বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আদালতসংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, মডেল পিয়াসার বিরুদ্ধে তিনটি পৃথক মাদক মামলায় অভিযোগপত্র জমা দিয়েছে সিআইডি। এর মধ্যে গুলশান থানায় করা মাদক মামলার অভিযোগপত্রে সিআইডি বলছে, পিয়াসা মডেলিং পেশার আড়ালে নিয়মিত ক্লাবে যেতেন এবং ক্লাব থেকে টাকার বিনিময়ে নিয়মিত মদ সংগ্রহ করতেন। পরে এসব মাদকদ্রব্য তিনি ক্লাব ও বাসায় বিভিন্ন পার্টিতে আসা লোকজনের কাছে বিক্রি করতেন। তবে পিয়াসা কোন ক্লাব থেকে, কার কাছ থেকে কিংবা কী ধরনের মাদকদ্রব্য সংগ্রহ করেছিলেন, সে ব্যাপারে অভিযোগপত্রে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্যের উল্লেখ নেই।

যোগাযোগ করা হলে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির পরিদর্শক আবদুল লতিফ প্রথম আলোকে বলেন, ‘তদন্তে যা উঠে এসেছে, সেটি আদালতকে প্রতিবেদন আকারে জানিয়েছি।’

অবশ্য পিয়াসার আইনজীবী মাহিনুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমার মক্কেল পিয়াসা শুরু থেকে বলে আসছেন, তাঁকে এ মামলায় ষড়যন্ত্রমূলকভাবে ফাঁসানো হয়েছে। তিনি মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত নন।’

গত ১ আগস্ট রাজধানীর গুলশানের ভাড়াবাসা থেকে বিদেশি মদ, ইয়াবাসহ ফারিয়া মাহাবুব পিয়াসাকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। একই দিন রাজধানীর মোহাম্মদপুর থেকে গ্রেপ্তার হন মরিয়ম আক্তার। দুজনের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে পৃথক মামলা হয়। অবশ্য পরে পিয়াসার বিরুদ্ধে খিলক্ষেত ও ভাটারা থানায় আরও দুটি মাদক মামলা হয়। প্রতিটি মামলায় পিয়াসার মাদক ব্যবসায় জড়িত থাকার তথ্য-প্রমাণ পেয়েছে বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করেছে সিআইডি।

অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, পিয়াসার বাসা থেকে জব্দ করা বিদেশি মদ, বিয়ার, সিসা, ইয়াবা সম্পর্কে সঠিক কোনো জবাব দিতে পারেননি তিনি।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে তদন্ত কর্মকর্তা আবদুল লতিফ বলেন, এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করবেন না।

অন্যদিকে খিলক্ষেত থানায় করা মাদক মামলায় পিয়াসা ও মাসুদুল ইসলামকে অভিযোগপত্রভুক্ত করা হয়েছে। অন্যদিকে ভাটারা থানার মাদক মামলায় পিয়াসা ও শরিফুল হাসানকে আসামি করেছে সিআইডি। এ দুই মামলার অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, শরিফুল হাসান ও মাসুদুল মাদক ব্যবসায় জড়িত রয়েছেন। তাঁদের কাছ থেকে ইয়াবা জব্দ করা হয়েছে। তাঁদের সহযোগী হিসেবে ভূমিকা রাখেন পিয়াসা।

খিলক্ষেত থানায় করা মাদক মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ফতেহ মো. ইফতেখারুল আলম প্রথম আলোকে বলেন, পিয়াসার সঙ্গে শরিফুল ও মাসুদুলের যোগাযোগ রয়েছে। এ মামলায় পিয়াসা ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। মাদক ব্যবসায় সম্পৃক্ততা পাওয়ায় তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছে।

এদিকে মাদক মামলায় উচ্চ আদালত থেকে জামিন পেয়েছেন আসামি মরিয়ম আক্তার। তাঁর বিরুদ্ধে দেওয়া অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, মাদক ব্যবসায় মরিয়মের জড়িত থাকার প্রমাণ মিলেছে।

আদালত সূত্র বলছে, আগামী বৃহস্পতিবার ঢাকার মহানগর দায়রা জজ আদালতে ফারিয়া মাহাবুবের জামিন শুনানির দিন ধার্য রয়েছে।

রাজধানী থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন