default-image

রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালের করোনা আইসোলেশন সেন্টারে আগুনে নিহতদের পরিবারকে আপাতত ৩০ লাখ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দিতে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। ইউনাইটেড কর্তৃপক্ষকে ১৫ দিনের মধ্যে এই টাকা দিতে বলা হয়েছে।

পৃথক তিনটি রিটের পরিপ্রেক্ষিতে আজ সোমবার বিচারপতি জে বি এম হাসান ও বিচারপতি মো. খায়রুল আলমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ রুলসহ এ আদেশ দেন।

গত বছরের ২৭ মে ইউনাইটেড হাসপাতালের মূল ভবনের বাইরে আইসোলেশন ইউনিটে আগুন লেগে লাইফসাপোর্টে থাকা ৫ রোগীর মৃত্যু হয়। তাঁরা হলেন রিয়াজুল আলম (৪৫), খোদেজা বেগম (৭০), ভারনন অ্যান্থনি পল (৭৪), মো. মনির হোসেন (৭৫) ও মো. মাহাবুব (৫০)। ওই ঘটনায় ক্ষতিপূরণ দিতে নির্দেশনা চেয়ে নিহত রিয়াজুলের স্ত্রী ফৌজিয়া আক্তার, নিহত খোদেজার ছেলে মো. আলমগীর ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী নিয়াজ মোহাম্মদ মাহাবুব গত বছর আলাদা তিনটি রিট করেন।

রিটের শুনানি নিয়ে গত বছরের ১৫ জুলাই হাইকোর্টের একক ভার্চ্যুয়াল বেঞ্চ ১৫ দিনের মধ্যে ভুক্তভোগী প্রতিটি পরিবারকে ৩০ লাখ টাকা করে দিতে নির্দেশ দেন। এ আদেশের বিরুদ্ধে ইউনাইটেড হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আপিল বিভাগে আবেদন করে।

বিজ্ঞাপন

এর শুনানি নিয়ে গত বছরের ২১ জুলাই চেম্বার আদালত হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের আবেদনটি আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে শুনানির জন্য পাঠান। শুনানি নিয়ে গত বছরের ২০ আগস্ট আপিল বিভাগ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের আবেদন নিষ্পত্তি করে আদেশ দেন। একই সঙ্গে মোশন (নতুন মামলা) হিসেবে শুনতে পারেন, এমন উপযুক্ত হাইকোর্ট বেঞ্চে রিট দায়ের করতে রিট আবেদনকারীদের নির্দেশ দেওয়া হয়। এর ধারাবাহিকতায় রিট আবেদনকারীপক্ষ ওই বেঞ্চে রিটগুলো দাখিল করেন।

আদালতে রিটের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী অনীক আর হক, হাসান এম এস আজিম ও মুনতাসির আহমেদ। ইউনাইটেড হাসপাতালের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী মোস্তাফিজুর রহমান খান ও কাজী এরশাদুল আলম। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল তুষার কান্তি রায়।

পরে আইনজীবী হাসান এম এস আজিম প্রথম আলোকে বলেন, ইউনাইটেড হাসপাতালে নিহত ৫ জনের জীবন রক্ষায় বিবাদীদের ব্যর্থতা কেন অবৈধ হবে না, রুলে তা জানতে চাওয়া হয়েছে। নিহতদের ভুক্তভোগী প্রতি পরিবারকে ১৫ কোটি টাকা করে ক্ষতিপূরণ দিতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, তা–ও রুলে জানতে চাওয়া হয়েছে।

রাজধানী থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন