ঢাকার সচিবালয় এলাকার আশপাশে জেলা প্রশাসকের ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালান। এ সময় সাধারণ মানুষকে সচেতন করে মাস্ক বিতরণ ও জরিমানা করা হয়
ঢাকার সচিবালয় এলাকার আশপাশে জেলা প্রশাসকের ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালান। এ সময় সাধারণ মানুষকে সচেতন করে মাস্ক বিতরণ ও জরিমানা করা হয় ছবি: সাজিদ হোসেন

পেশায় গাড়িচালক সাজেদুল ইসলাম মাস্ক না পরেই সড়কে রাখা গাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে ছিলেন। অবশ্য তাঁর পকেটে মাস্ক ছিল। এ সময় সেখানে হাজির হন ভ্রাম্যমাণ আদালতের একটি দল। মাস্ক না পরার বিষয়ে জানতে চাইলে সাজেদুল নানা ছুতো দেন। আদালতকে তিনি বলেন, ‘আমার কাছে মাস্ক ছিল। পরতে ভুলে গেছি।’ এ অপরাধে ভ্রাম্যমাণ আদালত তাঁকে ১০০ টাকা জরিমানা করেন।

রাজধানীর গুলিস্তানের ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনের সামনে আজ রোববার বেলা সাড়ে ১১টার ঘটনা এটি। ঢাকা জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সচিবালয় ও গুলিস্তান এলাকায় মাস্ক পরিধান নিশ্চিত করতে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালিত হয়। আদালত এ সময় পথচারী, দোকানদার, ব্যবসায়ী, বাসের যাত্রীদের মাস্ক না পরার অপরাধে জরিমানা করেন। অভিযানের পাশাপাশি ওই এলাকায় অসচ্ছলদের মধ্যে বিনা মূল্যে মাস্ক বিতরণ করা হয়।

একই অপরাধে জরিমানা গুনতে হয়েছে সোহেল রানাকেও। এই তরুণ পকেটে মাস্ক রেখে গুলিস্তান মোড়ে দাঁড়িয়ে গল্প করছিলেন এক বন্ধুর সঙ্গে। তাঁকেও ১০০ টাকা জরিমানা করা হয়। মাস্ক পরেননি কেন জানতে চাইলে তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘হোটেল থেকে নাশতা করে বেরিয়েছি। মাস্ক পরতে ভুলে গেছি।’

সরকার স্বাস্থ্যবিধি মেনে বাইরে চলাচল করতে জোর দিচ্ছে। গত ২৫ অক্টোবর মন্ত্রিসভার বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে সেবা পেতে মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক। ১৮ নভেম্বর থেকে প্রতিদিন ঢাকা জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মহানগরী ও জেলার পাঁচটি উপজেলার বিভিন্ন স্থানে মাস্ক পরার বিষয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে অভিযান চালানো হচ্ছে। এ ছাড়া র‍্যাবের পক্ষ থেকেও অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। তবু স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে মানুষের উদাসীনতা দেখা যাচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

এই অভিযানের নেতৃত্ব দেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট উজ্জ্বল কুমার হালদার। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, অধিকাংশ মানুষের কাছেই মাস্ক থাকে। কিন্তু তাঁরা মাস্ক পরতে চান না। মাস্ক না পরার বিষয়ে মানুষ গরম লাগে, ভুলে গেছি, একটু আগে পরা ছিল—এসব বলে অজুহাত দেখান। মাস্ক পরার অভ্যাসটা বাড়ালে সবার জন্য উপকার হবে।
তবে মানুষের মধ্যে মাস্ক পরার প্রবণতা বাড়ছে উল্লেখ করে উজ্জ্বল কুমার হালদার বলেন, ‘গত সপ্তাহে পীর ইয়ামেনী মার্কেটে এসে আমি অভিযান চালিয়েছিলাম। পাঁচ থেকে সাতজন দোকানিকে মাস্ক ছাড়া পেয়েছিলাম। আজকে একই মার্কেটে এসে দেখলাম মোটামুটি সবাই মাস্ক পরেছেন।’

default-image

মাস্ক না পরার অপরাধে কাউকে ১০০ টাকা, কাউকে ৫০০ টাকা জরিমানা করেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। জরিমানার বিষয়ে জানতে চাইলে এই নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট বলেন, অপরাধের গুরুত্ব ও মাত্রা, সচেতনতার মাত্রা বুঝে জরিমানা করা হচ্ছে। একজন শিক্ষিত মানুষ অপরাধ করলে যে মাত্রায় শাস্তি হবে, একজন অক্ষরজ্ঞানহীন মানুষ অপরাধ করলে সেই মাত্রায় শাস্তি হবে না।

গুলিস্তানের ফুটপাতে মধু বিক্রেতা মো. ডালিমের মুখে কোনো মাস্ক ছিল না। ভ্রাম্যমাণ আদালত তাঁর সামনে এলে তিনি দ্রুত পকেট থেকে বের করে মাস্ক পরেন। এ সময় আদালত তাঁকে জিজ্ঞেস করেন মাস্ক না পরার কারণ কী। তিনি বলেন, ‘মাস্ক পরাই ছিল, একটু আগে খুলে রেখেছি।’ মাস্ক না পরার অপরাধে তাঁকে ১০০ টাকা জরিমানা করা হয়। এর ঠিক দেড় ঘণ্টা পর ফুটপাতে মো. ডালিমের কাছে গিয়ে দেখা যায়, তিনি মাস্ক পরেছেন ঠিকই। কিন্তু সেটি তাঁর থুতনিতে নামানো। জানতে চাইলে মো. ডালিম বলেন, গরমের কারণে মাস্ক নামিয়ে রেখেছেন।

মন্তব্য করুন