default-image

পেশাগত অসদাচরণের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় হাইকোর্ট বিভাগের বেঞ্চ কর্মকর্তা মু. মুর্শেদুল হাসানকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের আদেশে আজ রোববার তাঁকে বরখাস্ত করা হয়।

এদিকে শৃঙ্খলা না মেনে হাইকোর্ট বিভাগের এফিডেভিট শাখায় অবস্থান করেছেন আইনজীবী ক্লার্কসহ ৪৩ ব্যক্তি। আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি মোহাম্মদ ইমান আলীর নেতৃত্বে আজ রোববার সুপ্রিম কোর্টের বর্ধিত ভবনে অবস্থিত সংশ্লিষ্ট ওই শাখা পরিদর্শনে এমন চিত্র পাওয়া গেছে।

বিজ্ঞাপন

সুপ্রিম কোর্টের মুখপাত্রের পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, দুপুর ১২টার দিকে পরিদর্শনকালে বিচারপতি মোহাম্মদ ইমান আলী এফিডেভিট শাখায় অধিক জনসমাগম দেখতে পান এবং ৪৩ জনকে শনাক্ত করেন। এই ব্যক্তিরা এফিডেভিট শাখায় তাঁদের অবস্থানের স্বপক্ষে কোনো ব্যাখ্যা দিতে পারেননি। পরবর্তী সময়ে জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, তাঁদের মধ্যে ৩৫ জন আইনজীবী ক্লার্ক, আটজন বহিরাগত ব্যক্তি, যাঁরা আইনজীবী ক্লার্কদের সহায়তায় এফিডেভিট শাখায় প্রবেশ করেন। এই ৪৩ ব্যক্তিকে মৌখিকভাবে সতর্ক করা হয়। তাঁরা এ মর্মে মুচলেকা দেন যে তারা এভিডেভিট শাখায় ভবিষ্যতে কোনো শৃঙ্খলা ভঙ্গ করবেন না। এফিডেভিট শাখার কর্মকর্তা–কর্মচারীদের সতর্ক করা হয়।

পরিদর্শনকালে সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল মো. আলী আকবর, হাইকোর্ট বিভাগের রেজিস্ট্রার মো. গোলাম রব্বানী ও স্পেশাল কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাইফুর রহমানসহ অন্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, শৃঙ্খলা না মেনে অবস্থানকারীদের শাখার একটি স্থানে দাঁড়িয়ে থাকতে বলা হয়। পরবর্তী সময়ে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সম্পাদক রুহুল কুদ্দুস, সহম্পাদক মো. বাকির উদ্দিন ভূইয়া ও সদস্য মোহাম্মদ মশিউর রহমানসহ সমিতি সদস্যরা ঘটনাস্থলে যান।

পরে মশিউর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, ৪৩ জন ভবিষ্যতে শৃঙ্খলাবিরোধী কোনো কাজ করবেন না মর্মে সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসনকে আশ্বস্ত করে সমিতি। পরে ৪৩ জনকে স্থান ত্যাগ করতে বলা হয়।

এর আগে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির নেতাদের সঙ্গে প্রধান বিচারপতি ও আপিল বিভাগের বিচারপতিদের মতবিনিময় সভা হয়। সভায় সমিতির নেতারা আদালতের কর্মকর্তা–কর্মচারীদের অনিয়মের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। সেদিন আইনজীবী নেতাদের উদ্দেশে প্রধান বিচারপতি বলেন, ঢালাওভাবে না বলে, অনিয়মের অভিযোগ থাকলে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ দিন।

বিজ্ঞাপন

সুপ্রিম কোর্টের মুখপাত্র মোহাম্মদ সাইফুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, আইনজীবী সমিতির আনা বিভিন্ন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন রোববার আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি মোহাম্মদ ইমান আলীকে এফিডেভিট শাখার বিভিন্ন সমস্যা চিহ্নিত করতে পরিদর্শনের নির্দেশ দেন। তার পরিপ্রেক্ষিতে তিনি ওই শাখা পরিদর্শনে যান। এফিডেভিট শাখায় বহিরাগতসহ ৪৩ জনকে পাওয়া যায়, যাঁরা কোনো শৃঙ্খলা মেনে ঢোকেননি। তাঁদের সেখানে প্রবেশের কোনো কারণ নেই। নিয়ম হচ্ছে যার কাজ তার নাম মেশিনে ডাকা হবে, তখন সে ঢুকবে। তাই তাঁদের নাম লিখে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছিল। তখন সমিতির নেতারা আসেন। তাঁরাও জিজ্ঞাসাবাদ করেন। এভিডেভিট শাখায় ভবিষ্যতে কোনো শৃঙ্খলা ভঙ্গ করবেন না বলে তাঁরা মুচলেকা দেন। আইনজীবী নেতাদের উপস্থিতিতে তাঁদের স্থান ত্যাগ করতে বলা হয়। জ্যেষ্ঠ বিচারপতি মোহাম্মদ ইমান আলী পরিদর্শন কার্যক্রমের বিষয়ে প্রধান বিচারপতির বরাবরে প্রতিবেদন উপস্থাপন করবেন।

একজন বেঞ্চ কর্মকর্তাকে বরখাস্ত

পেশাগত অসদাচরণের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় হাইকোর্ট বিভাগের বেঞ্চ কর্মকর্তা মু. মুর্শেদুল হাসানকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের আদেশে আজ রোববার তাঁকে বরখাস্ত করা হয়।

সুপ্রিম কোর্টের একটি সূত্র বলছে, মু. মুর্শেদুল হাসান দীর্ঘদিন ধরে কর্মস্থলে অনুপস্থিতি। সে কারণে তাঁর বিরুদ্ধে পেশাগত অসদাচরণের অভিযোগ আনা হয়।

হাইকোর্ট বিভাগের রেজিস্ট্রার মো. গোলাম রব্বানী স্বাক্ষরিত এ–সংক্রান্ত এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মু. মুর্শেদুল হাসানের বিরুদ্ধে করা বিভাগীয় মামলায় (০৯/২০১৮ নং) আনা অসদাচরণের অভিযোগ তদন্তে প্রমাণিত হওয়ায় দেশের প্রধান বিচারপতির আদেশে দ্য সুপ্রিম কোর্ট অব বাংলাদেশ হাইকোর্ট ডিভিশন এমপ্লয়িজ (ডিসিপ্লিন অ্যান্ড আপিল) রুলস ১৯৮৩–এর ৪(১) (জি) বিধিমতে তাঁকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হলো। এ আদেশ রোববার থেকে কার্যকর হবে।

রাজধানী থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন