default-image

রাজধানীতে এক নারীর ওপর অ্যাসিড নিক্ষেপের ঘটনায় তাঁর সাবেক স্বামীকে এক দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করার অনুমতি দিয়েছেন আদালত। পুলিশের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতের বিচারক শহিদুল ইসলাম আজ শনিবার এ আদেশ দেন।

রিমান্ডপ্রাপ্ত আসামি হলেন মো. আবদুল আলী (৪৯)। গতকাল শুক্রবার মুন্সিগঞ্জের মুক্তারপুর এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ।

বিজ্ঞাপন

প্রথম আলোকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপির) অপরাধ ও তথ্য বিভাগের উপপরিদর্শক মো. আসাদুজ্জামান। আসামি আবদুল আলীকে আজ আদালতে হাজির করে সাত দিন রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করেছিলেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবির পরিদর্শক মনিরুজ্জামান খান।

মামলার কাগজপত্র এবং ভুক্তভোগী নারীর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ১০ বছর আগে কেরানীগঞ্জের বাসিন্দা আবদুল আলীর সঙ্গে ভুক্তভোগী রহিমা বেগমের বিয়ে হয়। তবে তাঁদের মধ্যে বনিবনা না হওয়ায় গত ১ আগস্ট রহিমা বেগম আবদুল আলীকে তালাক দেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন আবদুল আলী। ৯ নভেম্বর ভোরে ভুক্তভোগী রহিমা মিরপুরের হাসপাতালের কাজ শেষে ফেরার পথে যখন বাড়ির কাছাকাছি পৌঁছান, তখন আবদুল আলী রহিমা বেগমের পিঠে ও মুখে অ্যাসিড ছুড়ে মেরে পালিয়ে যান। রহিমাকে প্রথমে নেওয়া হয় মিরপুরের একটি হাসপাতালে। পরে তাঁকে শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়।

অ্যাসিডে তাঁর শরীরের ১৬ শতাংশ পুড়ে যায়।

মামলার বাদী রহিমার ভাই চান মিয়া প্রথম আলোকে বলেন, বিয়ের পর তাঁর বোন জানতে পারেন, আবদুল আলী মাদক সেবন করেন। ঠিকমতো কাজ করেন না। প্রায় সময় তাঁর বোনকে মারধর করতেন। দীর্ঘদিন আলীর নির্যাতন সহ্য করেছেন তাঁর বোন। গত ১ আগস্ট তাঁর বোন রহিমা স্বামী আলীকে তালাক দেন। এরপর আলী ক্ষিপ্ত হয়ে তাঁর বোনের পিঠ ও মুখমণ্ডলে অ্যাসিড ছুড়েছেন। তিনি আসামি আলীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চান।

আদালতে জমা দেওয়া পুলিশের প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, আসামি আলীর সঙ্গে সংসার করতে রাজি না হওয়ায় তিনি রহিমা বেগমের শরীরে অ্যাসিড ছুড়ে মেরেছেন। আসামি আলী অ্যাসিড কোথা থেকে সংগ্রহ করেছেন, তা জানার জন্য তাঁকে রিমান্ডে নেওয়া জরুরি বলে আদালতকে জানিয়েছে পুলিশ।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0