বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

পুরান ঢাকার সূত্রাপুরের বানিয়ানগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। এখানে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। সকাল থেকে শিক্ষার্থীদের বরণ করে নিতে ব্যস্ত ছিলেন শিক্ষকেরা। স্বাস্থ্যবিধির সবকিছু ঠিক আছে কি না, তা বারবার নিশ্চিত করছিলেন প্রধান শিক্ষক। বিদ্যালয়ে উপস্থিত শিক্ষার্থীদের অধিকাংশই ইউনিফর্ম পরে আসতে দেখা যায়। প্রথম দিনে তৃতীয় ও পঞ্চম শ্রেণির ক্লাস নেওয়া হয়। পঞ্চম শ্রেণির ২২ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ২০ জন ও তৃতীয় শ্রেণির ৩১ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ১৭ জন উপস্থিত ছিল।

স্কুলের শিক্ষকেরা বলেন, ‘প্রথম দিনে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি আশানুরূপ। সকাল সাড়ে সাতটায় এসেই আমরা সব স্বাস্থ্যবিধি ঠিক আছে কি না, তা নিশ্চিত করি। এরপর জাতীয় পতাকা উত্তোলন করে শিক্ষার্থীদের প্রবেশ করানো শুরু হয়। এ সময় অভিভাবকদের বিদ্যালয়ে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। পাশাপাশি সব শিশুর তাপমাত্রাও নিশ্চিত করা হয়েছে। যারা মাস্ক আনতে ভুলে গিয়েছিল, তাদের মাস্ক সরবরাহ করা হয়। শিক্ষার্থীরা ক্লাসে প্রবেশ করার আগে সাবান দিয়ে হাত ধুয়ে নেয়।’
বিদ্যালয়ে দেখা যায়, কাগজ দিয়ে চিহ্নিত করা হয়েছে শিক্ষার্থীরা কোথায় বসবে, যেন সব শিক্ষার্থীর মধ্যে ন্যূনতম তিন ফুট দূরত্ব নিশ্চিত করা সম্ভব হয়। বারান্দা ও টয়লেটে ব্লিচিং পাউডার ছিটানোর পাশাপাশি শিশুদের যেন মশায় না কামড়ায়, সে জন্য ওষুধ ছিটানো হয়েছে। প্রতিটি বেসিনের পাশেই সাবান দেখতে পাওয়া যায়।

বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির বাংলা ক্লাস নিচ্ছিলেন সহকারী শিক্ষক জলি বেগম। ক্লাসের শুরুতেই সব শিক্ষার্থীকে স্বাস্থ্যসচেতনতার বিষয়গুলো বোঝাচ্ছিলেন তিনি। ক্লাসে ও বাড়ি ফিরে কীভাবে চলতে হবে, তা–ও জানান এই শিক্ষক।

জলি বেগম প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা প্রথম সপ্তাহে শিক্ষার্থীদের ভীতি কাটিয়ে ওঠা এবং আগের মতো শিক্ষার পরিবেশ তৈরি করার বিষয়ে জোর দেব, যেন শিক্ষার্থীরা স্বাভাবিক হয়ে আগের মতোই পড়াশোনায় ফিরতে পারে। কয়েক দিন ধরে ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিষ্কার–পরিচ্ছন্নতার দিকে বেশি নজর দেওয়া হয়েছে।

বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক তাহমিনা ইয়াসমিন বলেন, দীর্ঘ বিরতিতে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় যে ঘাটতি তৈরি হয়েছে, তা কাটিয়ে ওঠার জন্য বিশেষ পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। দুর্বল শিক্ষার্থীদের বিষয়ে বিশেষ জোর দেওয়ার পাশাপাশি থাকবে বাড়তি যত্ন।

উচ্ছ্বসিত ছিল শিক্ষার্থীরাও। বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির সুমাইয়া আক্তার বলল, ক্লাসে ফেরার প্রস্তুতি ছিল গত সপ্তাহ থেকেই। স্কুলব্যাগ, ইউনিফর্ম, পানির বোতল, কলমবক্সসহ আনুষঙ্গিক জিনিসপত্র খোঁজা, নতুন করে সংগ্রহ করা এসব নিয়েই ব্যস্ততা ছিল।

শিক্ষার্থী নদী দাস বলল, ‘অপেক্ষা ছিল শুধু গতকাল রাতের। আজ সকালে ঘুম থেকে উঠেই রেডি হয়ে স্কুলে চলে আসি।’

লক্ষ্মীবাজারের একরামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দেখা যায়, সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী স্কুলের ক্যাম্পাস ও শ্রেণিকক্ষ প্রস্তুত করা হয়েছে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার জন্য বসানো হয়েছে হাত ধোয়ার বেসিন, রাখা হয়েছে সাবানপানি। বিদ্যালয়ের ক্লাস শুরু সকাল সাড়ে নয়টায়। এর আগেই বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি, প্রধান শিক্ষক ও অন্য শিক্ষকেরা মিলে বিদ্যালয় আসা শিক্ষার্থীদের ফুল দিয়ে বরণ করে নেন। এর আগে তাদের স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করা হয়। ক্লাসের শুরুতেই শিক্ষকেরা শুভেচ্ছা বিনিময়ের সঙ্গে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার পরামর্শ দেন।

স্কুলের প্রধান শিক্ষক জাবেদ হাসান প্রথম আলোকে বলেন, ‘প্রথম দিন অনুযায়ী শিক্ষার্থীর সংখ্যা তুলনামূলক কম। সপ্তাহ গড়ালেই শিক্ষার্থীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে। করোনার সঙ্গে যেহেতু আমাদের চলতে হবে, তাই স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার জন্য সব আয়োজন এভাবেই পালন করা হবে।’

প্রথম দিনে স্কুলগুলোর সামনে উন্মুক্ত খাবার বিক্রেতাদের চোখে পড়েনি। স্কুল কর্তৃপক্ষ থেকেও শিক্ষার্থীদের বাড়ি থেকে পর্যাপ্ত খেয়ে আসতে বলা হয়েছে। নিজেদের সঙ্গে পানি নিয়ে আসার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

সকালে সূত্রাপুর থানার বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শনে এসেছিলেন সূত্রাপুর থানার সহকারী থানা শিক্ষা কর্মকর্তা জান্নাতুল ফেরদৌস। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘সূত্রাপুর থানার সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা হচ্ছে। আমাদের কঠোর নজরদারি রয়েছে। প্রতিটি শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের দূরত্ব নিশ্চিত করা হয়েছে।’

জান্নাতুল ফেরদৌস আরও বলেন, সকালে একরামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কিছু শিক্ষার্থীর শরীরের তাপমাত্রা বেশি থাকায় তাদের বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। অনলাইনে তাদের ক্লাস করতে বলা হয়। পাশাপাশি বিদ্যালয়ের শিক্ষকদেরও এই শিক্ষার্থীদের মানসিকভাবে সাহস জোগানোর জন্য বলা হয়। এ ছাড়া এখন পর্যন্ত কোনো সমস্যা হয়নি।

রাজধানী থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন