বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
default-image

অভিযোগপত্রে বলা হয়, অভির প্ররোচনায় মডেল তিন্নি তাঁর স্বামীকে তালাক দেন। কিন্তু এরপর অভি তিন্নিকে বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানালে তিন্নি এসব তথ্য মিডিয়ায় ফাঁস করে দেওয়ার হুমকি দেন। ক্ষিপ্ত হয়ে অভি ২০০২ সালের ১০ নভেম্বর সন্ধ্যার পর রাতের যেকোনো সময় তিন্নিকে হত্যা করে লাশ গুম করার জন্য গাড়িতে করে কেরানীগঞ্জ থানার ১ নম্বর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সেতুর কাছে ফেলে রাখেন। ওই মামলায় রায় ঘোষণার জন্য গত বছরের ১৫ নভেম্বর দিন ঠিক ছিল। তবে সেদিন মামলার গুরুত্বপূর্ণ দুই সাক্ষী তিন্নির বাবা ও চাচা সাক্ষ্য দিতে চাইলে আদালত রায় মুলতবি করে সাক্ষ্য গ্রহণের দিন ঠিক করেন। আজ বুধবার তিন্নির বাবার সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ হয়েছে। তবে তিন্নির চাচার সৈয়দ রেজাউল করিমের আংশিক সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়েছ। বাকি সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য আগামী ২৩ ফেব্রুয়ারি দিন ঠিক করেন আদালত।

তিন্নির বাবা যা বললেন

তিন্নি নিখোঁজ হওয়ার কয়েক দিন আগের ঘটনা প্রসঙ্গে সৈয়দ মাহাবুব করিম বুধবার আদালতে বলেন, ‘তিন্নি আমাকে রাত ৯টার দিকে টেলিফোন করে বলেছিল ধানমন্ডি উপস্থিত হওয়ার জন্য। পরে আমি ধানমন্ডি উপস্থিত হই। সেখানে তিন্নি বাবু নামের একজনের সঙ্গে আমাকে পরিচয় করিয়ে দেয়। তিন্নি তখন বলে, বাবুই হচ্ছেন অভি। তখন অভি আমাকে অনেক সম্মান করেন। জুস খাওয়ার জন্য জোরাজুরি করেন। পরে আমি তিন্নিকে নিয়ে বাসায় চলে আসি। আসার সময় তিন্নিকে জিজ্ঞাসা করি, অভির সঙ্গে এই ঘোরাঘুরি কেন? তখন সে আমাকে বলেছিল, অভির সঙ্গে আমার অ্যাফেয়ার আছে এবং অভি আমাকে বিয়ে করবেন। তখন আমি তিন্নিকে পিয়ালের কথা বলি। বলি, এখন তুমি কীভাবে অভিকে বিয়ে করবে। আমি এমন বিয়ে মানি না। তখন তিন্নি আমায় বলেছিল, আমি পিয়ালের সঙ্গে থাকতে চেয়েছি। কিন্তু পিয়াল আমাকে ধরে রাখতে পারেনি।’

সৈয়দ মাহাবুব করিম বলেন, ‘পরের দিন রাত ১০টার দিকে অভি আমাকে পিয়াল ও তিন্নির বাসায় ডেকে নিয়ে যান। সেখানে পিয়ালও ছিল। আরও ছিল পিয়ালের ভাই রিয়াল ও দুজন কাজের মেয়ে। অভি আমাকে তখন বলেছিল, আমি পিয়ালের কাছ থেকে তালাক নিয়ে নেব। এরপর অভি পিয়ালকে ধমকের সুরে বলেন, আমি দুটি ডিভোর্স লেটার ব্যাকডেটে পাঠাব। সেগুলো তুমি ব্যাকডেটে সিগনেচার করে দেবে। অভি পিয়ালকে জিজ্ঞাসা করেছিল, এই বাসার মধ্যে তোমার কী কী জিনিস আছে? জবাবে পিয়াল বলেছিল, এই বাসায় যা আছে সবই আমার। তারপর অভি বলেছিলেন, রোজার ঈদের পর আমি তিন্নিকে বিয়ে করব। অভি আরও বলেন, তিন্নির মেয়ে আনুশকা পিয়ালের সঙ্গে থাকবে। এরপর অভি তিন্নিকে বলে, তোমার ব্যাংক হিসাবে কত টাকা আছে। জবাবে তিন্নি বলে, ৭০ হাজার টাকা। সঙ্গে সঙ্গে পিয়াল বলে, ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা ছিল। তখন অভি তিন্নিকে বলেছিল, তুমি আমার সঙ্গে কেন মিথ্যা কথা বললে।’

তিন্নির নিখোঁজ হওয়ার দিনের ঘটনা সম্পর্কে তিন্নির বাবা আদালতে আরও বলেন, ‘১০ তারিখ (২০০২ সাল) সন্ধ্যার পর আনুমানিক ৭টা বা সাড়ে ৭টার দিকে তিন্নি আমার বাসায় আসে। তিন্নি সেদিন কিছু খেতে চায়নি। বড়জোর বাসায় ছিল ৫ থেকে ৭ মিনিট। তিন্নি সেদিন তাঁর দাদার পায়ে ধরে সালামও করে। বুকে জড়িয়ে আদর করে। আমার কাছে দুঃখ প্রকাশ করে বলেছিল, ওই দিনের জন্য দুঃখিত। আমাকে তুমি মাফ করে দিও। তারপর তিন্নিকে আমি বাসায় থাকতে বলি। তখন তিন্নি আমায় বলেছিল, অভি নাকি তাকে কোথায় নিয়ে যাবে। এরপর তিন্নি বাসা থেকে চলে যায়। পরে রাত ৯টার সময় তিন্নির বাসার কাজের মেয়ে বীণা আমার বাসায় আসে। আমাকে বলেছিল, তিন্নি আপু কোথায়? তখন আমি বলি, ও তো আরও আগে চলে গেছে। তখন বীণা বলে, অভি ভাই, বাসায় তিন্নিকে না পেয়ে রাগারাগি করছে। রাত ১০টা পর্যন্ত দুই থেকে তিনবার তিন্নিকে খুঁজতে আসে অভি। আমরা অস্থির হয়ে যাই। রাত ১১টার দিকে আব্বা আমাকে ও ভাইয়াকে বলে, তোরা রাতে বাসায় থাকিস না। অভি এসে শাসিয়ে গেছে। ভাইয়া (সৈয়দ রেজাউল করিম) তখন আমাকে রামপুরার বাসায় নিয়ে যায়। ১৫ তারিখ (১৫ নভেম্বর) পর্যন্ত আমরা সেখানে ছিলাম।’

default-image

তিন্নির বাবা আরও বলেন, ‘১৫ তারিখ (১৫ নভেম্বর) সকাল ৯টার দিকে আমার মামাতো ভাই পেপারে (পত্রিকায়) তিন্নির লাশের ছবি আমাকে দেখান। আমি লাশ দেখে চিনতে পারি। তারপর আমরা কেরানীগঞ্জ থানায় যায় এবং লাশ দেখতে চাই। পরের দিন পুলিশ ম্যাজিস্ট্রেট নিয়ে জুরাইনে কবর থেকে লাশ উত্তোলন করে। লাশ দেখে তিন্নিকে শনাক্ত করি। পরে আমরা পত্রিকায় ও মানুষের মুখে শুনতে পারি, অভিই তিন্নিকে হত্যা করেছে। তিন্নির লাশ যেদিন পত্রিকায় ছাপা হয়, সেদিন কলাবাগানে অভির সঙ্গে আমার ভাইয়ের দেখা হয়। অভি ভাইয়াকে বলেছিল, তিন্নিকে খুঁজতে হবে না। অভি ভাইয়াকে ৫০০ টাকা দিতে চেয়েছিল। কিন্তু ভাই কোনো টাকা নেয়নি।’

রাজধানী থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন