default-image

পুলিশ মহাপরিদর্শক বেনজীর আহমেদ বলেছেন, যেভাবে সরকারি চাকরিতে সব পেশার লোকজনকে নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে, সেভাবে পুলিশের নিয়োগ হলে যুগের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হবে না। পুলিশের জন্য পৃথক নিয়োগপদ্ধতি প্রবর্তন করা দরকার।

আজ সোমবার রাজারবাগে বাংলাদেশ পুলিশ মিলনায়তনে বাংলাদেশ পুলিশ উইমেন নেটওয়ার্ক (বিপিডব্লিউএন) আয়োজিত ‘জেন্ডার রেসপন্সিভ পুলিশিং: অ্যান অ্যাপ্রোচ অব বাংলাদেশ পুলিশ অ্যান্ড রোল অব বাংলাদেশ পুলিশ উইমেন নেটওয়ার্ক’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন বেনজীর আহমেদ।

বেনজীর আহমেদ বলেন, ‘আমরা রিক্রুটমেন্ট রুলস (নিয়োগবিধি) পরিবর্তন করার চেষ্টা করছি। মাসখানেকের মধ্যে কনস্টেবল থেকে ইন্সপেক্টর পর্যায়ে পরিবর্তনগুলো চূড়ান্ত হয়ে যাবে।’ তিনি আরও বলেন, পুলিশের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের নিয়োগবিধিতে পরিবর্তনেরও সুপারিশ করছেন তিনি। যেভাবে সরকারি চাকরিতে সব পেশার লোকজনকে নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে, সেভাবে পুলিশের নিয়োগ হলে যুগের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হবে না। পুলিশের জন্য পৃথক নিয়োগপদ্ধতি প্রবর্তন করা দরকার। অনুষ্ঠান শেষে ঠিক কী ধরনের পরিবর্তন পুলিশ চাইছে, জানতে চাইলে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে এ বিষয়ে পরে কথা বলবেন বলে জানান।

বিজ্ঞাপন

পুলিশে নারী সদস্যদের নিয়োগ প্রসঙ্গে আইজিপি বলেন, থানা পর্যায় পর্যন্ত নারী ও শিশুদের জন্য আলাদা ডেস্ক করা হয়েছে। এই ডেস্কগুলো পরিচালনার জন্য আরও নারী সদস্য প্রয়োজন। ২০১৫ সালের মধ্যে নারী পুলিশ পুরো বাহিনীর ১১ শতাংশে পৌঁছানোর লক্ষ্যমাত্রা ছিল, কিন্তু তা পূরণ হয়নি। তিনি অনুষ্ঠানে উপস্থিত বিসিএস উইমেন নেটওয়ার্কের মহাসচিব শায়লা ফারজানাকে স্কুল-কলেজে গিয়ে নারীদের পুলিশে যোগ দেওয়ায় উদ্বুদ্ধ করতে অনুরোধ করেন।

অনুষ্ঠানে বক্তারা জানান, এই মুহূর্তে বাংলাদেশ পুলিশে নারীর হার ৭ শতাংশ, সংখ্যায় ১৫ হাজারের কিছু বেশি।

ইউএন উইমেনের আবাসিক প্রতিনিধি শোকো ইশিকাওয়া ভার্চ্যুয়ালি অনুষ্ঠানে যোগ দেন। তিনি বলেন, জেন্ডার সংবেদনশীল আচরণ করার দায় শুধু নারী পুলিশের নয়। দায় পুলিশের সব সদস্যের। জাতিসংঘ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের পুলিশের সঙ্গে কাজ করছে। বাংলাদেশ পুলিশের সঙ্গে কাজ করতেও আগ্রহী তারা।

জাতিসংঘের উপ-আবাসিক প্রতিনিধি ভ্যান নুয়্যান পুলিশে নারী সদস্যদের সংখ্যা বাড়ানোর ওপর জোর দেন। পাশাপাশি তিনি বলেন, নানা উদ্যোগ সত্ত্বেও সাম্প্রতিক সময়ে নারী নির্যাতনের হার বাড়তে দেখা যাচ্ছে।

অনুষ্ঠানে বিসিএস উইমেন নেটওয়ার্কের মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব শায়লা ফারজানা বলেন, নারী যখন নির্যাতনের শিকার হন তখন বিভিন্ন পর্যায়ে তাঁর সহযোগিতার প্রয়োজন হয়। থানাগুলোকে নারীর কথা ধৈর্য ধরে শুনতে হবে। শারীরিক নির্যাতনের চিকিৎসা আছে, কিন্তু মানসিক ও পারিবারিক বিপর্যয়ের জায়গায় কাজের সুযোগ আছে। প্রত্যেক পুলিশকে জেন্ডার সংবেদনশীল হতে হবে। শুরুতেই সব পুরুষ পুলিশ হয়তো তা পারবেন না। সে ক্ষেত্রে নারী পুলিশদের দিয়ে কাজ শুরু করা যায়।

বিপিডব্লিউএনের সভাপতি ও পুলিশের বিশেষ শাখার উপমহাপরিদর্শক আমেনা বেগম বলেন, নারী পুলিশের জন্য বেশ কিছু চ্যালেঞ্জ আছে। যেমন উন্নত নারীবান্ধব কর্মপরিবেশ, পেশাদারি দক্ষতা অর্জন, আত্মবিশ্বাস, নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে নারী পুলিশের প্রতিনিধিত্ব, বাংলাদেশ পুলিশের জন্য জেন্ডার গাইডলাইন তৈরি ও সব পুলিশ সদস্যের জেন্ডার সংবেদনশীল হওয়া।

বিজ্ঞাপন
রাজধানী থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন