default-image

রাজধানীর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) নিবন্ধিত ব্যক্তিদের অর্ধেকও টিকা নিতে আসেননি।

রেজিস্ট্রেশনের পর হাসপাতালটিতে আজ রোববার টিকা গ্রহণের তারিখ দেওয়া হয় ১ হাজার ২০০ জনকে। তাঁরা সবাই ভিআইপি ও সম্মুখসারির যোদ্ধা। তবে তাঁদের মধ্য থেকে টিকা নিতে এসেছেন ৫৬০ জন।

বিএসএমএমইউর পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জুলফিকার আহমেদ আমিন প্রথম আলোকে বলেন, জাতীয় পর্যায়ে করোনাভাইরাসের টিকাদান কার্যক্রমের প্রথম দিন ছিল আজ। প্রথম দিন বিএসএমএমইউতে টিকা নিয়েছেন ৫৬০ জন।

বিজ্ঞাপন

সারা দেশের সরকারি-বেসরকারি এক হাজার পাঁচটি হাসপাতালে আজ সকাল নয়টা থেকে বেলা তিনটা পর্যন্ত করোনার টিকা দেওয়া হয়।

রাজধানী ঢাকায় ৪৩টি হাসপাতালে টিকাদান কার্যক্রম চলে। এর মধ্যে একটি বিএসএমএমইউ। টিকা প্রদানের জন্য এই হাসপাতালে ৮টি বুথ স্থাপন করা হয়। আজ মূলত ভিআইপি ও করোনার সম্মুখসারির যোদ্ধারা টিকা নিতে এসেছেন।

ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জুলফিকার আহমেদ আমিন বলেন, এই হাসপাতালে টিকা নিতে আসা বেশির ভাগই ছিলেন হাসপাতালটির ডাক্তার ও কর্মকর্তা। তিনি বলেন, মোট ৫৬ জন বিচারপতি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০ জন এবং রাষ্ট্রপতির কার্যালয় থেকে ১৫ জনকে আজ টিকা দেওয়ার জন্য নির্বাচন করা হয়েছিল।

টিকা গ্রহণ শেষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মো. আখতারুজ্জামান সাংবাদিকদের বলেন, ‘এটি একটি বড় অর্জন। আমাদের সবার প্রতি আহ্বান থাকবে কোনো গুজব বা সংশয় না রেখে, বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করে, স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে ভ্যাকসিন কার্যক্রমে আমরা যেন অংশগ্রহণ করি। মনে রাখতে হবে, একজন মানুষও যদি আক্রান্ত হন, তাহলে পুরো সমাজই কিন্তু ব্যথিত হয়। কোনো মানুষকে আক্রান্ত রেখে, কোনো মানুষই ভালো থাকতে পারবে না।’

বিশ্ববিদ্যালয়টির সহ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক মুহাম্মদ সামাদ বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষ ভ্যাকসিন পাচ্ছে। একটি আনন্দঘন পরিবেশে সবাই আগ্রহ নিয়ে ভ্যাকসিন গ্রহণ করছে। কাজেই আমার খুবই ভালো লাগছে।’

সরকারের কাছে ৭০ লাখ টিকা আছে। এর ২০ লাখ টিকা ভারত সরকার বাংলাদেশকে উপহার হিসেবে দিয়েছে। বাকি ৫০ লাখ টিকা সরকার ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউটের কাছ থেকে কিনেছে। এই টিকা ৩৫ লাখ মানুষকে দেওয়া হবে।

বিজ্ঞাপন

বিএসএমএমইউতে টিকা নেওয়ার পর একজন বিচারপতি প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমার অভিজ্ঞতা সাধারণ অভিজ্ঞতাই। একটা ইনজেকশন পুশ করতে যতটুকু ব্যথা লাগে, ততটুকুই।’

বিএসএমএমইউর গ্র্যাজুয়েট নার্সিং বিভাগের চেয়ারপারসন মেবেল ডি রোজারিও বলেন, ‘আমি বঙ্গবন্ধু মেডিকেলে কাজ করি। আমার সহকর্মীরা টিকা নিয়েছেন। তাঁরা সুস্থ আছেন। কোনো সমস্যা হয়নি। তাঁদের দেখে আমি নিজে উদ্বুদ্ধ হয়েছি। আমার সাহসও বেড়েছে। আমার কোনো ভয় কাজ করছে না এখন।’

টিকা দেওয়ার পর টিকা গ্রহণকারী ব্যক্তিকে টিকাদান-পরবর্তী কক্ষে (পোস্ট ভ্যাকসিনেশন রুম) নেওয়া হয়। সেখানে নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত টিকা গ্রহণকারী ব্যক্তিকে পর্যবেক্ষণ করা হয়।

বিএসএমএমইউতে পোস্ট ভ্যাকসিনেশন ম্যানেজমেন্ট নামে একটি সেন্টার খোলা হয়েছে। মূলত, টিকা নেওয়ার পর টিকা গ্রহণকারীর কোনো সমস্যা হলে তা ব্যবস্থাপনার জন্য এই সেন্টার খোলা হয়েছে।

টিকা দেওয়ার আগে সবার নিবন্ধন পরীক্ষা করে দেখা হয়। তাঁদের একটি নির্ধারিত স্থানে বসতে বলা হয়।

টিকা কার্যক্রমের প্রথম দিন ৩ লাখ ৬০ হাজার মানুষকে টিকা দেওয়ার প্রস্তুতি নিয়ে রাখে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। তবে নিবন্ধন হয়েছে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে কম। গতকাল শনিবার পর্যন্ত টিকার জন্য নিবন্ধন করেন ৩ লাখ ৪৮ হাজার জন।

দেশব্যাপী সুষ্ঠুভাবে করোনার টিকা বিতরণ ও প্রয়োগের জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তর একটি জাতীয় পরিকল্পনা করেছে। টিকাদানকর্মীদের জন্য প্রশিক্ষণ নির্দেশিকা তৈরি করেছে। কেন্দ্রীয়ভাবে ও জেলায় জেলায় স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, করোনা মহামারি মোকাবিলায় স্থায়ী সমাধান এনে দিতে পারে টিকা। প্রতিবেশী দেশ ভারতসহ বিশ্বের বেশ কিছু দেশে ব্যাপকভাবে টিকাদান শুরু হয়েছে। আজ বাংলাদেশেও ব্যাপকভাবে টিকাদান শুরু হয়েছে।

রাজধানী থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন