগুলোতে অস্পষ্টতা থাকায় আইনি পরিবেশের ক্ষেত্রে সূচকে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। অনেক সিএসও বছরের বেশির ভাগ সময় জুড়ে বন্ধ ছিল। অনেক সরকারি ও বৈদেশিক তহবিল কোভিড ও ত্রাণে বেশি ব্যবহৃত হয়েছে।

সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার প্রথম আলোকে বলেন, কোভিড পরিস্থিতি বেসরকারি সংস্থাগুলোর জন্য যে সংকট সৃষ্টি করেছে, তা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকার আশঙ্কা রয়েছে। এ ছাড়া দেশে সুশাসন, গণতন্ত্র ও নির্বাচনী ইস্যু নিয়ে দাতা সংস্থাগুলো হাল ছেড়ে দিয়েছে। তারা এসব ক্ষেত্রে আর বিনিয়োগ করতে চায় না।

রাজধানী থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন