বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

সমাবেশে যুক্ত হয়ে শাহরিয়ার কবির বলেন, ‘আমাদের পুরুষতান্ত্রিক সমাজে নারীরা বিভিন্নভাবে নিগ্রহ, বৈষম্য ও নিপীড়নের শিকার হচ্ছেন। এটি একটি সামাজিক ব্যাধিতে পরিণত হয়েছে৷ সম্প্রতি অভিনেত্রী পরীমনিকে কেন্দ্র করে যা ঘটেছে, তা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক ও নিন্দনীয়। বাংলাদেশের মতো দেশে এ ধরনের ঘটনা বিশ্বাস করতে কষ্ট হয়। আফগানিস্তানে তালেবান সরকারের অধীনে এটি ঘটলে বিস্ময়ের কারণ ছিল না৷ ৩০ লাখ জীবনের বিনিময়ে স্বাধীন হওয়া বাংলাদেশে ধর্ম-বর্ণ-লিঙ্গ-জাতিসত্তা–নির্বিশেষে সমান অধিকার ও মর্যাদা নিয়ে বাস করবেন। সেই দেশে যখন এ ধরনের ঘটনাগুলো বারবার ঘটে, তখন আমাদের নিন্দা জানানোর ভাষা থাকে না। পরীমনির ঘটনায় আমরা অত্যন্ত মর্মাহত। এসবের বিরুদ্ধে সম্মিলিত প্রতিবাদ হওয়া দরকার। মৌলবাদের বিরুদ্ধে লড়াই অব্যাহত রাখতে হবে।’

default-image

সমাবেশে অংশ নিয়ে শিল্পীর পাশে শিল্পী ও সমাজকে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান নাট্যব্যক্তিত্ব মামুনুর রশীদ। তিনি বলেন, ‘অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ যুক্তিসংগত। অন্ততকাল এই বিদ্রোহ চলবে। ব্রিটিশ আমল থেকে শুরু করে পাকিস্তান আমল এবং তারপর বাংলাদেশ আমল। আমরা প্রত্যাশা করেছিলাম, যেহেতু বাংলাদেশের জন্ম ও সব স্বাধিকার আন্দোলনে মুখ্য ভূমিকা পালন করেছেন সংস্কৃতিকর্মী ও শিল্পীরা, কাজেই শিল্পীরা তাঁদের ন্যায়সংগত অধিকার পাবেন, অন্যায়ের প্রতিবাদ করবেন। কিন্তু আমরা অত্যন্ত ক্ষোভ, দুঃখ ও বেদনার সঙ্গে দেখছি, শিল্পীদের সেই অধিকার মাঝেমধ্যে হরণ ও অবহেলা করা হয়। আমাদের সরকারগুলো শিল্পীদের প্রকৃত অর্থে কোনো মূল্যায়ন করেনি, পাশে দাঁড়ায়নি। সম্প্রতি নানা ধরনের কালাকানুনের কারণে আমাদের লেখকেরা মৃত্যুবরণ পর্যন্ত করেছেন, যা অত্যন্ত ক্ষোভের বিষয়।’

মুঠোফোনে যুক্ত হয়ে মানবাধিকারকর্মী খুশী কবির বলেন, ‘সংস্কৃতিকর্মীরা আমাদের চিন্তা-মননকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য যে ভূমিকা পালন করছেন, তা অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। এতে মানুষের চিন্তার জায়গা বাড়ে। সমাজের দুর্নীতি-শোষণকে মানুষ বুঝতে শেখে। এগুলো করতে গিয়ে সংস্কৃতিকর্মীরা যখন হুমকির মুখোমুখি হন, তা একটি সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য কখনোই মঙ্গলজনক হতে পারে না।’

default-image

গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশনের সেক্রেটারি জেনারেল কামাল বায়েজিদ বলেন, শিল্পীদের সঙ্গে অন্যায় আচরণ করা হচ্ছে। শিল্পীদের প্রতি এখনো দেশে অবহেলা রয়ে গেছে। তাঁদের জন্য রাষ্ট্রের কোনো পৃষ্ঠপোষকতা নেই। রাষ্ট্রের এই দৃষ্টিভঙ্গি পাল্টাতে হবে।

চলচ্চিত্র নির্মাতা অপরাজিতা সঙ্গীতা প্রশ্ন তোলেন, বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির দায়িত্বটা কী? কেন তারা একজন শিল্পীর পাশে দাঁড়াল না? অপরাধ প্রমাণের আগেই কেন তাঁর (পরীমনি) সদস্যপদ স্থগিত করা হলো? তাদের কাজটা কী?
কর্মসূচিতে লিখিত বক্তব্য পড়ে শোনান এই আয়োজনের অন্যতম উদ্যোক্তা চলচ্চিত্রকার মোস্তফা মনন। লিখিত বক্তব্যে ৬ দফা দাবি তুলে ধরা হয়। এগুলো হলো শিল্প-সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে বিভিন্ন বিধিনিষেধ আরোপ ও হয়রানি অবিলম্বে বন্ধ করা, অনিয়মতান্ত্রিক আইনি প্রক্রিয়ায় শিল্পীদের হেয় না করা, শিল্পীদের নীতি পুলিশি-সাইবার বুলিং ও মিডিয়া ট্রায়াল বন্ধ করা, সরকার, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিপর্যায় থেকে দায়িত্বশীল আচরণ, বিকৃতির বিরুদ্ধে বিটিআরসির সক্রিয় ভূমিকা এবং তল্লাশি-গ্রেপ্তার-রিমান্ডের বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনার পূর্ণ বাস্তবায়ন।

default-image

কর্মসূচিতে নাটক পরিবেশন করেন নাটকের দল প্রাচ্যনাট, বটতলা, নব আনন্দ ও থিয়েটার ’৫২- এর সদস্যরা। আবৃত্তি পরিবেশন করেন কবি টুকু মজনুন, সাংবাদিক ইশরাত জাহান, অনন্যা লাবনী ও আবৃত্তি শিল্পী সংসদের সদস্যরা। গান পরিবেশন করেন শিল্পী অরূপ রাহী ও শারমিন ইতি। সমাবেশে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষক এস এম মাসুম বিল্লাহ, লেখক স্বকৃত নোমান, যুব ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক খান আসাদুজ্জামান, গৌরব ৭১-এর সাধারণ সম্পাদক এফ এম শাহীন, সমগীতের সদস্য বিথী ঘোষ, অভিনয়শিল্পী ঋতু সাত্তার প্রমুখ।

রাজধানী থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন