বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

র‍্যাব জানায়, গতকাল বুধবার তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁরা হলেন মাহমুদুল হাসান ওরফে সিয়াম, মোয়াজ্জেম হোসেন ওরফে সজীব ও মেহেদী হাসান ওরফে বাপ্পি। সিয়ামকে শরীয়তপুর থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। মোয়াজ্জেম ও মেহেদীকে কক্সবাজার থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

র‍্যাবের ভাষ্যমতে, সংঘর্ষকালে নিহত নাহিদ হত্যায় সরাসরি জড়িত গ্রেপ্তার মাহমুদুল। তিনি ঢাকা কলেজের স্নাতক তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। গ্রেপ্তার অন্য দুজন মোয়াজ্জেম ও মেহেদী দোকানকর্মী। তাঁদের বিতণ্ডা থেকেই সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়েছিল।

default-image

র‍্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন, ক্লোজড সার্কিট (সিসি) ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, নাহিদকে রড দিয়ে আঘাত করছেন মাহমুদুল। ফুটেজে একজনকে কোপাতে দেখা গেছে। তাঁকেও শনাক্ত করা হয়েছে। তাঁর নাম ইমন। তাঁকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

র‍্যাব জানায়, মাহমুদুলের গ্রামের বাড়ি শরীয়তপুর। মোয়াজ্জেম ও মেহেদী কক্সবাজারে বেশভূষা পরিবর্তন করে আত্মগোপনে ছিলেন। সেখানে তাঁরা বিভিন্ন আবাসিক হোটেলে চাকরির চেষ্টা করছিলেন।

ঘটনার সূত্রপাত সম্পর্কে র‍্যাব কর্মকর্তা খন্দকার আল মঈন বলেন, নিউমার্কেটে পাশাপাশি দুটি ফাস্ট ফুডের দোকানের কর্মচারীদের মধ্যে ইফতারি বিক্রয়ের টেবিল বসানো নিয়ে বিতণ্ডা থেকে হাতাহাতি হয়। প্রতিশোধ নিতে দুই দোকানকর্মী মোয়াজ্জেম ও মেহেদী ফোন করে তাঁদের পরিচিত দুষ্কৃতকারীদের আসতে বলেন। পরে দুই দোকানের কর্মচারীদের মধ্যে মারামারি হয়। একপর্যায়ে একটি স্বার্থান্বেষী মহল গুজব ছড়িয়ে ছাত্র ও কর্মচারীদের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি করে, যা সংঘর্ষে রূপে নেয়।

default-image

খন্দকার আল মঈন বলেন, সংঘর্ষকালে সাংবাদিকদের ওপর হামলা হয়। অ্যাম্বুলেন্স ভাঙচুর করা হয়। এসব ঘটনায় হামলাকারীদের অনেককেই শনাক্ত করা হয়েছে। যাঁদের শনাক্ত করা হয়েছে, তাঁদের মধ্যে দোকানকর্মী ও বহিরাগত ব্যক্তিরা রয়েছেন। তাঁদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

গত ১৮ এপ্রিল রাতে নিউমার্কেটের ব্যবসায়ী-কর্মচারীদের সঙ্গে ঢাকা কলেজের ছাত্রদের প্রথম দফায় সংঘর্ষ বাধে। পরদিন ১৯ এপ্রিল দিনভর নিউমার্কেট এলাকায় ঢাকা কলেজের ছাত্রদের সঙ্গে বিভিন্ন বিপণিবিতানের দোকানমালিক-কর্মচারী ও হকারদের সংঘর্ষ হয়।

সংঘর্ষে দুজন মারা যান। তাঁদের একজন কুরিয়ার সার্ভিসের কর্মী নাহিদ হোসেন। অপরজন নিউ সুপারমার্কেটের দোকানকর্মী মোহাম্মদ মোরসালিন। সংঘর্ষে আহত হন অর্ধশত ব্যক্তি।

default-image

সংঘর্ষের এ ঘটনায় মোট পাঁচটি মামলা হয়েছে। মোট আসামির সংখ্যা ১ হাজার ৭২৪। এর মধ্যে হত্যা মামলা দুটি, যেগুলোর তদন্ত করছে ডিবি। অন্য তিনটি মামলা তদন্ত করছে নিউমার্কেট থানার পুলিশ।

নাহিদকে হত্যার ঘটনায় ইতিমধ্যে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করে রিমান্ডে নিয়েছে ডিবি। তাঁরা হলেন মো. আবদুল কাইয়ুম, পলাশ মিয়া, মাহমুদ ইরফান, মো. ফয়সাল ইসলাম ও মো. জুনাইদ বোগদাদী।

ডিবি জানায়, এই পাঁচজনই ঢাকা কলেজের ছাত্র। সংঘর্ষের সময় তাঁরা ধারালো অস্ত্র নিয়ে সামনের সারিতে ছিলেন।

ঢাকা কলেজের একাধিক সূত্র জানায়, এই পাঁচজনই ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত।

রাজধানী থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন