default-image

ব্লগার ওয়াশিকুর রহমান হত্যা মামলায় আজ সোমবার দুজন সাক্ষীর পুনরায় জবানবন্দি নিয়েছেন আদালত। আগামী ৪ ফেব্রুয়ারি মামলার পরবর্তী সাক্ষ্য গ্রহণের তারিখ ঠিক করেছেন আদালত। ঢাকার তৃতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ রবিউল আলম আজ সোমবার এই আদেশ দেন।

যে দুজন সাক্ষীর পুনরায় সাক্ষ্য নেওয়া হয়েছে, তাঁরা হলেন আবু ইউসুফ এবং এস এম সেলিম রেজা।

২০১৫ সালের ৩০ মার্চ রাজধানী ঢাকার তেজগাঁও শিল্পাঞ্চলের বেগুনবাড়িতে দুর্বৃত্তদের চাপাতির আঘাতে খুন হন ব্লগার ওয়াশিকুর। ঢাকার মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) তদন্ত করে ওই বছরের ২ সেপ্টেম্বর আনসারুল্লাহর পাঁচ সদস্যকে আসামি করে অভিযোগপত্র দেয়।

রাষ্ট্রপক্ষের সরকারি কৌঁসুলি সালাউদ্দিন হাওলাদার প্রথম আলোকে বলেন, এটি একটি নৃশংস হত্যাকাণ্ড। নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের সদস্যরা নৃশংসভাবে ব্লগার ওয়াশিকুর রহমানকে হত্যা করে। রাষ্ট্রপক্ষ এবং আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হয়েছে। আদালত রায় ঘোষণার জন্য ২৭ অক্টোবর দিন ঠিক করেন। তবে সেদিন রাষ্ট্রপক্ষ থেকে রায় স্থগিত চেয়ে আদালতে আবেদন করা হয়।
রাষ্ট্রপক্ষ থেকে এই মামলার অভিযোগ গঠনের সংশোধনীসহ নতুন করে অভিযোগ গঠনের আদেশ চেয়ে আদালতে আবেদন করা হয়। আদালত রাষ্ট্রপক্ষের আবেদন মঞ্জুর করেন।


রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনে আরও বলা হয়, এই মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে তিনজন আসামি জেলহাজতে আছেন। পলাতক আছেন দুই আসামি। ব্লগার ওয়াশিকুর হত্যায় ঘটনাস্থল থেকে গ্রেপ্তার হন দুই আসামি জিকরুল ইসলাম ও আরিফুল ইসলাম। পরে এই মামলায় গ্রেপ্তার হন সাইফুল ইসলাম নামের আরেকজন আসামি। এই খুনের ঘটনার সময় জেলখানায় ছিলেন তিনি। পরে এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে তাঁকে এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। তিনি আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন

বিজ্ঞাপন

মামলায় সব আসামির বিরুদ্ধে অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রে জড়িত থাকার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে। মামলায় পাঁচ আসামির মধ্যে তিনজন কারাগারে আছেন। তাঁদের আদালতে হাজির করা হয়। তিন আসামি হলেন জিকরুল্লাহ ওরফে হাসান, আরিফুল ইসলাম ওরফে মুশফিক ওরফে এরফান ও সাইফুল ইসলাম ওরফে মানসুর। আর দুজন পলাতক রয়েছেন। তাঁরা হলেন জুনেদ ওরফে জুনায়েদ আহমেদ ও আকরাম হোসেন ওরফে হাসিব ওরফে আবদুল্লাহ। এই হত্যা মামলায় ২০১৬ সালের ২০ জুলাই নিষিদ্ধঘোষিত জঙ্গি সংগঠন আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের পাঁচ সদস্যের বিচার শুরুর আদেশ দেন আদালত।

২০১৫ সালের ৩০ মার্চ রাজধানী ঢাকার তেজগাঁও শিল্পাঞ্চলের বেগুনবাড়িতে দুর্বৃত্তদের চাপাতির আঘাতে খুন হন ব্লগার ওয়াশিকুর। এ ঘটনার পরপরই জনতা ধাওয়া করে মাদ্রাসাছাত্র জিকরুল্লাহ ও আরিফুলকে ধরে ফেলে। আর সাইফুলকে হত্যাকাণ্ডের কয়েক দিন আগে অস্ত্রসহ যাত্রাবাড়ী এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে এই হত্যার পরিকল্পনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে এ মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। হত্যাকাণ্ডের পরদিন চারজনকে আসামি করে তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানায় এ মামলা করেন ওয়াশিকুরের ভগ্নিপতি মনির হোসেন।


ঢাকার মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) তদন্ত করে ২০১৫ সালের ২ সেপ্টেম্বর আনসারুল্লাহর পাঁচ সদস্যকে আসামি করে অভিযোগপত্র দেয়। অভিযোগপত্রে বলা হয়, পলাতক আসামি আবদুল্লাহ হত্যার পুরো বিষয়টি পরিকল্পনা করেছিলেন এবং বাস্তবায়নের জন্য কাজ করেন।

রাজধানী থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন