বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
default-image

গত বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে কামালবাগে ‘রোমানা রাবার’ নামের একটি জুতার কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে পাঁচজন মারা যান। শুক্রবার দুপুরে স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজের মর্গে গিয়ে দেখা যায়, কারখানার পাঁচ শ্রমিকের স্বজনেরা সেখানে অপেক্ষা করছেন। স্বজনদের দাবি অনুযায়ী, নিহত পাঁচজন হলেন বরিশালের আবদুর রহমান (৩৫), কিশোরগঞ্জের শামীম মিয়া (৩৪), মানিকগঞ্জের আমিনুর মিয়া (৩৫), কুমিল্লার মনির হোসেন (৩৪) এবং শেরপুরের কামরুল ইসলাম (২৩)। এ ঘটনায় আরও দুজন দগ্ধ হয়েছেন।

বিকেলে একটি লাশের আঙুলে আংটি দেখে সেটি তাঁর মামাতো ভাই কামরুলের বলে দাবি করেন দেলোয়ার হোসেন নামের এক ব্যক্তি। আবার ওই লাশের উঁচু দাঁত দেখে বিলকিস বেগম নামের এক নারী দাবি করেন, এটা তাঁর ভাই আমিনুরের লাশ। একটি লাশের ডান গাল ফোলা দেখে সেটিকে নিজের ভগ্নিপতি মনির হোসেনের বলে দাবি করেন মোহাম্মদ আলী নামের এক ব্যক্তি। পোশাক ও শরীরের গঠন দেখে এই লাশকেই আবদুর রহমান ও শামীমের বলে দাবি করেন স্বজনেরা। তবে তিনটি লাশের দাবিদার কেউ ছিলেন না।

চকবাজার থানার পরিদর্শক (তদন্ত) তাসলিমা আক্তার প্রথম আলোকে বলেন, লাশগুলো এমনভাবে পুড়েছে, দেখে চেনার উপায় নেই। তাই স্বজনদের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হবে। ডিএনএ নমুনা মিলিয়ে দেখার পর লাশ হস্তান্তর করা হবে।
আবদুর রহমানের স্বজন মো. জুয়েল বলেন, বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে মুঠোফোনে তাঁর সঙ্গে আবদুর রহমানের কথা হয়। দুই শিশুসন্তান নিয়ে তাঁর স্ত্রী শেফু আক্তার গ্রামের বাড়িতে থাকেন। তিনি ১০ বছর ধরে এই কারখানায় কাজ করেন। থাকতেন কারখানার ভেতরেই।

ওই কারখানা লাগোয়া গনি মিয়ার হাট নামে একটি কাঁচাবাজারেও আগুন ছড়ায়। ফায়ার সার্ভিসের আটটি ইউনিট রাত তিনটার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। ভোরে নিচতলার একটি কক্ষ থেকে পাঁচজনের লাশ উদ্ধার করা হয়। প্রায় ১২ বছর আগে হাজি রফিক নামের এক ব্যক্তি জমি লিজ নিয়ে কারখানাটি তৈরি করেন। ঘটনার পর থেকে তাঁর খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না।
কারখানাটি ছিল ঝুঁকিপূর্ণ

default-image

ফায়ার সার্ভিস বলছে, ‘রোমানা রাবার’ কারখানাটি খুবই ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় ছিল। দোতলা এই কারখানা কোনো নিয়ম মেনে তৈরি হয়নি। কারখানায় বাইরের দিকে ইটের দেয়াল থাকলেও ভেতরের ছোট ছোট কক্ষে ছিল টিনের দেয়াল। কারখানাটি দোতলা হলেও একতলার ছাদের নিচে পাটাতন দিয়ে শ্রমিকদের থাকার জন্য খোপ তৈরি করা হয়েছিল। ধারণা করা হচ্ছে, পাটাতনের ওপর ওই পাঁচজন ঘুমিয়ে ছিলেন। পরে পাটাতন পুড়ে লাশগুলো নিচে পড়ে যায়।

ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক হাফিজুর রহমান বলেন, পুরো কারখানা রাবারে ঠাসা ছিল। তা ছাড়া জুতা তৈরির জন্য ভেতরে বিপুল পরিমাণে রাসায়নিক ছিল। আগুনের সূত্রপাতের বিষয়ে নিশ্চিত হতে অনুসন্ধান চলছে।

এর আগে চলতি বছরের ২২ এপ্রিল পুরান ঢাকার আরমানিটোলায় একটি আবাসিক ভবনের (হাজি মুসা ম্যানশন) নিচতলায় রাসায়নিক গুদামে আগুন লেগে চারজনের মৃত্যু হয়। তার আগে ২০১৯ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি রাতে চকবাজারের চুড়িহাট্টা এলাকায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ৭০ জনের মৃত্যু হয়। ২০১০ সালের ৩ জুন পুরান ঢাকার নিমতলীতে রাসায়নিক গুদামে আগুন লেগে ১২৪ জনের মৃত্যু হয়।

পুরান ঢাকায় বারবার কেন এমন অগ্নিকাণ্ড ঘটছে, এমন প্রশ্নের জবাবে ফায়ার সার্ভিসের সাবেক মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আলী আহমেদ খান প্রথম আলোকে বলেন, পুরান ঢাকায় কারখানাগুলো খুবই অপরিকল্পিতভাবে গড়ে উঠেছে। এসব কারখানার বিষয়ে আলাদা দৃষ্টি দেওয়া দরকার। এ ক্ষেত্রে সিটি করপোরেশন দায়িত্ব নিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ কারখানা চিহ্নিত করতে পারে। প্রয়োজন হলে কারখানা বন্ধ করে দিতে পারে।

রাজধানী থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন