বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

মিছিল-পরবর্তী সমাবেশে অংশ নিয়ে পার্বত্য চুক্তির দ্রুত বাস্তবায়ন দাবি করে ঊষাতন তালুকদার বলেন, ‘পাহাড়ের মানুষের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে। নিয়ম না থাকলেও প্রশাসনের ছত্রচ্ছায়ায় পাহাড়ে জমি ইজারা দেওয়া হচ্ছে। আইন লঙ্ঘন করে সেখানে ধরাকে সরা জ্ঞান করা হচ্ছে। এটা ঠিক নয়, সীমা থাকা উচিত। তাই আর গড়িমসি বা কালক্ষেপণ নয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চুক্তির বিষয়ে আন্তরিক। কিন্তু কার দ্বারা তিনি বাধাগ্রস্ত হচ্ছেন, তা আমরা জানি না। আমরা তাঁকে সাহস ও অধিকতর উপলব্ধি নিয়ে এগিয়ে এসে চুক্তি বাস্তবায়নের আহ্বান জানাই। পাহাড়ের মানুষ বিচ্ছিন্নতাবাদী নন।

তাঁরা বাংলাদেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব স্বীকার করেন, পতাকাকে সম্মান জানান। তাঁরা শুধু নিজেদের স্বকীয় বৈশিষ্ট্য ও অস্তিত্ব-সংস্কৃতি-ভূমি নিয়ে বেঁচে থাকতে চান।’
আন্দোলন বন্ধ করতেই পার্বত্য চট্টগ্রামে ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর মানুষের মধ্যে বিভাজন সৃষ্টি করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন ঊষাতন তালুকদার। তিনি বলেন, ‘অনেকে মনে করে থাকতে পারেন, পাহাড়ে অনেক দ্বিধাবিভক্তি, দল-উপদল। কিন্তু এগুলো কারা করেছে, কার পকেট থেকে বেরিয়েছে, কীভাবে ও কেন করা হয়েছে—এসব আমাদের বুঝতে হবে। এসব করা হয়েছে বিভাজনের জন্য, দলাদলির কারণে যাতে অধিকারের আন্দোলন না হয়। এই বিভক্তি, দুর্বলতা ও অক্ষমতার কারণে কি সরকার চুক্তিকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখাতে পারে? সেটা তো শুধু শেখ হাসিনার সঙ্গে সন্তু লারমার চুক্তি ছিল না। এটা ছিল রাষ্ট্রের সঙ্গে পাহাড়ি আদিবাসী মানুষের চুক্তি। সরকারের পক্ষ থেকে উদার মানসিকতা নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে।’

ঊষাতন তালুকদার আরও বলেন, ‘সাংবিধানিকভাবে স্বীকৃত আঞ্চলিক পরিষদের সভায় জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানরা যান না। আঞ্চলিক পরিষদকে তাঁরা থোড়াই কেয়ার করেন। এটা কি ছেলেখেলা? সরকার কি এ বিষয়ে অবগত নয়? এ ছাড়া যে উন্নয়ন বোর্ড আঞ্চলিক পরিষদের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হওয়ার কথা, তারা আঞ্চলিক পরিষদকে কিছু জানায় না। তারা জনগণকে তোয়াক্কা করে না। এতে বোঝা যায়, আঞ্চলিক পরিষদ ও জেলা পরিষদকে অথর্ব করে রাখা হচ্ছে। সেখানে ডিসি-এসপিরাই সর্বেসর্বা। তাহলে চুক্তি করে কী লাভ হলো? চুক্তি হওয়ার পরও স্বাধীন দেশের একটি অঞ্চল কেন নিগৃহীত-উপেক্ষিত থাকবে?’

এ সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক রোবায়েত ফেরদৌস বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে বাঙালিরা সামরিক, ভাষা ও জাতিগত নিপীড়ন চালাচ্ছে। একসময়কার নিপীড়িত বাঙালি জাতি এখন নিপীড়কের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে। পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়নের মধ্যেই আসলে সাফল্য, গর্ব বা অহংকার। চুক্তি নিয়ে ছলচাতুরির মধ্যে কোনো সাফল্য, গর্ব বা অহংকার নেই।

সমাবেশে রোবায়েত ফেরদৌস আরও বলেন, আদিবাসীদের সংখ্যালঘু নয়, সংখ্যাশূন্য করা হয়েছে। পার্বত্য চট্টগ্রামেও ডেমোগ্রাফিক ইঞ্জিনিয়ারিং করা হয়েছে। বাংলাদেশের সংবিধানে যাঁরা নিজেদের স্বীকৃতি চান, তাঁরা বিচ্ছিন্নতাবাদী; নাকি যাঁরা সেই স্বীকৃতি দেন না, তাঁরা বিচ্ছিন্নতাবাদী? চুক্তির দুই যুগ পেরিয়ে গেছে। অনেক প্রতারণা ও জালিয়াতি হয়েছে। উন্নয়ন ও পর্যটনের নামে মানুষকে উদ্বাস্তু করা হয়েছে। রাষ্ট্রকে ধর্মনিরপেক্ষ হওয়ার পাশাপাশি জাতি-ভাষা-লিঙ্গ ও যৌনতানিরপেক্ষও হতে হবে। রাষ্ট্রকে হতে হবে অন্তর্ভুক্তিমূলক।

পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক নিপুণ ত্রিপুরা বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে ঐতিহাসিকভাবেই নির্যাতন-উচ্ছেদের স্টিম রোলার অব্যাহত আছে। মুক্তিযুদ্ধের পর অঞ্চলটির মানুষের অধিকার বাস্তবায়িত হওয়ার কথা থাকলেও তা হয়নি। উন্নয়নের নাম করে সেখানে হাজার হাজার একর ভূমি দখল করা হচ্ছে।
আদিবাসী ছাত্রসংগ্রাম পরিষদের সভাপতি অলীক মৃ বলেন, ‘পার্বত্য চট্টগ্রামের তিন জেলা যেন একটি যুদ্ধক্ষেত্র। সেখানে জনগণের মৌলিক অধিকার লঙ্ঘন করা হচ্ছে। ২০২২ সালে পার্বত্য শান্তিচুক্তির রজতজয়ন্তী হবে। এই সময়ের মধ্যে আমরা সেই চুক্তির পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন দেখতে চাই।’

সমাবেশে অন্যদের মধ্যে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য চঞ্চনা চাকমা; আদিবাসী যুব ফোরামের সভাপতি অনন্ত বিকাশ ধামাই; পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের কেন্দ্রীয় তথ্য, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক রেং ইয়ং ম্রো; ছাত্র ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক দীপক শীল প্রমুখ বক্তব্য দেন।

রাজধানী থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন