বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

প্রতিটি বিভাগের সেকশনগুলোতে দুটি বিষয়ের ক্লাস নেওয়া হয়েছে। তবে শিক্ষার্থীরা জানাল, বিষয়ভিত্তিক পড়ানোর চেয়ে তাদের করোনা পরিস্থিতি, স্বাস্থ্যবিধি মানা, কী করা যাবে, কী করা যাবে না—এসব নিয়ে পাঠদান করা হয়েছে।

বিজ্ঞান বিভাগের গ্রুপ–১৫–এর শিক্ষার্থী রিয়াদুল ইসলাম জানালেন, সকালে কাউকেই কলেজে মাস্ক ছাড়া ঢুকতে দেওয়া হয়নি। কলেজের ভেতরে কেউ মাস্ক নামালেও কলেজের কর্মচারীরা সতর্ক করে দিচ্ছিলেন। শ্রেণিকক্ষে প্রতিটি বেঞ্চে একজন করে শিক্ষার্থী বসানো হয়েছে।

কী কী বিষয় পড়ানো হয়েছে, জানতে চাইলে রিয়াদুল বলে, ‘আজ পদার্থবিজ্ঞান ও অঙ্কের ক্লাস ছিল। তবে প্রথম দিন বলে এসব বিষয় কম পড়ানো হয়েছে। ক্লাসের বেশির ভাগ সময় আমাদের গাইডেনস দেওয়া হয়েছে করোনার স্বাস্থ্যবিধি বিষয়ে। শারীরিক দূরত্ব মানা, মাস্ক পরা, হাত ধোয়া—এসব বিষয় নিয়েই শিক্ষকেরা বেশি কথা বলেছেন।’

এই কলেজের পদার্থবিজ্ঞানের শিক্ষক সুজিত কুমার দাস জানান, আজ তিনিও বিষয়ভিত্তিক পড়ানোর চেয়ে স্বাস্থ্যবিধিবিষয়ক পাঠদান করেছেন। সুজিত কুমার প্রথম আলোকে বলেন, ‘এই শিক্ষার্থীরা গত দেড় বছরে অনলাইনে আমাদের সঙ্গে যুক্ত ছিল। সরাসরি আজ প্রথম ওদের ক্লাস নিলাম। ক্লাসের বেশির ভাগ সময় মানসিকভাবে প্রস্তুত করতে উৎসাহমূলক কথা বলেছি। করোনার স্বাস্থ্যবিধি নিয়েই বেশি কথা হয়েছে।’

সকালে নটর ডেম কলেজের ফাদার টিম ভবনে গিয়ে দেখা যায়, এই ভবনের নিচতলার একটি কক্ষকে আইসোলেশন সেন্টার বানানো হয়েছে। এ ঘরে আছে তিনটি আসন, নানা ধরনের ওষুধ রাখা একটি আলমারি, একটি অক্সিজেন সিলিন্ডারসহ প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা। কলেজ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কোনো শিক্ষার্থীর জরুরি প্রয়োজন হলে তারা দ্রুতই ব্যবস্থা নিতে পারবে।

নটর ডেম কলেজের ব্যবস্থাপক লাল সরেন প্রথম আলোকে বলেন, সকালে শিক্ষার্থীদের প্রত্যেকের শরীরের তাপমাত্রা মেপে ভেতরে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়। কয়েকজন শিক্ষার্থীর অবশ্য শরীরের তাপমাত্রা ৯৯ ডিগ্রি ফারেনহাইট উঠেছিল। পরে কিছুক্ষণ বিশ্রামের পর দেখা গেল, তাপমাত্রা নেমে গেছে। এটা খুব সম্ভবত রোদে হাঁটার কারণে হয়েছে।

default-image

নটর ডেম কলেজ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এ কলেজের বিজ্ঞান, মানবিক ও বাণিজ্য—এ তিন বিভাগে মোট ২৫টি সেকশন আছে। এসব সেকশনে মোট শিক্ষার্থী ৩ হাজার ১৪৩ জন। এর মধ্যে আজ কলেজ শুরুর প্রথম দিনে অনুপস্থিত ছিল ১৪২ জন শিক্ষার্থী। অনুপস্থিত শিক্ষার্থীদের প্রসঙ্গে কলেজ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এসব শিক্ষার্থীর কেউ কেউ কলেজে ফোন করেছে। তাদের কারও জ্বর, ঠান্ডা বা শরীর খারাপ। একটা বড় অংশের শিক্ষার্থী অবশ্য ঢাকার বাইরে গ্রামের বাড়িতে আছে।

মাস্ক খুলেছে অনেকে

সকালে কলেজ শুরুর সময়ে ভেতরে ঢুকতে কড়াকড়ি ছিল। ভেতরে ঘোরাঘুরি করা শিক্ষার্থীদেরও কলেজের কর্মচারী ও কর্মকর্তারা দাঁড়িয়ে মাস্ক পরা, শারীরিক দূরত্ব মানতে সতর্ক করেন। শ্রেণিকক্ষগুলোতে ক্লাসের সময়ও শিক্ষকেরা শিক্ষার্থীদের মুখে মাস্ক সঠিকভাবে রাখার বিষয়টি খেয়াল করেছেন। তবে ক্লাস ছুটির পর শিক্ষার্থীরা বেরিয়ে একে একে আড্ডায় মেতে ওঠে। এ সময় অনেককেই মুখের মাস্ক নামিয়ে রাখতে দেখা যায়।

বেলা সাড়ে এগারোটার দিকে সকালের পালার দ্বিতীয় ভাগের শিক্ষার্থীদের ক্লাস শেষ হয়। ক্লাস শেষে শিক্ষার্থীরা মাঠে চলে আসে। এ সময় অনেকেই মুখের মাস্ক নামিয়ে, গা ঘেঁষে আড্ডা দেয়। কেউ কেউ হাত মেলায়।

মানবিক বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী জাহিদ হাসান বলেন, ‘কলেজে ঢোকা ও ক্লাসের ভেতরে স্বাস্থ্যবিধি মানা হচ্ছে। তবে বাইরে স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। আমি অবশ্য কারও সঙ্গে হাত মেলাইনি, জড়িয়ে ধরিনি। তবে অনেকেই এটা করছে। আমাদের ভাবা উচিত, করোনায় আক্রান্ত হলে পরিবারও আক্রান্ত হতে পারে।’

অভিভাবকেরা যা বললেন

দীর্ঘদিন পর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলায় অভিভাবকেরা স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। তাঁরা বলছেন, করোনার কারণে বাসায় বসে থেকে শিক্ষার্থীরাও ভালো ছিল না। অনলাইনে ক্লাস হয়েছে, তবে তা সরাসরি ক্লাসের মতো নয়।

নটর ডেম কলেজের মূল গেটের বাইরে দাঁড়িয়ে ছিলেন রেজাউল করিম। তাঁর সন্তান এ কলেজের বিজ্ঞান বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী। রেজাউল প্রথম আলোকে বলেন, এত দিন বাচ্চারা কলেজের অভিজ্ঞতা থেকে বঞ্চিত ছিল। এখন তো দেশে করোনার প্রকোপ কিছুটা কমে এসেছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার সিদ্ধান্তটা দরকার ছিল। তিনি বলেন, তবে কলেজ কর্তৃপক্ষকে খেয়াল রাখতে হবে যেন ভেতরে শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যবিধি কঠোরভাবে মানা হয়।

রাজধানী থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন