default-image

করোনার টিকা নেওয়ার পর কোভিডে আক্রান্ত হলেও ব্যাপক হারে মৃত্যু ঠেকানো যাবে। সাধারণ মানুষের কাছে এই তথ্য পৌঁছানো যায়নি। উল্টো সামান্য যেসব পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া আছে, সেসব তথ্য ছড়িয়েছে বেশি।

আজ শুক্রবার রাতে বাংলাদেশ হেলথ ইকোনমিস্ট ফোরাম আয়োজিত এক ওয়েবিনারে অংশ নিয়ে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরা এই মতামত দেন।

বিশেষজ্ঞরা বলেন, বিভ্রান্তিকর তথ্য বেশি ছড়িয়ে পড়ায় বেশিসংখ্যক মানুষকে টিকা নিতে আগ্রহী করা যায়নি। সরকারের প্রচারের ব্যর্থতা রয়েছে এখানে। টিকা দেওয়া কর্মসূচি নিয়ে ব্যাপক হারে প্রচারে সরকারের বাজেট কেটে ফেলার সিদ্ধান্ত সঠিক হয়নি। তাঁরা মনে করেন, বসন্তের টিকার মতো এলাকা ধরে টিকা নেওয়া বাধ্যতামূলক করার জন্য সরকারের এখন পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।

অনুষ্ঠানে বলা হয়, দেশে ৭০ লাখ ডোজ টিকা মজুত থাকলেও টিকা নেওয়ার জন্য নিবন্ধন করেছেন ২ লাখের কম মানুষ। টিকা নিয়ে জনমনে দ্বিধা দূর করা যায়নি। অনুষ্ঠানে দুটি জরিপের তথ্য তুলে ধরে বলা হয়, ২৪ শতাংশ মানুষ টিকাকে নিরাপদ মনে করছেন না। ২১ শতাংশ মনে করেন পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া আছে। ১৪ শতাংশ মনে করেন কোভিড–১৯ তাঁদের স্বাস্থ্যের জন্য তত বিপজ্জনক নয়। এ ছাড়া অপর জরিপে দেখা গেছে, ৮৪ শতাংশ মানুষ টিকা নিতে চান। এর মধ্যে ৩২ শতাংশ এখন নিতে চান। বাকিরা অন্যদের দেখে বুঝেশুনে পরে নিতে চান।

ওয়েবিনারে প্যানেল আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক নজরুল ইসলাম। বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ইতিমধ্যে যাঁরা কোভিডে আক্রান্ত হয়েছেন বা যাঁদের অ্যান্টিবডি তৈরি হয়েছে, তাঁরা টিকা নিলে উপকারই পাবেন। ক্ষতি হবে না। তিনি বলেন, ব্যাপক হারে জনগণের টিকা নেওয়ার কর্মসূচির ক্ষেত্রে অ্যান্টিবডি পরীক্ষা আলাদাভাবে করার কোনো প্রয়োজন নেই। তবে নমুনা হিসেবে এমন ২০০ জনের ওপর টিকার কার্যকারিতা কেমন, তা দেখা যেতে পারে। তাতে পরবর্তী গবেষণায় কাজে লাগবে।

বিজ্ঞাপন

অধ্যাপক নজরুল ইসলাম আরও বলেন, ক্যানসার রোগী যাঁরা সুস্থ হয়ে এখন ফলোআপ চিকিৎসায় আছেন, তাঁরা টিকা নিতে পারবেন। ১৮ বছরের কম বয়সীদের ওপর টিকার প্রভাব নিয়ে এখনো জানা যায়নি বলে তাঁদের টিকা দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে অপেক্ষা করতে হবে।

আয়োজক ফোরামের সভাপতি অধ্যাপক সৈয়দ আবদুল হামিদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে টিকা নিয়ে বিস্তারিত প্রতিবেদন তুলে ধরেন মুগদা মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ও মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক আহমেদুল কবির। ফোরামের সাধারণ সম্পাদক সাদরুল আলমের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন বিএসএমএমইউর সাবেক রেজিস্ট্রার ও ফার্মাকোলজি বিভাগের অধ্যাপক সায়েদুর রহমান, জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটির চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ, অধ্যাপক আবদুল মজিদ, অধ্যাপক গোলাম মহিউদ্দিন ফারুক, অধ্যাপক এমরান বিন ইউসুফ, অধ্যাপক নাজমুন নাহার, অধ্যাপক সাঈদ সিদ্দিকী, অধ্যাপক মোহাম্মদ আবুল ফয়েজ, অধ্যাপক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আমিনুল ইসলাম, আবদুল হাকিম মজুমদার, শাহিদা আখতার প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে বিএসএমএমইউর সাবেক রেজিস্ট্রার সায়েদুর রহমান বলেন, ২০টি দেশেও ৭০ লাখ ডোজের মতো এত বিপুলসংখ্যক টিকা মজুত নেই। এত মজুত থাকার পরও টিকা নিতে লোকজনকে আগ্রহী করা যাচ্ছে না কেন, তা নিয়ে ভাবার দরকার রয়েছে। অথচ টিকা নেওয়ার উপযুক্ত লোক কোটির ওপর। তিনি বলেন, ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউটের সুনাম নিয়েও মানুষের মধ্যে প্রচার চালানো হয়নি। টিকা নিলে অন্তত কোভিডে আক্রান্ত হলেও মৃত্যু হবে না—সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এই বার্তাটি সরকার সাধারণ মানুষকে বোঝাতে ব্যর্থ হয়েছে। গা ব্যথা, সামান্য জ্বর, বমি বমি ভাবের মতো যেসব পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে কারও কারও, তা যেকোনো টিকা নেওয়ার ক্ষেত্রেই হয়।

জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটির চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ বলেন, টিকা নিলেও স্বাস্থ্যবিধি পুরোপুরি মেনে চলতে হবে। এ ব্যাপারেও সচেতনতা বাড়াতে হবে।

রাজধানী থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন